অবশেষে গুঞ্জনই সত্যি হলো। বিদ্রোহী ইউরোপিয়ান সুপার লিগ (ইএসএল) প্রকল্প থেকে নিজেদের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিল বার্সেলোনা। শনিবার ক্লাবের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বার্সেলোনার এই প্রস্থানের পর একসময়ের বহুল আলোচিত এই প্রকল্পে এখন একমাত্র সদস্য হিসেবে টিকে রইল তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ।
গতকাল ক্লাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে কাতালান ক্লাবটি জানায়, ‘বার্সেলোনা ঘোষণা করছে যে, ইউরোপিয়ান সুপার লিগ প্রকল্প থেকে সরে আসার বিষয়টি আজ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এবং ক্লাবগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।’ মূলত উয়েফার সঙ্গে পুনরায় সুসম্পর্ক স্থাপন এবং ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনে (ইসিএ) ফেরার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বার্সেলোনা সভাপতি হুয়ান লাপোর্তা।
২০২১ সালের এপ্রিলে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ১২টি শীর্ষ ক্লাব মিলে সুপার লিগের ঘোষণা দিয়েছিল। তবে ফিফা, উয়েফা এবং ফুটবল সমর্থকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ৯টি ক্লাব এই প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায়। তখন কেবল রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস এই প্রকল্পে অনড় ছিল। গত বছরের জুনে জুভেন্টাস সরে যাওয়ার পর এবার বার্সেলোনাও একই পথ অনুসরণ করল।
সুপার লিগের স্বপ্নদ্রষ্টা ও রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেস শুরু থেকেই দাবি করে আসছিলেন যে, ফুটবলকে বাঁচাতে এই লিগের কোনো বিকল্প নেই। তবে বার্সেলোনার মতো বড় শক্তির বিদায়ে পেরেসের সেই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা এখন খাদের কিনারায় গিয়ে ঠেকেছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বার্সার এই সরে দাঁড়ানোর ফলে সুপার লিগ প্রকল্পটি কার্যত তার অস্তিত্ব হারানোর মুখে পড়ল।
সময়ের আলো/এআর