ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল এগারোটার দিকে ‘পোষ্য কোটা বাতিল আন্দোলন, ঢাবি’ ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।
কোটা বাতিল আন্দোলনের সংগঠক রাকিব রহমান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের প্রায় সব সেক্টরে সরকারি চাকরিতে কোটা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল ৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশ। পোষ্য কোটাসহ অন্যান্য যে কোটাগুলো ছিল সেগুলোও পর্যায়ক্রমে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই অভ্যুত্থানের এক বছর পরে এসেও ডাকসু নির্বাচনের পরও এখনো বৈষম্যমূলক পোষ্য কোটা বহাল রয়েছে। এই পোষ্য কোটার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকদের সন্তানরা সুবিধা পান। আপনার কী মনে হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা চাকরি করেন তারা কম সুবিধা পান? কিন্তু তাদের এই অযৌক্তিক পোষ্য কোটা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এই বৈষম্যমূলক পোষ্য কোটা বাতিল করেছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখনো এই ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ডাকসুর কাছে দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ২০২৫-২০২৬ সেশন শুরু হওয়ার আগেই প্রশাসনের সাঙ্গে আলোচনা করে এই পোষ্য কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি ডাকসু কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে কঠোর আন্দোলন শুধু প্রশাসনের দিকেই যাবে না, ডাকসুর দিকেও আমরা আঙুল তুলব।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, আমরা সব ধরনের কোটা সংস্কার করেছি। মানুষের চাহিদার ভিত্তিতে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপের ভিত্তিতে সংস্কার চলমান রয়েছে। মাননীয় আদালতের যেকোনো নির্দেশনা রায় শিরধার্য। আদালত আমাদের যে রায় দেবেন তা মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত আছি।
তিনি বলেন, পোষ্য কোটার বিষয়টি নিয়ে আদালতে একটি রিট মামলা হয়েছে। সেই মামলার ভিত্তিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আদালত একটি রুল জারি করেছেন। আমার সেই রুলের উত্তর দেওয়ার পক্ষে আছি। বিষয়টি এই মুহূর্তে বিচারাধীন। তাই গভীরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
সময়ের আলো/কেএইচও