বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার আশুলিয়া থানায় দায়ের হওয়া পৃথক দুই মামলায় (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগমকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ এ আদেশ দেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এদিন আদালতে শুনানি শুরুর আগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখির সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। এ সময় আইনজীবী কারাগারে পলকের কোনো কিছু প্রয়োজন আছে কি না জিজ্ঞাসা করেন। কোনো বই লাগবে কি না জিজ্ঞাসা করেন আইনজীবী। এখন কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন কারাগারে এই প্রশ্নের উত্তরে পলক বলেন, কারাগারে নিয়মিত কোরআন শরীফ পড়ছি। কোরআন শরীফ এক খতম দিয়েছি। এ সময় শারীরিক সুস্থতার বিষয়ে জানতে চান আইনজীবী রাখি। তখন পলক বলেন, আছি কোনো রকম। এ সময় পলকের কোমরে ব্যাকপেইন রোধক বেল্ট দেখা যায়।
এর মধ্যে রাসেল গাজী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় ইনু ও পলককে গ্রেফতার দেখাতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মো. আনোয়ার হোসেন। অপরদিকে কাপড় ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান হত্যা ও যুবক ফরহাদ হোসেন হত্যাচেষ্টা মামলায় মমতাজকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন করেন মামলা তদন্ত কর্মকর্তারা।
শুনানি শেষে ১০টা ১৩ মিনিটে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে তাদের এজলাস থেকে সিজিএমের হাজতখানায় নেওয়া হয়। তবে পলককে বিষণ্ন দেখা যায়। সাধারণ মানুষেরা পলককে দেখে কেমন আছেন জিজ্ঞাসা করেন। তখন পলক হাত উঁচু করে দোয়া করতে বলেন।
শুনানি শেষে মমতাজকে আদালত থেকে বের করে নেওয়ার সময় তাকে দেখে উপস্থিত জনতা ‘ফাইট্টা যায়, বুকটা ফাইট্টা যায়’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। তখন মাথা নিচু করে দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যান মমতাজ। ‘ফাইট্টা যায়, বুকটা ফাইট্টা যায়’ মমতাজের গাওয়া তুমুল জনপ্রিয় একটি গানের অংশবিশেষ।
ইনু ও পলককে গ্রেফতার দেখানোর মামলার সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়া থানাধীন গাজীরচট এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন রাসেল গাজী। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ছোড়া গুলিতে তিনি আহত হন। পরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মমতাজকে গ্রেফতার দেখানো মামলা সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন আশুলিয়া থানাধীন এলাকায় গত বছরের ৫ আগস্ট কাপড় ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। অন্যদিকে একই এলাকায় আন্দোলনে অংশ নিয়ে ফরহাদ হোসেন নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। পরবর্তী সময়ে তিনি চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।
/এসটিও