নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

শিক্ষা

ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নিয়ম লঙ্ঘন করে এক সহকারী অধ্যাপক পদের বিপরীতে দুইজনকে নিয়োগ দিয়েছে।

2025-11-22T23:34:24+00:00
2025-11-22T23:34:24+00:00
 
  শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬,
২০ আষাঢ় ১৪৩৩
শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৩৪ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নিয়ম লঙ্ঘন করে এক সহকারী অধ্যাপক পদের বিপরীতে দুইজনকে নিয়োগ দিয়েছে। সম্প্রতি পপুলেশন সায়েন্স বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের অনিয়ম ঘটে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিভাগটিতে ১ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের জন্য আবেদন চেয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। যেখানে লিখিত পরীক্ষার জন্য আমন্ত্রণ পান একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদের বিপরীতে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পাওয়া ২ সহকারী অধ্যাপক। 

তারা হলেন মো. মামুনুর রশিদ ও শিমলিন জাহান খানম। এছাড়া লিখিত পরীক্ষায় ৩য় প্রার্থী হিসেবে আমন্ত্রণ পান মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরী নামের আরেক প্রার্থী। 

নিয়োগের বাছাই বোর্ডে সভাপতি হিসেবে উপাচার্য ও সদস্য হিসেবে ট্রেজারার, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম মন্ডল ছিলেন।

১২ আগস্ট উক্ত ৩ প্রার্থীর মাঝেই হয় লিখিত পরীক্ষা এবং উত্তীর্ণ হন সবাই। একই দিনে অনুষ্ঠিত বাছাই বোর্ডে সাক্ষাৎকার দিয়ে সর্বোচ্চ নাম্বার পেয়ে সহকারী অধ্যাপক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন শিমলিন জাহান খানম। অন্যদিকে ২য় স্থানে থাকেন মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরী।

তবে এরপরই ঘটে বিপত্তি। উক্ত পদের বাছাই বোর্ডের কার্যবিবরণীতে যুক্ত করা হয় মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরীকে ভিন্ন পদে নিয়োগের সুপারিশও। মূলত শিমলিন জাহান খানমের সহকারী অধ্যাপক পদে স্থায়ী নিয়োগ হবার পর তার সহযোগী অধ্যাপক পদটি শূন্য হবে বলে আগেই সেই পদে অস্থায়ী সহকারী অধ্যাপক হিসেবে সুপারিশ করা হয় মোহাম্মদ রকি খান চৌধুরীকে; যা অনুমোদন পায় ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৯তম সিন্ডিকেটে। ৩১ আগস্ট নিজ পদে যোগদান করেন শিমলিন খানম এবং ১২ অক্টোবর যোগদান করেন রকি খান। এরপরেই প্রশ্ন উঠেছে নিয়োগটির স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও নিয়মের বৈধতা নিয়ে।

নিয়োগটিতে, শূন্যপদে কোনো প্রকার বিজ্ঞাপন প্রচার না করে সহযোগী অধ্যাপক পদে সরাসরি অস্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন করায় পদটিতে যথাযথ প্রতিযোগিতা হয়নি, যা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদের, ‘প্রজাতন্ত্রের যেকোনো নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সব নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ’ ধারাটি লঙ্ঘন হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহলের এক অংশের মতে, একই বিজ্ঞপ্তি থেকে স্থায়ী ও অস্থায়ী দুই ধরনের নিয়োগের সুপারিশ করা কতটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। কেউ কেউ আবার বলছেন, শূন্যপদে বিজ্ঞাপন দিলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আরও যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যেতো।


এছাড়াও সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের বাছাই বোর্ড কীভাবে সহযোগী অধ্যাপক পদে অস্থায়ী নিয়োগের সুপারিশ করে তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। 

নিয়োগটির বৈধতার প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো: মিজানুর রহমান বলেন, নিয়োগটি বাছাইবোর্ড কর্তৃক সুপারিশ করা হয় এবং পরবর্তীতে সিন্ডিকেটেও অনুমোদিত হয়। যেহেতু সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম, তাই সেখান থেকে অনুমোদন হলে সেই নিয়োগকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই। তবে এটি আদর্শ পদ্ধতি নয়।

নিয়োগ বিষয়ে বাছাই বোর্ডের সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাছাই বোর্ড যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সিলেকশন বোর্ড যখন বসেছে, সবাই মনে করেছে একজন পটেনশিয়াল ক্যান্ডিডেট পাওয়া গেছে। তিনি অস্ট্রেলিয়ার মোনাস ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করেছেন, এরকম ব্রাইট ক্যান্ডিডেট সচরাচর পাওয়া যায় না, তাই সিলেকশন বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেছে। সিন্ডিকেটেও বিষয়টি এভাবে উপস্থাপিত হয়েছে এবং অনুমোদন হয়েছে। এমন যদি হয় হার্ভার্ড থেকে কেউ এসেছে, তাকে চাইলেও সিন্ডিকেট সরাসরি নিয়োগ দিতে পারে।

তবে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ভিন্ন মত দিয়েছে। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান জানান, বিজ্ঞাপনে যেহেতু একটি পদ উল্লেখ ছিল, তাই শুধুমাত্র একজনকেই নিয়োগ দেওয়া সম্ভব—এর বাইরে অতিরিক্ত নিয়োগ দেওয়া নিয়মবহির্ভূত।

ইউজিসির এক সদস্যও জানান, অভ্যন্তরীণ কোনো প্রার্থী নিয়োগ পেলেও তার ফলে সৃষ্ট শূন্য পদে একই সিলেকশন বোর্ড থেকে আরেকজনকে সুপারিশ করা পুরোপুরি বেআইনি। সিন্ডিকেট অনুমোদন দিলেও অভিযোগ পাওয়ার পর ইউজিসি এই নিয়োগ বাতিল করবে। কারণ বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে একটির বেশি পদ উল্লেখ করা হয়নি। যদি শূন্য পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নিয়ম মেনেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

সময়ের আলো/এআর 



  বিষয়:   নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়  শিক্ষক  অনিয়ম 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: