পুরোনো বছরের সব জরাজীর্ণ, ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে নতুন বছরে নতুন প্রত্যাশায় বুক বেঁধেছে ক্রীড়াঙ্গনের তারকারা। একেক জনের একেক রকম প্রত্যাশা, ভাবনা। কেউ চাইছেন মাঠে যেন সারা বছর খেলা থাকে, কারোর প্রত্যাশা আরও উন্নতি-উন্নয়ন হোক দেশের ক্রীড়া অবকাঠামোর। ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের ভাবনাগুলো পাঠকের সামনে তুলে ধরেছে সময়ের আলো
পারভেজ হোসেন ইমন (ক্রিকেট) : টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বর্তমানে সময়ের সেরা ক্রিকেটারের একজন পারভেজ হোসেন ইমন। জাতীয় দলে নিজেকে প্রমাণ করেছেন একাধিবার। চলতি বিপিএলেও সিলেটের জার্সিতে প্রথম ম্যাচে ফিফটি ইনিংস উপহার দিয়েছেন। বিপিএলে ভালো খেলে নিজেকে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এ ব্যাটার। আগামী ফেব্রুয়ারিতে ভারত-শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেখানে ইমন থাকুক বা না থাকুক- নতুন বছরে এ টপঅর্ডার ব্যাটারের চাওয়া তার দল যেন ভালো খেলে সেখানে। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত শুরুটা হোক বাংলাদেশের। এরপর ধীরে ধীরে ক্রিকেটের অন্য ইভেন্টগুলোতেও যেন সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখে দল- এটাই নতুন বছরে ইমনের চাওয়া।
শেখ মোরছালিন (ফুটবল) : নতুন বছরটা সবার জন্য হোক আনন্দময়- এই প্রত্যাশা জাতীয় দলের তারকা ফুটবলার শেখ মোরছালিনের। নতুন বছরে তার আরও চাওয়া, দেশের মাঠগুলো যেন আরও ভালো হয়। মাঠের বর্তমান যে অবস্থা তাতে অনেকে ইনজুরিতে পড়ছে, ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ছে। সে জন্য মোরছালিন চাইছেন ঘরোয়া ফুটবলের উন্নতি, খেলোয়াড়দের সম্মানী বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা। গত বছর মোরছালিনের গোলে দেশের মাটিতে ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল দল। নতুন বছরে আরও নতুন নতুন ইতিহাস গড়তে চান। দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনতে চান। সামনের বছর জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, তারা যেন ফুটবলের উন্নতিতে ভূমিকা রাখেন এটাই প্রত্যাশা মোরছালিনের।
আমিরুল ইসলাম (হকি) : ২০২৫ সালে যুব হকি বিশ্বকাপে দারুণ খেলেছিল বাংলাদেশ। চ্যালেঞ্জার ট্রফি জিতে ফিরেছিল ঘরে। ওই আসরে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছিলেন ডিফেন্ডার আমিরুল ইসলাম। বিশ্বকাপে ১৮ গোল করে বিশ্ববাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। নতুন বছরে আমিরুলের চাওয়া হকিটা যেন হারিয়ে না যায়। বিশ্বকাপের মাধ্যমে আলোচনায় আসা প্রিয় খেলাটা যেন বেঁচে থাকে। ঘরোয়া লিগ, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ যেন মাঠে গড়ায়। খেলোয়াড়রা যেন স্বাবলম্বী হতে পারে। কারণ মাঠে খেলা থাকলে প্লেয়াররা বেঁচে থাকবে। তাদের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হবে। আগামী বছর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসবে এটা জানা আমিরুলের। নতুন সরকারের কাছে তার চাওয়া হকিটা যেন মাঠে থাকে, সবাই যেন এই খেলাটার উন্নয়নে আন্তরিকভাবে উদ্যোগী হয়।
তানভীর ইসলাম তন্ময় (ভলিবল) : জাতীয় দল এবং বয়সভিত্তিক দলের নিয়মিত মুখ তানভীর ইসলাম তন্ময়। পাশাপাশি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটিরও সদস্য তিনি। নতুন বছরে তানভীরের চাওয়া, সামনে যত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ রয়েছে তাতে যেন দল অংশ নেয়। বয়সভিত্তিক দলগুলোর খেলাও যেন বাদ না পড়ে। কোর্টে খেলা থাকলে ভলিবল তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে বিশ্বাস তানভীরের। বর্তমানে অ্যাডহক কমিটির অধীনে চলছে ফেডারেশন। সামনে নির্বাচন হবে। যারাই নির্বাচনের মাধ্যমে ফেডারেশনে আসবে, তারা যেন আন্তরিকতার সঙ্গে খেলাটাকে এগিয়ে নেওয়ার কাজ করেন নতুন বছরে এটাই প্রত্যাশা তানভীরের।
মো. সেলিম হোসেন (বক্সিং) : জাতীয় বক্সিংয়ে চ্যাম্পিয়ন মো. সেলিম হোসেন। ২০২৫ সালেও দুর্দান্ত এক বছর পার করেছেন রাজশাহী এ বক্সার। নতুন বছরে সেলিমের প্রত্যাশা নিয়মিত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক আসরগুলোতে অংশ নেওয়া, ভালো খেলে দেশের জন্য পদক নিয়ে আসা। ২০২৬ সালে এশিয়ান গেমস এবং কমনওয়েলথ গেমসের মতো বড় আসর রয়েছে। এই আসরগুলোতে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ভালো করার জন্য ফেডারেশন থেকে আরও বেশি সহযোগিতা, ট্রেনিং ফ্যাসিলিটিজ প্রত্যাশা সেলিমের। সেই সঙ্গে নতুন নতুন বক্সার যেন ওঠে আসে, তার জন্য ফেডারেশন যাতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে সেই ভাবনার কথাটাও জানিয়ে রাখলেন। সেলিমের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হচ্ছে দেশের পরিস্থিতি যেন ঠিক হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার এসে যেন সবকিছু ঠিক করে, দেশের বক্সিং এবং বক্সারদের এগিয়ে নিতে যেন কাজ করে। বক্সাররা যেন বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা পায়, সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুবিধা পায়।
আবদুল জহির তানভীর (ব্যাডমিন্টন) : ২০২৫ সাল বাংলাদেশের ব্যাডমিন্টনের জন্য স্মরণীয় এক বছর। গত বছর আন্তর্জাতিক কোনো আসর থেকে প্রথমবার স্বর্ণপদক জেতে লাল-সুবজের দেশ। যাদের হাত ধরে এ সাফল্য আসে তাদের একজন আবদুল জহির তানভীর। বছরের প্রান্তে ইউনেক্স-সানরাইজ বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল সিরিজ টুর্নামেন্টে গৌরব সিংহকে সঙ্গী করে ডাবলসে স্বর্ণ জেতেন তানভীর। নতুন বছরে দেশকে আরও সাফল্য এনে দিতে চান। তানভীরের প্রত্যাশা ফেডারেশন যাতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেয়। বছরে অন্তত ১০-১২টা। ট্রেনিং থেকে বিদেশি কোচ- সবকিছু যেন শাটলারদের জন্য বরাদ্দ থাকে। তানভীর মনে করেন, দল যতবেশি ট্রেনিংয়ে থাকবে, ততবেশি উন্নতি করবে। ২০২৫ সালে ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ এবং সিরিজ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ যে ভালো ফল করেছে তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ট্রেনিং, বিদেশি কোচের ভূমিকা। এ জন্য ফেডারেশনকে ধন্যবাদও জানান। একই সঙ্গে নতুন বছরে সবাইকে শুভেচ্ছা, শুভকামনা জানান সিলেটের এ শাটলার।
মো. সাগর ইসলাম (আরচারি) : বাংলাদেশের আরচারিকে বিশ্ব দরবারের পরিচিত করতে মো. সাগর ইসলামের ভূমিকার কথা কারোর অজানা নয়। ২০২৪ সালে প্যারিস অলিম্পিকে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন রাজশাহীর ছেলে। ২০২৫ সালে নিজের পারফরম্যান্সে খুব বেশি ঝলক দেখাতে না পারলেও ২০২৬ সালে ভালো কিছুর প্রত্যাশা তার। কারণ নতুন বছরে অনেক ইভেন্ট রয়েছে। মার্চে এশিয়া কাপ, এরপর বিশ্বকাপের বিভিন্ন স্টেজ এবং এশিয়ান গেমস। সবগুলো আসরে ভালো করার প্রত্যাশা এ আরচারের। বর্তমানে ছুটিতে নিজ জেলা রাজশাহীতে অবস্থান করছেন। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা বাতিল হওয়াতে কিছুটা সময় পেয়েছেন নতুন করে চাঙ্গা হওয়ার। তবে সাগরের প্রত্যাশা, নতুন বছর হবে আরচারির বছর, আরচারির সাফল্যের বছর। সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন সাগর ইসলাম।
মিজানুর রহমান (কাবাডি) : বাংলাদেশের কাবাডির আলোচিত তারকা রেইডার মিজানুর রহমান। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে আনার ক্ষেত্রে অনেক অবদান রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ টিমের এ কাবাডি খেলোয়াড়ের। ২০২৫ সালে তেমন কিছু করার সুযোগ না পেলেও নতুন বছরে দেশের জন্য অনেক সাফল্য বয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সামনে বিশ্বকাপ কাবাডি টুর্নামেন্ট রয়েছে। সেখানে দলকে ভালো কিছু উপহার দিতে চান। নতুন বছরে জাতীয় নির্বাচন রয়েছে। নির্বাচনের পর ফেডারেশনে আসবে অনেক পরির্বতন। তবে মিজানের চাওয়া ফেডারেশনের চেয়ারে যারাই বসুক, তারা যেন অন্তত কাবাডিটা মাঠে রাখেন। লিগটা যেন নিয়মিত হয়- এটাই নতুন বছরে মিজানের প্রত্যাশা।
সময়ের আলো/কেএইচও