চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় 'পোষ্য কোটা' বাতিল করা হয়েছে। তবে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কোটা, প্রতিবন্ধী কোটাসহ অন্যান্য কোটা বহাল রয়েছে।
এছাড়াও এবার সব ইউনিটের ন্যূনতম জিপিএর মানদণ্ড গত বছরে তুলনায় ন্যূনতম দশমিক পাঁচ (.০৫) কমানো হয়েছে। কমানো হয়েছে আসন সংখ্যা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষা ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’ এই চারটি ইউনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
‘এ’ ইউনিটে (বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ ও প্রকৌশল অনুষদ) আবেদন করতে হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক (চতুর্থ বিষয়সহ) মিলে ন্যূনতম জিপিএ থাকতে হবে ৭.৭৫। এর মধ্যে মাধ্যমিকে অন্তত জিপিএ ৪.০০ এবং উচ্চমাধ্যমিকে অন্তত জিপিএ ৩.২৫ থাকতে হবে।
‘বি’ ইউনিটে (কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ) মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের মোট জিপিএ থাকতে হবে ৭.০০, আর বিজ্ঞান ও ব্যবসায় বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে মোট জিপিএ ৭.৫০।
‘সি’ ইউনিটে (ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদ) আবেদন করতে হলে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক মিলে (চতুর্থ বিষয়সহ) ন্যূনতম জিপিএ থাকতে হবে ৭.৫০।
‘ডি’ ইউনিটে (সমাজবিজ্ঞান ও আইন অনুষদ) সব গ্রুপের শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবে। এ ইউনিটে আবেদন করার জন্য মোট ন্যূনতম জিপিএ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭.০০।
চলতি বছর উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয়টি বিবেচনা রেখে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে মাধ্যমিকের ফলাফলের ক্ষেত্রে পূর্বের শর্তই বহাল থাকছে। এছাড়া যে সব বিভাগে শতাধিক আসন ছিল, সেসব বিভাগ সর্বোচ্চ ১০০ আসনে সীমিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, ভর্তি প্রক্রিয়া আগের মতো আলাদা আলাদা ইউনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
আবেদনের তারিখ ও সময়সূচি পরে প্রকাশ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র জানায়, পোষ্য কোটা পুরোপুরি বাদ দেওয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট নয়টি চালু কোটা থাকবে। এগুলো হলো, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান, বিদেশি শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠী, পার্বত্য চট্টগ্রামের বাঙালি শিক্ষার্থী, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, বিকেএসপির খেলোয়াড়, পেশাদার খেলোয়াড় ও দলিত শিক্ষার্থী।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পোষ্য কোটা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভর্তি কমিটি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে কোটার সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনে। এবার নতুন শিক্ষাবর্ষে তা সম্পূর্ণ বাতিলের সিদ্ধান্ত হলো।
এফআর