পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল করায় আঞ্চলিক মহাসড়কটির বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় গর্ত। কিছু স্থানে আবার উঠে গেছে রোড কার্পেটিং। ফলে রাস্তায় প্রায়ই বিকল হচ্ছে পণ্যবাহী ট্রাক। নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ।
ভোলার চেয়ারম্যান-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের দৃশ্য এটি। চরফ্যাশনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ঘাট সামরাজ মাছঘাট ছাড়াও ছোট-বড় ১০টির মতো ঘাট রয়েছে। এ অঞ্চলের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে এই সড়ক। অথচ সংস্কারের অভাবে খানাখন্দ বেড়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে সড়কটি। এতে ঝুঁঁকি নিয়ে চলাচল করছে আশপাশের ২০ গ্রামের মানুষ। এসব খানাখন্দের কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। দ্রুততম সময়ে এ সড়কটি সংস্কারের দাবি ঘাটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চরফ্যাশনে রয়েছে দেশের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ সামরাজ মাছ ঘাট। এ ছাড়াও মাইনুদ্দিন, খেজুর গাছিয়া, পাঁচ কপাটসহ ছোট-বড় প্রায় দশটির মতো মাছের ঘাটে মাছ আনা নেওয়া করা হয় চেয়ারম্যান-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে। ইলিশ মৌসুমে ঢাকার অতিরিক্ত ইলিশের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খায় এসব ঘাট। সেই ঢাকার পথে যোগাযোগের একমাত্র ভরসাও চেয়ারম্যান-চরফ্যাশন আঞ্চলিক এই মহাসড়কটি। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হয়েও চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি। আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহনে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে এই সড়কে প্রতিদিন চলাচল করছে বাস, ট্রাকসহ কয়েকশত যানবাহন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনাসহ ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চালক ও যাত্রীরা।
এ ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটিতে অন্তত ২০ গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের রাস্তাও এটি। স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানায়, গত তিন বছর আগে একবার সড়কটি সংস্কার করা হলেও ২-৩ মাসের মধ্যে সড়কের কার্পেটিং ও বিটুমিন উঠে যায়। এভাবে দায়সারাভাবে কাজের জন্য কাউকে জবাবদিহিতা কিংবা শাস্তিও আওতায় আনা হয়েছে কি না জানা নেই তাদের। তাদের দাবি সড়ক সংস্কার করা হলে সেটি যেন টেকসইভাবে করা হয়। যেনতেনভাবে সড়ক সংস্কার করা হলে বারবার হয়রানির শিকার হতে হয় তাদের।
সামরাজ মাছ ঘাট থেকে মাছ নিয়ে আশা ট্রাকচালক আবদুল মালেক জানান, খুব সতর্কতার সঙ্গে মালবাহী ট্রাক নিয়ে চলতে হয়। একটু অসতর্ক হলেই দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কটির বেহাল দশার কারণে অনেক চালক এসব ঘাটের মাছ পরিবহন করতে আগ্রহী হন না। ১০ কিলোমিটার রাস্তা যেতে সময় লাগার কথা ২০ মিনিট। সেই পথে এখন ১ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। অনেক সময় ফেরি ধরতে না পারলে মাছ নিয়ে ফেরত এনে লঞ্চে পাঠাতে হয়। এতে লোকসান গুনতে হয় আমাদের। আমরা দ্রুত রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানাই।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মোশারেফ হোসেন বলেন, রাস্তাটি গত তিন বছর আগে সিলকোট করা হয়েছে। সিলকোট করলে তিন বছরের আগে বরাদ্দ হয় না। আশা করছি আমরা শিগগিরই এই রাস্তাটির কাজ শুরু করতে পারব।
সময়ের আলো/আরএস/