লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার-দৌলতখান (ভোলা) নৌরুটে চলাচলকারী পৃথক লঞ্চ দু’টির সময়সূচি নিয়ে যাত্রী ওঠানামায় বিরোধের জেরে দুপক্ষে সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অনুমোদিত রুট পারমিট ও সময়সূচি লঙ্ঘন করে এম এল ফারজানা এন্ড সানজিদা-৫ নামের লঞ্চটির লোকজনের বাধার মুখে এমভি সজল এক্সপ্রেস-৩ তার নির্ধারিত সময়ের যাত্রী নিতে পারছেনা। এতে যাত্রীদের টেনেহিঁচড়ে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ঘাট এলাকার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সরেজমিন এ চিত্র লক্ষ করা গেছে।
জানা যায়, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ-নিরাপত্তা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ আলেকজান্ডার-দৌলতখান নৌরুটের জন্য রুট পারমিটসহ সময়সূচি অনুমোদন দেয়। অনুমোদিত সময়সূচিতে সকাল ৬টা ও দুপুর সাড়ে ১২টায় এমভি সজল এক্সপ্রেসকে এবং ৬টা ২০ মিনিটে ও দুপুর দেড়টায় এমএল ফারজানাকে আলেকজান্ডার ঘাট থেকে যাত্রী পারাপারের নিমিত্তে পত্র জারি করা হয়। কিন্তু আদেশ অমান্য করে এমএল ফারজানার পক্ষে সংঘবদ্ধ লোকজন নিয়ে ঘাট দখলে নিয়ে যাত্রীদের জিম্মি করে রাখে।
এমভি সজল এক্সপ্রেসের মালিক গোলাম মওলা আতাহার অভিযোগ করে জানান, গত ১১ নভেম্বর স্বাক্ষরিত বিআইডব্লিউটি কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে এমএল ফারজানার পক্ষে আলেকজান্ডারের বাসিন্দা শাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে আলম, মিলন, বাবুল, মনির গং আলেকজান্ডার ঘাটে তার লঞ্চে যাত্রী ওঠানামায় বাধা সৃষ্টি করছে। গত বুধবার থেকে তার নির্ধারিত সময়ের যাত্রীদের আটকে রাখার কারণে প্রায় যাত্রীশূন্য ট্রিপ দিতে হয়েছে তার লঞ্চ এমভি সজলকে। এছাড়া তার লঞ্চ স্টাফদের অশালীন গালমন্দ ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে এমএল ফারজানার মালিক পক্ষের আত্মীয় পরিচয়ে পরিচালনাকারী শাহাব উদ্দিন জানান, গত ২৬ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত লঞ্চ মালিকদ্বয়ের মধ্যে সম্পাদিত রোটেশন চুক্তি অমান্য করে এমভি সজল এক্সপ্রেস রুটে চলাচল করছে। তার নেতৃত্বে বাধা প্রদানের অভিযোগ সত্য নয়।
উল্লেখ্য, এ রুটে যাত্রীসাধারণের চলাচল সহজ ও নির্বিঘ্ন করতে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান নিজ অর্থায়নে টোলের রাজস্ব পরিশোধ করে দেন। কিন্তু লঞ্চ মালিকদের অব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট দফতরের উদাসীনতার কারণে এ রুটে যেকোনো সময় বিরোধ ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত-সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
রামগতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
সময়ের আলো/আরআই