চলছে মিস ইউনিভার্সের ৭৪তম আসর। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনে ১২২টি দেশের সুন্দরীরা অংশ নিয়েছেন। এ আসরে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছেন রোমা রিয়াজ। প্রতিযোগিতায় যেখানে নিজ দেশ থেকে সমর্থন পাওয়ার কথা, সেখানে কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে তাকে। বর্ণবাদী ও বডিশেমিং মন্তব্য করছেন খোদ তার দেশেরই মানুষ। গায়ের রং, উচ্চতার কারণে কয়েক দিন ধরেই তার শুনতে হচ্ছে ‘পাকিস্তানে কি সুন্দরী নারীর আকাল পড়ল’-এর মতো মন্তব্য। এবার এই ঘৃণাত্মক মন্তব্যের বিরুদ্ধে এবার মুখ খুললেন এই সুন্দরী। ইনস্টাগ্রামে একটি রিল ভিডিও পোস্ট করে তাকে নিয়ে করা বর্ণবাদী ও বডিশেমিং মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে নেট দুনিয়ায় চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
ভিডিওতে রোমা রিয়াজ বলেন, ‘ফরসা হওয়াই সৌন্দর্যের মাপকাঠি—এই “বিষাক্ত বিশ্বাস” থেকেই এমন সমালোচনার জন্ম। তার মতে, বর্ণবাদী মানসিকতার কারণেই আমরা ফরসা হওয়ার পেছনে ছুটি এবং নিজেদের শিকড় ভুলে যাই।’
সেখানে তিনি আরও বলেন, ‘আমার সবটুকু জুড়ে আমি একজন পাকিস্তানি। আমার এই গায়ের রং তাদেরই পরিচয় বহন করে, যারা আমাদের ঘর আর দেশটাকে গড়ে তুলেছেন।
তিনি শুধু পাকিস্তানকেই নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার সেই নতুন প্রজন্মের নারীদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, যারা সমাজের ঠিক করে দেওয়া সৌন্দর্যের সংকীর্ণ সংজ্ঞায় আটকে থাকতে চান না বলেও জানান।
এ সময় রোমা প্রশ্ন তোলেন, কেন মানুষ নিজেদের দেশের নারীদের ছোট করতে এত তৎপর? তিনি সারাবিশ্বকে বলে বেড়াচ্ছেন যে পাকিস্তানের মানুষ কতটা সুন্দর। অথচ, সেই মানুষেরাই তাকে নিয়ে নেতিবাচক কথা ছড়াচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবারই নিজস্ব মতামতের অধিকার আছে, কিন্তু যদি ভালো কিছু বলার না থাকে, তবে পাকিস্তানের সম্মানের স্বার্থে দয়া করে চুপ থাকুন।’
তরুণীদের উদ্দেশে রোমা রিয়াজ বলেন, ‘যেসব মেয়েকে “বেশি কালো, অন্যদের চেয়ে আলাদা” বলে ট্যাগ দেওয়া হয়েছে, তারাও অন্য সবার মতোই পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন।’
এ ঘটনার আগে সম্প্রতি একটি ইভেন্টে শাড়ি পরা নিয়েও সমালোচনার শিকার হন রোমা। এর জবাবে তিনি বলেন, ‘শাড়ি, সালোয়ার–কামিজের মতোই পাকিস্তানি। পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক ইতিহাস মুছে ফেলা বা নতুন করে লেখার কোনো সুযোগ নেই।’
তথ্যসূত্র : গালফ নিউজ
সময়ের আলো/এনএ