সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলা তদন্তে গঠিত টাস্কফোর্সকে প্রতিবেদন জমা দিতে ‘শেষবারের মতো’ আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) টাস্কফোর্স মামলার তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের কাছে আরও ছয় মাস সময় চায়।
আদালত বলেছেন, শেষবারের মতো সময় দেওয়া হলো। এই ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতেই হবে।
আদালতে আজ বাদীপক্ষের শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রিটকারীপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আরশাদুর রউফ।
বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চকে রউফ বলেন, টাস্কফোর্স মামলাটি তদন্ত করছে এবং তারা কিছু অগ্রগতিও পেয়েছে। তদন্ত শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় লাগবে।
পরে আদালত টাস্কফোর্সকে তদন্ত শেষ করার জন্য ছয় মাস সময় দেন।
এদিকে, টাস্কফোর্সের সময় আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির। তিনি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য টাস্কফোর্সকে তিন মাস সময় দেওয়ার এবং তদন্তের বিষয়ে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য টাস্কফোর্স প্রধানকে তলব করার জন্য আবেদন জানান।
এর আগে ২২ এপ্রিল হাইকোর্ট টাস্কফোর্সকে তদন্ত সম্পন্ন করতে এবং প্রতিবেদন জমা দিতে অতিরিক্ত ছয় মাস সময় মঞ্জুর করেন। পরে আদালত শুনানির জন্য ২২ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর আলোচিত এ মামলার তদন্ত থেকে র্যাবকে সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চলতি বছরের ৬ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
পরে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়।
টাস্কফোর্সের অন্য তিন সদস্য হলেন- পুলিশ সদরদপ্তর ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ থেকে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার একজন করে দুজন এবং র্যাব থেকে পরিচালক পদমর্যাদার একজন।
তবে ৬ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অবকাশকালীন ছুটি থাকায় এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এরপর ২২ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়। তার ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি আবার কার্যতালিকায় ওঠে।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার রুনি পশ্চিম রাজাবাজারে তাদের ভাড়া বাসায় হত্যার শিকার হন। মরুনির ভাই পরের দিন শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে কোনো সন্দেহভাজনের নাম উল্লেখ করেননি।
সময়ের আলো/জেডআই