ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আজ রাতে আলাদা ম্যাচে মাঠে নামবে ম্যানচেস্টার সিটি ও লিভারপুল। ম্যানসিটির প্রতিপক্ষ ফুলহ্যাম। শিরোপা লড়াই থেকে ছিটকে পড়ার খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল ম্যানচেস্টার সিটি। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের চেয়ে ৯ পয়েন্টে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় যখন ঘড়ির কাঁটা কাঁপছিল, ঠিক তখনই আসল চ্যাম্পিয়নের মতো ঘুরে দাঁড়াল পেপ গার্দিওলার দল।
লিভারপুলের বিপক্ষে মহানাটকীয়ভাবে ২-১ ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে সিটিজেনরা। অথচ এই প্রতিপক্ষের মাঠে ক্যাটালান কোচের অধীনে গত ১০ ম্যাচে মাত্র একবার জয়ের মুখ দেখেছিল তারা। নাটকীয় জয়ে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে ৬ পয়েন্টে নামিয়ে আনে সিটি।
এবার ফুলহ্যামকে হারাতে পারলে ব্যবধান তিনে নামিয়ে আনার দারুণ সুযোগ থাকছে সিটির সামনে। ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ফিরতে মুখিয়ে আছে গার্দিওলা বাহিনী। নিজেদের মাঠে গত ১৭ প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচের ৫১ পয়েন্টের মধ্যে ৪৪ পয়েন্টই ঝুলিতে পুরেছে তারা (১৪ জয়, ২ ড্র, ১ হার)।
ঘরের মাঠে শেষ ১১ ম্যাচে অপরাজিত সিটিজেনরা। এ ছাড়া সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ের ম্যাচগুলোতে ইতিহাদে সিটির রেকর্ড অবিশ্বাস্য। ২০১০ সালে টটেনহ্যামের কাছে হারের পর গত ৫৫টি ‘মিডউইক’ হোম ম্যাচে হারেনি তারা (৪৭ জয়, ৮ ড্র)।
পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচে সিটির জয় প্রায় অবধারিত। সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ফুলহ্যামের বিপক্ষে শেষ ১৯ ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে ম্যানচেস্টার সিটি। প্রিমিয়ার লিগে জয়ের এই দৌড় টানা ১৬ ম্যাচের। ইংলিশ ফুটবল ইতিহাসের কোনো নির্দিষ্ট দলের বিপক্ষে অন্য দলের এটিই দীর্ঘতম জয়ের রেকর্ড।
দলে জয়ের আনন্দ থাকলেও ইনজুরি তালিকা বেশ দীর্ঘ। জেরেমি ডকু, সাভিনিও, জন স্টোনস, জস্কো ভার্দিওল এবং মাতেও কোভাচিচ এখনও মাঠের বাইরে। লিভারপুলের বিপক্ষে চোট পাওয়া খুসানভ সুস্থ থাকলে মার্ক গুয়ির সঙ্গে রক্ষণে দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া দীর্ঘ আট ম্যাচ পর ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা রুবেন দিয়াসকেও মূল একাদশে ফেরানোর পরিকল্পনা করতে পারেন গার্দিওলা।
আক্রমণভাগে হ্যালান্ড একাই ফুলহ্যামের জন্য আতঙ্ক। এই ক্লাবের বিপক্ষে মাত্র ৭ ম্যাচে ১০টি গোলে অবদান রাখা এই স্ট্রাইকারকে সঙ্গ দিতে পারেন সেমেনিয়ো। তবে গত ম্যাচের নায়ক ফিল ফোডেন বা রায়ান চেরকির মধ্যে যেকোনো একজনকে শুরুর একাদশে ফিরিয়ে চমক দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্য ম্যাচে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে লিভারপুল। সিটিজেনদের বিপক্ষে সবশেষ হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে জয় পেতে পেতেও ২-১ ব্যবধানে হেরেছে অলরেডরা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে পয়েন্ট হারানো লিভারপুলের জন্য এখন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি মৌসুমে এ নিয়ে চতুর্থবার ম্যাচের ৯০ মিনিটের পরের গোলে হার মানতে হলো তাদের।
প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে কোনো দলের জন্য এটিই সর্বোচ্চ ৯০+ মিনিটের গোল হজমের রেকর্ড। এর আগে ওয়াটফোর্ড, ওয়েস্ট হ্যাম ও সাউদাম্পটনের মতো দলগুলো এমন লজ্জার রেকর্ডে নাম লিখিয়েছিল। লিগের ১৩ ম্যাচ বাকি থাকতেই সেই রেকর্ডে ভাগ বসাল আর্নে স্লটের দল।
এই হারে লিগ টেবিলে ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে লিভারপুল। চতুর্থ স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের চেয়ে তারা এখন ৫ পয়েন্টে পিছিয়ে। গতবার লিগ জেতা লিভারপুল এবার এরই মধ্যে ৮টি ম্যাচ হেরে বসেছে, যা গত মৌসুমের তুলনায় দ্বিগুণ। গত ৭ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় পাওয়ায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টিকেট নিশ্চিত করা এখন কোচ আর্নে সøটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে গত ১৯ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ড তাদের মনে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে অ্যাওয়ে ম্যাচের পরিসংখ্যান মোটেও সুবিধার নয়। শেষ ১০টি অ্যাওয়ে ম্যাচের মাত্র দুটিতে জিতেছে অল-রেডরা। চলতি মৌসুমে প্রতিপক্ষের মাঠে ১২ ম্যাচে ২১টি গোল হজম করেছে তারা, যা লিগের তলানিতে থাকা উলভারহ্যাম্পটনের চেয়েও বেশি।
লিভারপুল শিবিরে ইনজুরির মিছিলটও দীর্ঘ। আলেকজান্ডার ইসাক, জেরেমি ফ্রিম্পং, কনর ব্র্যাডলি ও জিওভানি লিওনি আগে থেকেই চোটের কারণে মাঠের বাইরে। জো গোমেজও ফিরতে পারেননি। এর ওপর নতুন বিপদ হিসেবে যোগ হয়েছেন সোবোসলাই। সিটির বিপক্ষে গোল করলেও ম্যাচের শেষ দিকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ায় সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে তাকে ছাড়াই নামতে হবে লিভারপুলকে। তার পরিবর্তে কার্টিস জোন্সকে রাইট-ব্যাক পজিশনে দেখা যেতে পারে।
মাঠের পারফরম্যান্সে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফরোয়ার্ডদের ফর্ম। গত ১ নভেম্বরের পর লিগে গোলের দেখা পাননি মোহাম্মদ সালাহ। অন্যদিকে স্ট্রাইকার হুগো একিতিকে শেষ ৬ ম্যাচের ৫টিতেই গোল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। গোলখরা কাটাতে এই ম্যাচে সালাহ-একিতিকের সঙ্গে ফ্লোরিয়ান উইর্টজ এবং কোডি গাকপোর ওপরই ভরসা রাখতে পারেন আর্নে স্লট।
সময়ের আলো/কেএইচও