প্রকাশ: শনিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৫, ৫:১৯ এএম (ভিজিট : ১১৮)
ফাইল ছবিআবু ইসহাক কথাসাহিত্যিক, অভিধানপ্রণেতা। ১৯২৬ সালের ১ নভেম্বর শরীয়তপুর জেলার শিরঙ্গল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মোহাম্মদ এবাদুল্লাহ, মাতা আতহারুন্নিসা।
আবু ইসহাক নড়িয়া থানার উপসী বিজারি তারাপ্রসন্ন ইংরেজি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৪২ সালে মাধ্যমিক, ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ থেকে ১৯৪৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬০ সালে বিএ পাস করেন।
তিনি প্রথমে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শক পদে যোগদান করেন। দেশ বিভাগের পরে ১৯৪৯ সালে তিনি পুলিশ বিভাগে সহকারী পরিদর্শক হন।
১৯৫৬ সাল পর্যন্ত তিনি করাচি, রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকায় এসে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার উপপরিচালক হন।
পরের বছর বার্মার আকিয়াবে বাংলাদেশ সরকারের দূতাবাসে ভাইস কনসাল এবং ১৯৭৬ সালে কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের প্রথম সেক্রেটারি পদে নিয়োগ লাভ করেন। ১৯৭৯ সালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার খুলনা বিভাগের প্রধান হয়ে ১৯৮৪ সালে অবসর গ্রহণ করেন।
কলকাতার সওগাত, আজাদ প্রভৃতি পত্রিকায় তার বিভিন্ন রচনা প্রকাশিত হয়। বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দেশ বিভাগ প্রভৃতি পরপর চারটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনার পটভূমিতে তিনি রচনা করেন উপন্যাস সূর্য দীঘল বাড়ী। উপন্যাসটি প্রকাশিত হলে এর রচনাশৈলী ও বিষয়বস্তু পাঠকদের আকৃষ্ট করে। সূর্য দীঘল বাড়ীর চলচ্চিত্রায়ন এবং একাধিক বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়।
আবু ইসহাকের দ্বিতীয় উপন্যাস পদ্মার পলিদ্বীপ; উপন্যাসে পদ্মার বুকে জেগে ওঠা চরের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা আছে। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এ উপন্যাস রচিত হলেও লেখকের দৃষ্টিভঙ্গি অপরিবর্তিত রয়েছে। তৃতীয় উপন্যাস জাল। এটি গোয়েন্দাজাতীয় উপন্যাস। তার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ দুটি হারেম ও মহাপাত্র। তার রচিত একমাত্র নাটক জয়ধ্বনি। তার স্মৃতিচারণমূলক রচনা স্মৃতিবিচিত্রা প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে।
অভিধানপ্রণেতা হিসেবেও আবু ইসহাকের একটি বিশিষ্ট পরিচয় আছে। তিনি সমকালীন বাংলা ভাষার অভিধান রচনা করে বাংলা কোষগ্রন্থের পরিধিকে বাড়িয়ে তুলেছেন। তার প্রণীত অভিধানের বিশেষত্ব হলো শব্দের শুধু অর্থ নয়, সব ধরনের প্রতিশব্দ বা সমর্থক প্রদান। তার অভিধানে ‘অন্ধকার’ শব্দের ১২৭টি সমর্থক শব্দ আছে। সাহিত্যকর্মে অবদানের জন্য আবু ইসহাক ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার’, ‘একুশে পদক’, ‘স্বাধীনতা পদক’ (মরণোত্তর) এবং ‘শিশু একাডেমি পদক’ (মরণোত্তর) লাভ করেন। ২০০৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকায় মারা যান।
সময়ের আলো/এআর