গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) নবাগত কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান বলেছেন, পুলিশের ওপর থেকে আস্থা উঠে গিয়েছিল, পুলিশ দানবে পরিণত হয়েছিল। সরকারের আশকারায় এমন দানবে পরিণত হয়েছিল পুলিশ বলে বেড়াত আমরা সরকার বানাই, এমপি বানাই, মন্ত্রী বানাই। সেই পুলিশ কি টিকতে পেরেছে? পারেনি। তাই এ দাম্ভিকতা ঠিক না। যার কাজ যেটি তাকে সেটিই করতে দেয়া উচিত। সেই দানব পুলিশ কিন্তু আজ অসহায় পুলিশ হয়ে গেছে। সমাজ এখন খুব ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। কারণ পুলিশ এখন মৃত। আবার পুলিশকে সাহস জোগাতে হবে। যে সাহসী পুলিশ শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আসামির বিরুদ্ধে লড়াই করবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) সকালে গাজীপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জিএমপির নবাগত কমিশনার বলেন, আমাদের পুলিশের বিরুদ্ধে একটি জিনিস সব সময় বলে দুষ্টের দমন শিষ্টের সেবক। আমরা গত কয়েক বছর দুষ্টের দমনও করিনি আর শিষ্টের সেবনও করিনি। গায়েবি মামলা দিয়েছি। গুম, খুন করেছি এবং মানুষকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছি। এটি থেকে বেরিয়ে এসে যারা ক্রাইম করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলে, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায়ে সাংবাদিকরা মত প্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছে। সত্য প্রকাশ করবেন, আমাদের দোষ ত্রুটি তুলে ধরবেন। তবে অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে কিছু লিখবেন না।
গত ১১ নভেম্বর টিএনজেড গ্রুপের ৫টি কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় ওই কারখানার শ্রমিক ছাড়া অতিরিক্ত কারা ছিল তা খুঁজে বের করবে পুলিশ বলে জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জাহিদুল হাসান, রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার আকবর আলী মুনসি, নাজির আহমেদ খান, আলমগীর হোসেন, আবু তোরাব মো. সামসুর রহমান, মো. ইব্রাহিম খান, গাজীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান টিটু, সাধারণ সম্পাদক শাহ সামসুল হক রিপন, সাংবাদিক ইউনিয়ন গাজীপুরের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাবেক সভাপতি মুকুল কুমার মল্লিক, মুজিবুর রহমান, খায়রুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আমিনুল ইসলাম, রেজাউল বারী বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/আরআই