পাক-ভারত নাটকে বাংলাদেশের লাভ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

দীর্ঘ টানাপড়েন, কূটনৈতিক চাপ আর ক্রিকেট রাজনীতির জট কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর। ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানো কেন্দ্র করে প্রায়

2026-02-11T04:42:12+00:00
2026-02-11T04:42:12+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
পাক-ভারত নাটকে বাংলাদেশের লাভ
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪২ এএম 
প্রতীকী ছবি
দীর্ঘ টানাপড়েন, কূটনৈতিক চাপ আর ক্রিকেট রাজনীতির জট কাটিয়ে অবশেষে স্বস্তির খবর। ভারতের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানানো কেন্দ্র করে প্রায় ১০ দিন ধরে চলা অচলাবস্থার অবসান হয়েছে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি, রোববার শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় প্রায় একই সময়ে এ বিষয়ে আলাদা আলাদা বিবৃতি দেয় পাকিস্তান সরকার ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। উভয় বিবৃতিতেই জানানো হয়, টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক দিক, সদস্য দেশগুলোর স্বার্থ এবং ক্রিকেটের ধারাবাহিকতা বিবেচনায় নিয়েই ম্যাচটি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

পাকিস্তান সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়- শ্রীলঙ্কা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ কয়েকটি দেশ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) ম্যাচ বর্জন না করার অনুরোধ জানিয়েছিল। তাদের আশঙ্কা ছিল, এই ম্যাচ না হলে একাধিক দেশ বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে। এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ বিষয়ে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।

সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়- আন্তর্জাতিক আলোচনার ফলাফল ও বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর অনুরোধের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার জাতীয় দলকে ১৫ ফেব্রুয়ারি মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছে। ক্রিকেটের চেতনা রক্ষা এবং বিশ্বব্যাপী এই খেলাটির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আইসিসিও জানিয়েছে, পিসিবির সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সংস্থাটির ভাষ্য, সব সদস্য দেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রেখে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজনের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনায় ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছিল বিসিবি। সোমবার ঢাকায় দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বোর্ড।

বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, সাম্প্রতিক নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা ও ইতিবাচক ভূমিকার জন্য পিসিবি, আইসিসি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। বিশেষভাবে পিসিবির চেয়ারম্যান মোহসিন রাজা নাকভি, তার বোর্ড এবং পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের প্রশংসা করা হয়।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, এই সময়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পাকিস্তান যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক পাকিস্তান সফর ও আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে, ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি আয়োজনের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে পুরো ক্রিকেটব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বাংলাদেশের প্রসঙ্গ। ভারত সফরে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইসিসির ‘দ্বৈত নীতি’র অভিযোগ তুলেছিল পিসিবি। তবে আইসিসি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ ঘটনায় বাংলাদেশের ওপর কোনো শাস্তি দেওয়া হবে না।

এ ছাড়া বাংলাদেশকে ২০২৮-৩১ মেয়াদে আরও একটি আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে সন্তোষ প্রকাশ করে বিসিবি পিসিবিকে ধন্যবাদ জানায় এবং ভারত ম্যাচে অংশ নিতে পাকিস্তানকে অনুরোধ করে।

আলোচনার সময় পিসিবি আইসিসির রাজস্ব বণ্টন কাঠামো নিয়েও আপত্তি তুলেছিল বলে জানা গেলেও, সরকারি বা আইসিসির বিবৃতিতে এ বিষয়ে কিছু উল্লেখ নেই। ভারত-পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় বা ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের কোনো শর্তও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছে পিসিবি।

এর আগে লাহোরে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এবং আইসিসি পরিচালক ইমরান খাজা বৈঠকে বসেন। সেখানে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে অবস্থান নেয় পিসিবি।

সবশেষে সোমবার সন্ধ্যায় দ্রুত পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। বাংলাদেশের বিষয়ে আইসিসির সিদ্ধান্ত, বিসিবির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং পাকিস্তান সরকারের সরাসরি নির্দেশনার পরই ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

উল্লেখ্য, গত মাসে মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। আইসিসি সেই আবেদন নাকচ করলে বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। সেই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল’ ও ‘দ্বৈত নীতি’ বলে আখ্যা দেন পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি।

নকভি তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে যে নিয়ম প্রযোজ্য, তা সবার জন্যই সমান হওয়া উচিত। যদি কোনো দেশ নিরাপত্তার কারণে অন্য দেশে খেলতে অস্বীকৃতি জানাতে পারে, তা হলে বাংলাদেশেরও সেই অধিকার থাকা উচিত।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতের ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আয়োজন করা হয়েছিল। সে ক্ষেত্রে ভারতের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি, যা স্পষ্টতই বৈষম্যমূলক।

সব মিলিয়ে, রাজনীতি, কূটনীতি ও ক্রিকেটীয় স্বার্থের জট ছিঁড়ে শেষ পর্যন্ত মাঠেই গড়াচ্ছে সমাধান। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তান।

সময়ের আলো/কেএইচও


  বিষয়:   পাক-ভারত  বাংলাদেশ 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: