মির্জা গালিবের জীবন অন্তঃহীন গজল

মুবিন আহমেদ

সাহিত্য

ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে জন্ম নেয় এমন কিছু মানুষ, যাদের জীবনই হয়ে ওঠে একেকটি দীর্ঘ কবিতা। মির্জা গালিব ছিলেন তেমনই একজন,

2025-08-22T08:58:19+00:00
2025-08-22T08:59:26+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
সাহিত্য
মির্জা গালিবের জীবন অন্তঃহীন গজল
মুবিন আহমেদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৫৮ এএম  আপডেট: ২২.০৮.২০২৫ ৮:৫৯ এএম
অলঙকরণ: হামীম কেফায়েত
ইতিহাসের প্রতিটি সন্ধিক্ষণে জন্ম নেয় এমন কিছু মানুষ, যাদের জীবনই হয়ে ওঠে একেকটি দীর্ঘ কবিতা। মির্জা গালিব ছিলেন তেমনই একজন, যিনি নিজের ভাঙাচোরা সময়কে শব্দের অলংকারে বেঁধে রেখে অমর করে দিয়েছেন। ভারতের ইতিহাসে মির্জা গালিবের মতো প্রভাবশালী কবি দ্বিতীয়জনকে খুঁজে পাওয়া কঠিন।

‘হাম থে মরনে কো খাড়ে, পাস না আয়া না সহি, আখির উস শোখকে তারকাশমে কোয়ি তীর ভি থা?’ আমি তো মরার জন্যই দাঁড়িয়ে ছিলাম; সে-ই তো কাছে এলো না। আচ্ছা, মারার জন্য কোনো তীরই কি ছিল না আজ রূপময়ীর তূণে?

গালিবের লেখা অজস্র গজল, শায়েরি, রুবাইয়াতে বিহ্বল হয়েছে সদ্য প্রেমে পড়া তরুণ থেকে পণ্ডিত পর্যন্ত। উপমহাদেশে সংগীতজ্ঞ জগজিৎ সিং, মেহেদি হাসান, মোহাম্মদ রফি, গুলাম আলি, গুলজার কিংবা রাহাত ফতেহ আলি খানও ব্যবহার করেছেন তার পঙ্ক্তি। বিভিন্ন আসরে গেয়েছেন সমৃদ্ধ সব গজল। গজলগুলো মানুষের স্মৃতির ভেতর আজও নানা আসরে ভেসে আসে।

তার চেয়ে বড় কথা, গালিব একটি যুগ সন্ধিক্ষণের সচেতন সাক্ষী। ছিলেন সময়ের এক জীবন্ত দলিল। ইতিহাসের সবচেয়ে উত্তাল একসময়ের ভেতর দিয়ে তিনি হেঁটেছেন চোখ মেলে। নিজের চোখে দেখেছেন মোঘল সাম্রাজ্যের করুণ পতন, দেখেছেন ব্রিটিশ শাসনের সূচনা, আর অনুভব করেছেন ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের ঝাঁকুনি। নাটকীয় সময়ের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা গালিবের জীবন যেন তার লেখা কবিতার চেয়েও নাটকীয়।

সদ্য প্রেমে পড়া এক তরুণ যেমন গালিবে খুঁজে নেয় নিজের রূপকথা, তেমনি সময় হারানো এক বয়স্ক খুঁজে পায় জীবনের শোকগাথা। গালিবের প্রতিটি শায়েরি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ভালোবাসা যেমন শাশ্বত, তেমনি হারানোর বেদনাও। আর জীবন আসলে এই দুইয়ের মাঝের এক অন্তঃহীন গজল।

গালিব প্রেমের চেয়ে বেশি লিখেছেন ‘প্রেমহীনতা’। গালিবের জীবন কেবল রোমান্টিক বেদনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মোগল সাম্রাজ্যের পতন, ইংরেজ শাসনের উত্থান, ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম, তার পাশাপাশি আসা দুর্ভিক্ষ, মহামারি আর রাজনৈতিক বিপর্যয়—সবই তাকে ঘিরে ধরেছিল।

মিল্টনের প্যারাডাইস লস্ট মহাকাব্যে ‘মহান মোগলদের আগ্রা আর লাহোর’ শহরের কথা আছে সৃষ্টির বিস্ময় হিসেবে। ওলন্দাজ চিত্রশিল্পী রেমব্রান্ত, যিনি ইউরোপের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে বিবেচিত, তিনিও মোগল মিনিয়েচার চিত্রকলায় মুগ্ধ হয়ে সেই আদলে আঁকেন একের পর এক ছবি। এই বৈভবের, ঐশ্বর্যের, শিল্প-সংস্কৃতির শেষ কেন্দ্রবিন্দু ছিল দিল্লি। সেই শহর ধসে পড়ে বিলীন হওয়ার সাক্ষী উর্দু কিংবদন্তি মির্জা গালিব। তার চোখের সামনে পতন হয় মোগল যুগের। এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল প্রকৃতির রোষ-মহামারি, অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, খাদ্যাভাব এবং শেষে দুর্ভিক্ষ।

ইংরেজদের চালু করা নতুন ডাকব্যবস্থার সুবিধা কাজে লাগিয়ে গালিব বন্ধুদের উদ্দেশে লিখে যেতেন তার দিনলিপি। সেই চিঠিগুলো শুধু আত্মকেন্দ্রিক কথোপকথন ছিল না। ছিল গালিবের যুগের সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ব্যক্তিগত বাস্তবতার জীবন্ত দলিল। পুরোনো অলংকারসর্বস্ব গদ্যের জায়গায় তিনি প্রবর্তন করেন আধুনিক উর্দু গদ্যের। সেই চিঠিগুলোতে প্রাত্যহিক খুঁটিনাটিসহ পাওয়া যায় তার জীবৎকালের সব ঘটনা।

গালিব তখন মাত্র কুড়ি বছরের এক তরুণ। বিয়ের পর সাত বছর কেটে গেছে দিল্লিতে। এই সময়ে উপমহাদেশে শুরু হয় প্রথম কলেরা মহামারি। ১৮১৭ সালে, আজকের বাংলাদেশের যশোর থেকেই এই রোগের সূচনা। এরপর ১৮২৯, ১৮৪০ ও ১৮৫২ সালে আবারও ফিরে আসে এই মরণব্যাধি।

দিল্লিও এর প্রভাব থেকে পুরোপুরি রেহাই পায়নি, তবে সে সময়ের গালিবের চিঠিপত্রে এসব দুর্যোগ নিয়ে খুব একটা উদ্বেগের ছাপ দেখা যায় না। তিনি তখনও কাব্যখ্যাতি পাওয়ার আশায় আশাবাদী ছিলেন। শরীরও ছিল সুস্থ। জীবন যেন তার কাছে তখনও এক সম্ভাবনার খোলা দরজা। ১৮৫৬ সালের দিকে যে কলেরা মহামারি শুরু হয়, তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা উত্তর ভারতের সমতল ভূমিতে। দক্ষিণ ভারত থেকে পশ্চিমে মুলতান পর্যন্ত জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল কলেরা। শুরু হয়েছিল মোগলদের এককালীন রাজধানী আগ্রা থেকে। সেই বছরের জুন মাসে তা দিল্লিতে পৌঁছে গেল।

শামসুর রাহমান ফারুকি তার ‘কয়ি চাঁদ থে সরে আসমাঁ’ উপন্যাসে লিখেছেন, কলেরা এত প্রবলভাবে ছড়িয়ে পড়ল যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ছোট থেকে বড় অফিসাররা দায়িত্ব ফেলে দিল্লি ছেড়ে পালিয়ে বাঁচল। স্থানীয় দেশি চিকিৎসকরা যথাসাধ্য চেষ্টা করলেন। চিকিৎসা জুটল অভিজাতদের ভাগ্যে। সাধারণ মানুষ মারা যেতে লাগল বিনা চিকিৎসায়।

বহু আগে নাদির শাহের আক্রমণে মোগল সম্রাট মুহাম্মদ শাহ রঙ্গিলা অসহায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। এর ১১৭ বছর পর বাহাদুর শাহ জাফর অসহায় আত্মসমর্পণ করলেন এক অদৃশ্য শত্রু কলেরার সামনে।

এই মহামারিই মোগল সাম্রাজ্যের পতনকে আরও দ্রুত করে দেয়। কলেরায় মোগল যুবরাজ এবং পরবর্তী সম্রাট মির্জা ফখরুর মৃত্যু হয়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ব্রিটিশ শাসকরা আর কোনো যুবরাজকে সম্রাট হিসেবে মানতে রাজি হয়নি। লাল কেল্লায় তখন গড়ে উঠছিল নানা ষড়যন্ত্র আর রাজনীতি। এর মাঝেই ঘটে গেল ১৮৫৭ সালের বড় বিদ্রোহ। কলেরার ভয়ভীতিতে পালিয়ে যাওয়া ইংরেজদের অনুপস্থিতিতে দিল্লি দখল করে সিপাহিরা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবার ইংরেজরা ফিরে এসে দিল্লি দখল করে নেয়। এরপরও কয়েক মাস পর কলেরার প্রকোপ আবার বেড়ে যায়।

এসব ঘটনায় গালিবের জীবন সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। তার অপ্রকৃতিস্থ ছোট ভাই মির্জা ইউসুফ একদিন রাস্তায় বেরিয়ে ইংরেজদের গুলিতে নিহত হন। অনেক কষ্টে পুরোনো এক চাদরে তাকে কাফন দিয়ে সমাহিত করা হয়। মোগল সাম্রাজ্য নেই। গালিব নিজের দরবারের চাকরিও হারিয়ে ফেললেন। মাসোহারা পাওয়ার তো দূরের কথা, বরং দরবারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় নিজের জীবন বাঁচানোই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল। তিনি যেখানে তার সব কবিতার খসড়া জমা রেখেছিলেন, সেই বাড়িটা ইংরেজ শাসকরা পুড়িয়ে দিয়ে দিল। তার সব কবিতার খাতা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল। পরবর্তীতে বন্ধুদের কাছে চিঠিতে লিখেছিলেন, যদি কারও কাছে তার কোনো কবিতা থাকে, তবে তা তাকে ফেরত পাঠাতে বলেছিলেন। এমনকি রাস্তায় ভিক্ষুকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন নিজের লেখা পুরোনো গজল।

১৮৬০ সালে আবার কলেরা মহামারি ফিরে এলো, সঙ্গে দুর্ভিক্ষও বেঁধে গেল। দিল্লিতে কলেরার প্রকোপ বাড়ার পেছনে ইংরেজ শাসকদের অবহেলা ছিল মূল কারণ। ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর তারা শহর দখল করে দিল্লির পুরোনো রূপ ধুলোয় মিশিয়ে দিতে চাইল। পরিকল্পনা ছিল লাল কেল্লা আর জামা মসজিদ গুঁড়িয়ে সেখানে ক্যাথেড্রাল আর ভিক্টোরিয়া প্রাসাদ বানানোর, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। তবে বেশিরভাগ পুরোনো সৌধের মতো লাল কেল্লা সৈনিকদের ব্যারাকে পরিণত হলো। পুরোনো বসতির জায়গা মাটিতে মিশিয়ে বড় বড় চওড়া রাস্তা বানানো হলো, ফলস্বরূপ হাজারো মানুষ একরাতে গৃহহীন হয়ে পড়ে। আগের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে নতুন ব্যবস্থা গড়ার বদলে কলকাতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই দিল্লির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি বিকল হয়ে গেল। বদ্ধ জল জমে, আবর্জনা ছড়িয়ে পড়ল, যা কলেরা মহামারির জন্য একেবারে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করেছিল।

নিজের অস্তিত্বের অংশ দিল্লি শহর চোখের সামনে শেষ হতে দেখে চিঠিতে গালিব লিখেছিলেন, ‘দিল্লি শহর জনশূন্য হয়ে গেলে আমি আনন্দ করব। সবাই যখন এ শহর ছেড়ে চলে যাবে, তখন আর শহরটিকে নিয়ে দুঃখ করার কিছু থাকবে না আমার।’ বছর না ঘুরতেই চলমান মহামারিটি ভয়ংকর রূপ নেয়। ১৮৬১ সালে বন্ধু মজরুহকে কবি লিখলেন, ‘মহামারির কথা আর কী জানতে চাইছ? ভাগ্যের দক্ষ তিরন্দাজের হাতে এই একটা তীরই বাকি ছিল। এত হত্যা, এত লুটপাট, এমন তীব্র দুর্ভিক্ষ, তো মহামারি আর বাদ থাকে কেন?’

ততদিনে গালিব জীবনের প্রতি আকর্ষণ হারিয়েছেন। নিতান্ত খাওয়া-পরা জোগাড় করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বাজারে বংশপরিচয়ের সূত্রে ধারদেনা অবশ্য পেতেন। কিন্তু ইংরেজ যুগে সেই সুনামের আর বাজারদর নেই, তা বরং বিপদই ডেকে আনে।


এই চরম বাস্তবতার মধ্যে গালিব কিছুটা সান্ত্বনা খুঁজতেন জ্যোতিষচর্চায়। মজার বিষয়, বছর দশেক আগে তিনি নিজেই গণনা করে বলেছিলেন ১৮৬০ সালই হবে তার মৃত্যুর বছর। বন্ধু মজরুহকে লেখা সেই চিঠিতে পরিহাসপ্রিয় কবি জানাচ্ছেন তার গণনা ভুল ছিল না। চিঠির শেষে ছিল একটি শের—

সব দুর্যোগ হয়েছে শেষ গালিব
এক অতর্কিত মৃত্যু বাকি আছে শুধু।

তবে সহজে যে গালিব পার পেয়েছিলেন, এমন নয়। ১৮৬১ সালের নভেম্বরে রামপুরের নবাবকে লেখা তার চিঠিতে জানা যায়, গালিব জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। সঙ্গে শূলবেদনা। তবে সে ব্যথায় কবি জ্বরের কষ্ট টের না পেয়ে বলেছেন, ‘আমার শক্তি নিঃশেষ হয়ে গেছে। মানসিক অবসাদ নিয়ে এসেছে মৃত্যুর দ্বারে।’

সে যাত্রাতেও মরা হলো না গালিবের। জীবন্মৃত হয়ে বেঁচে রইলেন। সবচেয়ে কষ্ট পেতেন বন্ধুশূন্য একাকী জীবনে। সে কথা মনে করে ১৮৬৩ সালে এক চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘ওপর তলায় যে ঘরে বসে বন্ধুদের সঙ্গে আসর জমত, সেখানে বসে সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে থাকি। দেখতে পাই যেন মির মেহেদি, ইউসুফ মির্জা, মিরান আর ইউসুফ আলি খান একে একে আসছে—আল্লাহ, আল্লাহ! সহস্রবার তাদের জন্য বিলাপ করি। কিন্তু আমি যখন থাকব না, আমার জন্য শোক করার কে রইল?’

জীবন যন্ত্রণার তীব্র দহনে পুড়তে পুড়তেও দ্বিধাহীন স্বরে যে মানুষটি বলতে পারেন, ‘জ্বালালেই তিনি জ্বলবেন না’; বেঁচে থাকতে তার গুণকে কেউ স্বীকৃতি না দিলেও পরবর্তী প্রজন্ম তাকে স্বীকৃতি দেবে। আর ঠিক সেই মতো উর্দু কবিদের মধ্যে গালিবই এখনও পর্যন্ত বেশি আলোচিত কবি।

জীবন, প্রেম, ধর্ম, দুঃখ আর আত্মসংঘাত—মানুষের অন্তরের গভীর সব অনুভবকে গালিব তুলে এনেছেন তার কবিতায়। যেন প্রতিটি শায়েরিই এক গভীর আত্মপ্রকাশ। তার লেখায় ফুটে উঠেছে বাস্তবের কষ্ট, ভাবনার শাণ, আবার কখনো স্বপ্নের কোমলতা। এই জন্যই গালিব কেবল একজন কবি নন, তিনি নিজেই একটি ধারাবাহিক আন্দোলনের নামÑযার ঢেউ ছুঁয়ে গেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে।

আরআর


Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: