আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ভোক্তার ডিজির

রাজশাহী ব্যুরো

সারাদেশ

আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ

2024-12-29T20:57:26+00:00
2024-12-29T20:57:26+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ভোক্তার ডিজির
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: রোববার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, ৮:৫৭ পিএম 
আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ ভোক্তার ডিজির
আলুর দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান। তিনি বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে পুরোনো সংস্কৃতি পরিবর্তন হয়নি। আলুর চাহিদা ও উৎপাদন সংক্রান্ত কৃষি সম্প্রসারণ, কৃষি বিপণন ও কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের দেয়া তথ্যে মিল নেই। অথচ তাদের গুরুত্বপূর্ণ সেই তথ্যের ওপর নির্ভর করে ওই পণ্য আমদানি করা হবে কি না।’

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত বিভাগীয় ভোক্তা অধিকার সম্মেলনে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। এই সম্মেলনের আয়োজন করে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) রাজশাহী বিভাগ।

তিনি বলেন, সংকটকালীন সময়ে সংকটের কথা জানলে সংকট দূর হবে না। সংকট দূর করতে চার মাসে আগে তথ্যের প্রয়োজন হয়। আমদানিকৃত পণ্য সঠিক সময়ে পৌঁছালে আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের ঘাটতি হবে না।

ডিজি বলেন, ‘একই পণ্য নিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আলাদা আলাদা বিভাগ আলাদা রকমের রিপোর্ট দেওয়ার কারণে দেশীয় উৎপাদনের সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। তখন আমদানিও ঠিকমতো হয় না। এর ফলে বাজারে পণ্যের সংকট হয় এবং দাম বেড়ে যায়।’

মোহাম্মদ আলীম আখতার খান বলেন, ‘খাদ্যের ক্রাইসিস হয় তখন, যখন ডিমান্ড এবং সাপ্লাইয়ের ভারসাম্য থাকে না। আলু নিয়ে দেখেছি কৃষির তিনটা বিভাগ তিন রকমের তথ্য দিয়েছে। মিনিস্ট্রিতে একটা আলাপে দেখেছি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর যে রিপোর্ট দিয়েছে সেটার সঙ্গে কৃষি বিপণনের তথ্যের মিল নেই। এই দুটি অধিদফতরের সঙ্গে কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের তথ্যের মিল নেই। এটা দিয়েছে ঢাকার এসবি অফিস। এটা যদি হয়, আমরা বিপদে আছি।’

রাজশাহীর জেলা প্রশাসককে তিনি বলেন, ‘ডিসি সাহেবকে বলব, আপনার জেলায় কৃষি বিভাগ বলেন, “আমি একটা রিপোর্ট চাই। সেটার ওপর আমরা রাজশাহী বিশ্বাস করব, অন্য রিপোর্ট চাই না।” কৃষি মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে, আপনারা একটা অভিন্ন রিপোর্ট দেন যাতে করে আমরা এলসি খুলতে পারি। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই আমদানি হবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা পণ্য বিদেশ, ইউরোপ-আমেরিকা থেকে পণ্য আনতে গড়ে দুই-তিনমাস সময় লাগে। তাহলে আমরা চার-পাঁচ মাস আগে জানতে পারলে আমদানি করতে পারব। ক্রাইসিস মেমোন্টে জানলে ক্রাইসিস দূর হবে না। আমরা বর্তমানে সেই অবস্থায় পড়েছি।’

দ্রুত আমদানি করতে গিয়ে খারাপ পণ্য নিতে হয় জানিয়ে ভোক্তার ডিজি বলেন, ‘পেঁয়াজ আমদানির পর দেখা গেল অন থার্ড পেঁয়াজ নষ্ট। আমরা ক্রাইসিস মেইনটেন করার জন্য ওই পেঁয়াজ কিনতে বাধ্য হচ্ছি। এই কারণে যে পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছিল, তখন টু-থার্ডকে পুরো এক ধরে, একশোর মধ্যে ৩০ ভাগ নষ্ট হলেও তাকে আমরা একশো ধরে মূল্য নির্ধারণ করছি। পেঁয়াজের দুটো অংশ ছিল, একটা অংশ প্রায় ভেজা পেঁয়াজ আসতো। আমি নিজে হাত দিয়ে ধরে দেখেছি। এগুলো জনগণের জন্য পজিটিভ নয়।’

সম্মেলনে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার আজিম আহমেদ, জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, ক্যাবের কেন্দ্রীয় সভাপতি জামিল চৌধুরী, রাজশাহী জেলার সভাপতি লিয়াকত আলী, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুনসহ স্থানীয় অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সময়ের আলো/আরআই


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: