বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটিতে রদবদল হয়েছে। সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ল্যাবএইড গ্রুপের পরিচালক ব্যারিস্টার ওয়াসিফ ফারহান শায়ের। বয়সে তরুণ (মাত্র ২৬ বছর) হলেও অভিজ্ঞতা ভান্ডার তার সুবিশাল। টেবিল টেনিসের উন্নতি-উন্নয়নকল্পে দারুণ সব পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়াসিফ ফারহানের সেসব অভিজ্ঞতার কথাই শুনেছেন সময়ের আলো সিনিয়র রিপোর্টার মামুন হোসেন।
সময়ের আলো : টেবিল টেনিস ফেডারেশনের নতুন সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন। অ্যাডহক কমিটির মেয়াদও খুব বেশি দিনের নয়। এই অল্প সময়ে আপনার কী পরিকল্পনা থাকবে?ওয়াসিফ ফারহান : অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ কত দিন পর্যন্ত আছে টাইম ফ্রেমটা জানা নেই। জাতীয় নির্বাচনের পর কী হয় আসলে নির্দিষ্ট করে বলতে পারছি না। দায়িত্বে এলাম কারণ টেবিল টেনিসে আমরা একটা ইতিহাস আছে। আমি যদি একটু কন্টেক্সট বলি যে, ১২ বছর বয়স থেকে কোচের কাছে খেলি। তারপর আমি ব্যাচেলরস করতে লন্ডনে যাই। ওখানেও খেলি চায়নার বি টিমের একজন কোচের কাছে।
তারপর পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে যখন কার্ডিফ থেকে লন্ডন গেলাম, আমার ইউকের ক্লাব ‘ইব্যাট’ (বিখ্যাত ক্লাব) ওখানেও আমি এক বছর খেলি। এর মাঝে ২০২২ সালে আমি আমেরিকার একটা প্রফেশনাল টেবিল টেনিস একাডেমিতে এক মাস ট্রেনিং করি। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার পর আমি ২০২২ সালে টেবিল টেনিস ক্লাব ‘ফিউচার স্পোর্টিং’ প্রতিষ্ঠা করি। ২০২৪ সালে স্থায়ীভাবে দেশে চলে আসি। আমেরিকায় ট্রেনিং করার সময় আমার একজন জাপানিজ কোচের সঙ্গে পরিচয় হয়। পারসোনালি আমি জাপানিজ পারি বলে তার সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক হয়ে যায় এবং আমি তাকে বাংলাদেশে তিন মাসের জন্য নিয়ে আসি। ফিউচারে তাকে আবার আনার প্ল্যান আছে।
সময়ের আলো : আপনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শুনছিলাম। ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হিসেবে নিশ্চয়ই কিছু পরিকল্পনা আছে। সেই পরিকল্পনা কী?ওয়াসিফ ফারহান : ফেডারেশনের কমিটি কত দিন থাকবে সেটা তো বলতে পারছি না। যদিও আমি দীর্ঘদিন থাকতে চাই। আমার পরিকল্পনার কথা যদি বলি, প্রিমিয়ার লিগটা প্রত্যেক বছরই হওয়ার কথা এবং এটা প্লেয়ারদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ইনকাম সোর্স। কারণ তাদের আয় বলতে লিগ থেকেই মেইনলি আসে। সো এটা গত চার বছর না হওয়াটা খুবই দুঃখজনক। এটা আমি সবার আগে করতে চাই। আর আরেকটা করতে চাই যে, ফরেন কোচের ব্যবস্থা করা। যে জাপানিজ কোচ ইউতাকা এসেছিল ওকে বা ওর মতো কাউকে যদি আমরা নিয়ে আসি ছয় মাস কিংবা এক বছরের জন্য, তখন প্লেয়ারদের মান ডেফিনেটলি উন্নত হবে।
আমি ল্যাবএইড গ্রুপের সঙ্গে জড়িত আছি, সো টেবিল টেনিসে অনেকেই বলে যে ভবিষ্যতে কী করব? কেউ কেউ আছে যারা তাদের ভবিষ্যৎ নিজেই গড়ে নিতে পারে। একাডেমিতে বা পারসোনালি কোচিং করে বা করপোরেট লাইনে। বাট অনেকেই দেখা যায় যে খেলার বাইরে কিছু করতে পারে না, সো আলটিমেটলি সবাই হারিয়ে যায়। যেটা করতে পারি পরিকল্পনা আছে যে, ন্যাশনাল টিম বা ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নদের চাকরির ব্যবস্থা। যে যে ডিপার্টমেন্টে ভালো ধরেন সেলস হতে পারে বা কাস্টমার সার্ভিস হতে পারে, মার্কেটিংও হতে পারে। তারা ফুল টাইমে জব করবে, বাট এটার ফ্লেক্সিবিলিটিটা হবে যে যখন যার ছুটি লাগবে, ধরেন বিভিন্ন সময় ক্যাম্প হয় বা বাইরের ট্যুর হয়, তখন তার ছুটি ফ্লেক্সিবল হবে।
সময়ের আলো : অভিজ্ঞ সংগঠক খন্দকার হাসান মুনীরের স্থলাভিষিক্ত হলেন। হাসান মুনীর তৃণমূলের খেলোয়াড় তৈরিতে অনেক কাজ করেছেন। হৃদয়, খৈ খৈয়ের মতো প্রতিভাবান তার সময়ে বিকশিত হয়েছে। এমন একজন সংগঠকের স্থলাভিষিক্ত হওয়াটা চাপ হিসেবে দেখছেন কি না?ওয়াসিফ ফারহান : হৃদয়ের কথা যদি বলি সে আসলে রংপুরে খেলা শিখেছে। মুনীর সাহেবের যে কন্ট্রিবিউশন, আমি যদি অনেস্টলি বলি মেইন কন্ট্রিবিউশন হলো উনি একটা ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছিলেন। ওই ক্যাম্প করাতে জুনিয়র প্লেয়ারদের যে উন্নতি হয়েছে এটা আমি ডিনাই করছি না। খৈ খৈয়ের কথা যদি বলেন সে কিন্তু বিকেএসপির প্লেয়ার, এখনও বিকেএসপিতেই আছে। হৃদয় রংপুরের আর খৈ খৈ হলো বিকেএসপির। এর পাশাপাশি উনি ওদের একটু বুস্টআপ করেছেন ক্যাম্পের মাধ্যমে। ওই ক্যাম্পটাই উনার আমি মনে করি মেইন কন্ট্রিবিউশন। আমি কারও সমালোচনা করতে চাই না, কিন্তু মেইন যে সমস্যা তা হলো চার বছর ধরে লিগ হয় না। সো ডেফিনেটলি উনার কন্ট্রিবিউশন ছিল বাট কিছু ল্যাকিংসও ছিল। আমি মনে করি আমার যে টেবিল টেনিসের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বা ল্যাবএইড গ্রুপের যে অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু করতে পারব।
সময়ের আলো : টেবিল টেনিসে আর্থিক সংকটের কথা প্রায়শই শোনা যায়। টুর্নামেন্ট-লিগ আয়োজনে এটা একটা বড় অন্তরায়। আপনি একটা বড় গ্রুপের সঙ্গে জড়িত। এর বাইরে ফেডারেশন সভাপতিসহ অন্য কর্মকর্তারাও আছেন। এবার নিশ্চয়ই আর্থিক কারণে কোনো খেলা আটকে যাবে না?ওয়াসিফ ফারহান : আমি ফিউচার স্পোর্টিং ক্লাবের ওনার, পাশাপাশি বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের একজন রিপ্রেজেন্টেটিভ। আমি এখন একটা ক্লাবের জন্য তো কাজ করতে পারব না, আমাকে কাজ করতে হবে সবার জন্য। সবার আগে যেটা বললাম যে একটা ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটির ব্যবস্থা করা এবং খেলার মানটা বাড়ানোর জন্য বাইরে থেকে কোচ নিয়ে আসা। আর অবকাঠামো নিয়ে যদি বলি, ধরেন আমাদের খেলার জায়গাটা একটু ছোট হয়ে যাচ্ছে। এখানে যদি আমরা আরও টেবিল বাড়াতে পারি, ট্রেনিংটা যদি আমরা সকাল-বিকাল দুবেলা করতে পারি এবং প্রপার ডায়েট মেইনটেইন করে। সবকিছুর একটা গাইডলাইন দরকার। এই গাইডলাইনটা প্লেয়ারদের দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এআর