ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) প্রতিনিধিদের নিয়ে অনলাইনে অব্যাহতভাবে প্রোপাগান্ডা ও অশ্লীলতা ছড়ানো বিভিন্ন রাজনৈতিক পেইজগুলো ও আইডির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন ডাকসুর নেতারা।
সোমবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে ডিএমপির সাইবার ইউনিটে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জিএস এসএম ফরহাদসহ অন্যান্যরা এ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ডিবি কার্যালয়ের গেটে ব্রিফিং করেন ডাকসু প্রতিনিধিরা।
এসময় ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম মামলা করা ১১টি ফেসবুক আইডি ও পেইজের নাম উল্লেখ করেন। এগুলো হলো- ডাকসু কন্ঠস্বর, BongoGraph, আমার ডাকসু, The Nationalist Data, কাঁঠেরকেল্লা, রৌমারি, DU Insiders ও এয়ার্কি নামে ৮টি পেইজ। এছাড়া রয়েছে এনামুল হক শান্ত, আশিকুর রহমানর ও সাইফ আল মাহমুদ নামে তিনটি আইডিও।
ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, আজকে আমরা সাইবার সাপোর্ট ইউনিটের সাথে ফলপ্রসূ মিটিং করেছি। এর আগে অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান উপদেষ্টার স্বরাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সাথে আমরা কথা বলেছি। একই সাথে ডিএমপি কমিশনারের সাথে কথা হয়েছে। আজকে আমরা এখানে লিখিতভাবে আমাদের অভিযোগগুলো দিয়েছি।
তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনের আগে এবং পরবর্তী সময়ে অব্যাহতভাবে কিছু রিয়েল আইডি ও ভুয়া আইডি ও পেইজ থেকে নারীদের বিশেষ করে নারী এক্টিভিস্ট ও ডাকসু নির্বাচিত নারী প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং হচ্ছে, স্ল্যাট শ্লেমিং হচ্ছে, বিভিন্ন ধরণের ভুয়া ফটো কার্ড দিয়ে নোংরা ভাষায় প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে, কমেন্ট সেকশনে এইসব নারী প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে। আজকে আমরা যেসব আইডি ও পেইজ থেকে এসব প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে সেগুলোর লিংক লিখিত ভাবে জমা দিয়েছি।
তিনি বলেন, আমার যে পেইজগুলো কথা বলেছি প্রত্যেকটি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সাথে কানেক্টেড। ছাত্রদল ও বিএনপির এক্টিভিস্টরা এই পেইজগুলো চালায়। আমার যে লিংকগুলো দিয়েছে ইতোমধ্যেই এখানে যারা সাইবার এক্সপার্ট আছেন তারা কাজ শুরু করেছেন। খুব দ্রুতই এসব পেইজের এডমিনদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন।
তিনি বলেন, সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে যেন শিক্ষার্থীরা অভিযোগ জমা দিতে পারেন এজন্য শাহবাগ থানায় একটি সাইবার সাপোর্ট সেন্টার খুব দ্রুত স্থাপন করা হবে সেখানে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ দিবে এবং আমাদের ডাকসুর পক্ষ থেকে একটা ডিজিটাল কমপ্লেইন বক্স স্থাপন করেছি সেখানে আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এই ব্যাপারে সহযোগিতা করবে।
আমরা আশা করছি এইসব কালপ্রিটদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের মাধ্যমে এগুলো বন্ধ হবে এবং এই জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) জিরো টলারেন্স ঘোষণা। যারা আমার বোনদের বিরুদ্ধে, প্রার্থীদের বিরুদ্ধে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সাইবার বুলিং করছে তারা কখনো মানুষ হতে পারে না। এরা কুলাঙ্গার। এদের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে।
ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, বিগত কয়েক মাস ধরে ডাকসু নির্বাচনের আগে থেকেই বিভিন্ন ভুঁইফোড় পেইজ, কখনো কখনো বিভিন্ন বেনামী আইডি থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরণের অশ্লীল কন্টেন্ট, বিভিন্ন ধরণের প্রোপাগান্ডা, সেক্সুয়াল হ্যারেজমেন্ট, সাইবার বুলিং, সামাজিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা অব্যাহত ছিল। অনেক সময় নানা ভাবে প্রতিবাদ করেছি, কখনো জিডি করেছি কিন্তু কোনো সুস্পষ্ট ফল পাই নি। এটার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিলাম। তারই প্রেক্ষিতে আজকে সাইবার ইউনিটে আমরা এসেছি।
সময়ের আলো/এসকে/