সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি বেশি অন্যদিকে শ্রমিক সংকট। পাকা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আসান প্রামাণিক নামের এক বৃদ্ধ কৃষক। অসহায় এ কৃষকের বিষয়টি শোনার পর স্বেচ্ছায় পাকা ধান কেটে দিয়েছেন স্থানীয় আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা।
বুধবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার রসুলপুর পশ্চিমপাড়া ফসলি মাঠে সহকারি ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার সবুজ মিয়ার নেতৃত্বে ১২-১৫ জন আনসার ভিডিপির সদস্যদের নিয়ে কৃষক আসান প্রামাণিকের ধান কেটে দেয়া হয়। কৃষক আসান প্রামাণিক উপজেলার রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা।
রায়দৌলপুর ইউনিয়নের সহকারি ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার সবুজ মিয়া বলেন, বর্তমানে একজন শ্রমিকের মূল্য ৫০০ টাকা ও এক বেলা খাওয়া। এরপরও ধান কাটার জন্য ঠিক মতো শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। আসান প্রামাণিক একজন অসহায় কৃষক তিনি অন্যের জমি নিয়ে চাষাবাদ করেন। শ্রমিকের যে মজুরি তাতে আসান প্রামাণিকের জন্য কষ্টকর এজন্য আমার নেতৃত্বে আনসার ভিডিপির সদস্যদের দিয়ে তার পাকা ধান কেটে দিয়েছি, এরপর মাড়াই করে দিবো।
সত্তোরোর্ধ্ব কৃষক আসান প্রামাণিক বলেন, ৬০ শতাংশ জমির ধান পেকে গেছে। আমি কামলা (শ্রমিক) পাইনি। আনসার কমান্ডার সজুজ মিয়াকে বলার পর তারা আমার ধান বিনা পারিশ্রমিকে কেটে দিয়েছেন। আমি অত্যন্ত খুশি।
বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির উপজেলা প্রশিক্ষক নবিরুল ইসলাম বলেন, এটা আমাদের জন্য অনেক গর্বের।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন চন্দ্র বর্মন বলেন, উপজেলাতে ৫ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের আবাদ হয়েছে। তিনটি হারভেস্টার মেশিনের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা হচ্ছে। শ্রমিক সংকট নেই। আনসার সদস্যরা স্বেচ্ছায় কৃষকের ধান কেটে দেওয়ার বিষয়টি প্রশংসনীয়।
সময়ের আলো/জেডআই