বিদায়ি বছরে ক্রিকেটে সাফল্য পেয়েছে আক্ষেপে পোড়া অনেক দল। তেমনি অনেকের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে হতাশা। দলীয় কিংবা ব্যক্তিগত রেকর্ড অর্জনে ২০২৪ সালটা ছিল ভরপুর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হওয়া এমন কিছু ঘটনা দৈনিক সময়ের আলোর পাঠকদের জন্য তুলে ধরেছেন হাছিবুল বাসার
ভারতের বিশ্বজয় : ২০০৭ সালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে শিরোপা উৎসব করেছিল ভারত। এরপর আইপিএলের আবির্ভাব দেশটির ক্রিকেট কাঠামোকেই পরিবর্তন করে দিয়েছিল। ছোট সংস্করণের ক্রিকেটে জন্ম দিয়েছে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার। তবুও ১৭ বছর ধরে সোনালি ট্রফিটার কাছে গিয়েও ছুঁতে পারেনি ভারত। অবশেষে ২০২৪ সালে সেই আক্ষেপ ঘুচিয়েছে প্রতিবেশীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম শিরোপা স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিয়ে মার্কিনমুল্লুকে রোহিত-কোহলিরা শিরোপাটা নিজেদের ঘরে তুলেছেন। তা ছাড়া ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের সঙ্গে আইসিসির বৈশ্বিক আসরে তাদের ১১ বছর ধরে শিরোপা না জেতার গেরো কেটেছে।
কিউই নারীদের মরু বিজয় : বিদায়ি বছরে মরুর বুকে ফুল ফোটানোর মতো শক্ত কাজই করে দেখিয়েছে নিউজিল্যান্ড নারী দল। পুরুষ দলের নানা অর্জনের ভিড়ে তাদের সাফল্যটাই সবচেয়ে বড়। হবেই বা না কেন, দুবাইয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয় কিউই মেয়েরা। যদিও লাথামরা বিশ্বজয় না করেও লিখেছেন নতুন ইতিহাস। সাত দশকে ভারত সফরে এসে যে নিউজিল্যান্ড মাত্র দুটি টেস্ট জিতেছিল, তারাই স্বাগতিক শিবিরকে তিন টেস্টের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে। অন্যদিকে প্রায় ১২ বছর পর দেশের মাটিতে সাদা পোশাকে সিরিজ হারের তেতো স্বাদ নিয়েছে রোহিত শর্মার দল।
উজ্জ্বল জোসেফ-কামিন্দু : ক্রিকেটে বিদায়ি বছরে সবচেয়ে বড় আবিষ্কার ক্যারিবীয় পেসার শামার জোসেফ। অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সাদা পোশাকের সিরিজে করেছেন ইতিহাস। প্রথম ক্যারিবিয়ান বোলার হিসেবে তাদের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে নিয়েছেন ৫ উইকেট। ব্রিজবেন টেস্টে ছিলেন খুনে রূপে। ৮ উইকেট নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ২১ বছরের অপেক্ষা ফুরিয়েছেন। ২ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে হয়েছেন সিরিজসেরা। তার মতোই বছরটা দারুণ কেটেছে শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি ব্যাটার কামিন্দু মেন্ডিসের। চার মাস আগে গলে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অপরাজিত ১৮২ রানের ইনিংসে করেছেন বিরল এক কীর্তি। ১৪৭ বছরের টেস্ট ইতিহাসে তিনিই একমাত্র ব্যাটসম্যান, ক্যারিয়ারের প্রথম আট ম্যাচের প্রতিটিতে যিনি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন।
জিম্বাবুয়ের ‘৩৪৪’ : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আফ্রিকার উপ-আঞ্চলিক বাছাই পর্বে গাম্বিয়ার বিপক্ষে সিকান্দার রাজার ৪৩ বলে ১৩৩ রানের কল্যাণে ২০ ওভারে ৩৪৪ রান করে জিম্বাবুয়ে। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড নতুন করে লেখে তারা। যদিও রেকর্ডটি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। ডিসেম্বরে ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে সিকিমের বিপক্ষে ৩৪৯ রান করে জিম্বাবুয়ের রেকর্ড ভেঙে দেয় বারোদা। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের রেকর্ড এখনও জিম্বাবুয়েরই। এর আগে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের রেকর্ডটি ছিল নেপালের দখলে। মঙ্গোলিয়ার বিপক্ষে তারা করেছিল ৩১৪ রান।
টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরি : সাইপ্রাসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ২৭ বলে সেঞ্চুরি করে নতুন রেকর্ড গড়েন এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান। স্বীকৃত ম্যাচে এটি দ্রুততম সেঞ্চুরি। ৪১ বলে ১৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংসের পথে রেকর্ডটি গড়েন সাহিল। তার ৩৫১.২১ স্ট্রাইক রেটের ইনিংসটিতে ১৮টি ছক্কার পাশে চার ছিল ৬টি। ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির আগের রেকর্ডটি নামিবিয়ার ইয়ান নিকোল লফটি-ইটনের। ফেব্রুয়ারিতে নেপালের বিপক্ষে ৩৩ বলে সেঞ্চুরিটি করেছিলেন তিনি। ২০২৩ সালে ৩৪ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন কুশল মাল্লার। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে কম বলে সেঞ্চুরি হাঁকানোর রেকর্ডও ভেঙেছেন সাহিল। কেননা ২০১৩ আইপিএলে ক্যারিবিয়ান ব্যাটার ক্রিস গেইল ৩০ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
সময়ের আলো/জেডআই