জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম বলেছেন, খুনি হাসিনা এবং তার দোসররা সবদিক দিয়ে চেষ্টা করছে আমরা যেন সফল না হই। কোনোভাবে যদি আমরা ব্যর্থ হই কারও অস্তিত্ব খুনি হাসিনা রাখবে না।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টে এম অনেক শহীদ পরিবার রয়েছে যাদের দাফন করতে দেয়া হয় নাই, তাদের বাড়িতে থাকতে দেয়া হয় নাই। তাদের হয়রানি করা হয়েছে। এখন যদি খুনি হাসিনা আসে এখনই একই কাজ করবে তারা। সেই জায়গা থেকে আমাদের দায়িত্ব, যে স্বপ্ন নিয়ে যে স্পিরিট নিয়ে অভ্যুত্থান হয়েছে তাকে রক্ষা করা।
শনিবার (৩০ নভেম্বর) সকালে নগরীর টাউন হল অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগে ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের সময় শহীদ ৫৫ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, আমরা আমাদের জায়গা থেকে সরকারের যেমন গঠনমূলক সমালোচনা করবো, একইভাবে আমরা প্রশাসন থেকে শুরু করে সার্বিকভাবে মিলিয়ে তাদের কাজে সহযোগিতা করবো। পুলিশ প্রশাসন, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করে তিনি বলেন, যারা এই অভ্যুত্থানে রক্তাক্ত হত্যাযজ্ঞের সাথে জড়িত ছিল, যাদের ভিডিও ফুটেজ, ছবি ক্লিয়ার ডকুমেন্ট রয়েছে সে যেই পরিচয়েরই হোক না কেন তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমরা যদি মনে করি সে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের নেতা, সে পুলিশের সদস্য ছিল, সে সরাসরি হত্যাযজ্ঞের সাথে জড়িত, আমার ছবি আছে, ডকুমেন্ট আছে, ভিডিও ফুটেজ আছে তারপরেও কিছু করাটা রিস্কি তাহলে আমরা মনে করি আপনারা আমাদের এই অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণ করেন না, আপনি তাহলে এই দায়িত্ব ছেড়ে অন্য জায়গায় যেতে পারেন। এটা শুধু আমাদের নয়, এখন যারা প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করছে এটা তাদের অস্তিত্বের সাথে সম্পৃক্ত।
এসময় তিনি বিনয়ের সাথে অনুরোধ করে বলেন, যাদের বিরুদ্ধে ডকুমেন্টস আছে তাদের বিচারিক প্রক্রিয়া যেন বিন্দুমাত্র দয়া দেখানো না হয়। এটা যদি করা হয় বা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যদি করা শুরু করে তাহলে একসময় দেখা যাবে কোন বিচারই হচ্ছে না এবং মিশরে যেটা হয়েছিল যে অসংখ্য স্বপ্ন দেখানোর পরে সরকার আসলো এরপর একবছর পরে সে সরকার আর টিকল না। নতুন করে সামরিক শাসনের কাছে গেল, দেশি-বিদেশি চক্রান্ত শুরু হলো। আমাদের কঠোর ব্যবস্থা প্রত্যেকের জায়গা থেকে পূরণ করতে হবে। বর্তমানে সে কনস্টেবল তাকে তার দায়িত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যিনি বিভাগীয় কমিশনার তাকেও তার দায়িত্ব থেকে পুরো দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই সমন্বয়ক বলেন, আমাদের মাধ্যমেও যেন কেউ অন্যায়-অবিচারের শিকার না হয় তাহলে এই ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জায়গাটা ধীরে ধীরে বৃহৎ হবে। দিনশেষে যে স্বপ্ন নিয়ে এত রক্ত দেয়া, জীবন দেয়া সেটা পূরণ হবে না। কালো শকুনদের যে খারাপ নজর, যে চক্রান্ত সেটা শেষ হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা যদি বেঁচে থাকি আমরা কোন শহীদ পরিবার বা আহত যোদ্ধার গাঁয়ে একটা আঁচর পর্যন্ত লাগতে দেবনা। আমরা যদি বেঁচে থাকি কোন শহীদ পরিবার বা আহত কোন ভাই দুর্দশাগ্রস্ত জীবন তাদের অতিবাহিত হতে হবে না।
‘আহতদের তালিকা করে আর্থিক সহযোগিতা চালিয়ে যাচ্ছি। শুধুমাত্র আর্থিক সহযোগিতা নয় শহীদ পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হবে।’
ইসকন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সারজিস বলেন, ইসকনের কিছু উগ্রবাদী জঙ্গিরা যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষকে জবাই করে বিভীষিকাময় কোনো ঘটনা হতে পারে না। সাম্প্রদায়িক যে সম্প্রীতি রয়েছে তা বাংলাদেশে থাকবে। যে কোনো ধর্মাবলম্বী হতে পারে তারা আমাদের ভাই। কিন্তু ধর্মকে ব্যবহার করে যদি যে কোন ধরনের উগ্র সাম্প্রদায়িক কার্যকলাপে লিপ্ত হয়, সেটা ইসকনের মতো কোন উগ্রবাদী সংগঠন হোক বা অন্য যেকোনো ধর্মের সংগঠন হোক এর বিরুদ্ধে আমাদের আমাদের অবস্থান সোচ্চার থাকবে। আমরা চাই, উগ্রবাদী যে সংগঠন রয়েছে, যারা ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষের মাঝে সাম্প্রদায়িক সংঘাত ঘটাতে চায় এবং দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চায় সে সকল উগ্রবাদী সংগঠনকে যেন নিষিদ্ধ করা হয় এই দাবি আমাদের সংগঠন থেকে জানিয়ে দিতে চাই।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ জানান, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ময়মনসিংহ বিভাগের ৯৩ জন নিহতের পরিবারের মধ্যে কাগজ-পত্র ঠিক থাকায় ৫৫টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকের পরিবারকে ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়। বাকিদের পর্যায়ক্রমে সহযোগিতা দেয়া হবে। তারা সব কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। এজন্য এখন না দিলেও তারা আর্থিক সহায়তা পাবেন।
এসময় ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ, ময়মনসিংহের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত ডিআইজি মো. শরিফুর রহমান, জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন, সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ড. তুবাইল জান্নাত শহীদ আহনাফের মা জারতাস পারভীন বক্তব্য রাখেন।
সময়ের আলো/আরআই