ভূমিকম্প পরবর্তী উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) বন্ধ ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সেইসঙ্গে কারিগরি বিবেচনায় আগামীকাল রোববার বিকাল পাঁচটার মধ্যে আবাসিক শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে জনসংযোগ দপ্তর থেকে এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের এক জরুরি সভা আজ শনিবার উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ সংযুক্ত ছিলেন। এছাড়া, চিকিৎসা অনুষদের ডিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সভায় অংশ নেন।
সভায় সাম্প্রতিক ভূমিকম্প ও তৎপরবর্তী ঝাঁকুনি (Aftershock)- এর কারণে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক আঘাতের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় এবং তাদের সার্বিক নিরাপত্তার দিক সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক এবং প্রধান প্রকৌশলীর মতামত বিশ্লেষণ করা হয়।
তাদের মতামত হলো- ভূমিকম্প পরবর্তী আবাসিক হলসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সামগ্রিক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার দরকার। এই ঝুঁকি নিরূপণ ও সম্ভাব্য সংস্কারের স্বার্থে আবাসিক হলগুলো খালি করা প্রয়োজন। এ কারণে সভায় আগামী ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রাখা এবং আবাসিক হলসমূহ খালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামীকাল রোববার বিকাল ৫টার মধ্যে আবাসিক হলসমূহ খালি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সভায় প্রাধ্যক্ষদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসসমূহ যথারীতি খোলা থাকবে।
এর আগে, শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে তৃতীয় দফায় ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি করে নিচে নামতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অন্তত ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়।
এছাড়া গতকাল শুক্রবার সারাদেশ এক ভয়াবহ ভূমিকম্প অনুভূত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি আবাসিক হলে ফাটল দেখা দেয়।
এফআর