পুরোনো
বছরকে পেছনে ফেলে আনন্দ-উল্লাস, আতশবাজি ও নানা উৎসবের মধ্য দিয়ে
বিশ্বজুড়ে মানুষ নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে। সময়ের নিয়মে আরেকটি বছর
মিলিয়ে গেছে অতীতে, শুরু হয়েছে নতুন যাত্রা। খবর বিবিসির।
প্রশান্ত
মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্রগুলো থেকে শুরু করে ইউরোপ ও আমেরিকার ব্যস্ত শহর;
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছুঁয়েছে। তবে
সময় আলাদা হলেও উদযাপনের আনন্দ ছিল সর্বত্র।
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা
অনুযায়ী সবার আগে ইংরেজি নতুন বছরকে বরণ করে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ও
কিরিবাতি দ্বীপপুঞ্জ। অকল্যান্ডের স্কাই টাওয়ারে বর্ণিল আতশবাজির ঝলকানিতে
শুরু হয় ২০২৬ সালের যাত্রা। এরপর নতুন বছরে প্রবেশ করে অস্ট্রেলিয়া। সিডনির
হারবার ব্রিজে আয়োজিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আতশবাজি প্রদর্শনী দেখতে জড়ো হয়
লাখো মানুষ। একই সময়ে ভানুয়াতু, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, পাপুয়া নিউগিনির
স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল বোগেনভিল এবং রাশিয়ার কিছু অংশেও নতুন বছরের সূচনা হয়।
সময়
গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপে শুরু হয় নববর্ষ উদযাপন। বাংলাদেশ সময়
বৃহস্পতিবার ভোরে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ঘড়ির কাঁটা ১২টা
ছোঁয়। লন্ডনে টেমস নদীর তীরে লন্ডন আইয়ের সামনে প্রায় এক লাখ মানুষ জড়ো হয়
আতশবাজি দেখার জন্য।
লন্ডনের আকাশে একযোগে আলোকিত হয় প্রায় ১২
হাজার আতশবাজি। এই আয়োজনের কোরিওগ্রাফি প্রস্তুত করতে সময় লেগেছে কয়েক মাস।
নতুন বছরের সূচনা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী বিগ বেনের ঘণ্টাধ্বনিও বাজানো হয়।
টেমস নদীর ওপর আতশবাজি প্রদর্শনীর পাশাপাশি দেশজুড়ে নানা আয়োজনে উৎসবে মেতে
ওঠে মানুষ।
জার্মানির বার্লিনে ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের সামনে হাজার
হাজার মানুষ জড়ো হয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। স্কটল্যান্ডের রাজধানী
এডিনবার্গে ঐতিহ্যবাহী হগম্যানি উৎসবে এডিনবার্গ দুর্গের ওপর মধ্যরাতে
আয়োজন করা হয় দর্শনীয় আতশবাজির। খারাপ আবহাওয়ার কারণে গত বছর এই আয়োজন
বাতিল হয়েছিল। এবার আবার লাইভ মিউজিক, ডিজে ও স্ট্রিট থিয়েটারের মাধ্যমে
পুরো শহর রূপ নেয় বিশাল স্ট্রিট পার্টিতে।
নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড,
অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন, ডেনমার্ক,
জিব্রাল্টার, ভ্যাটিকান সিটি ও মোনাকোসহ ইউরোপের বহু দেশে নতুন বছর উপলক্ষে
নানা আয়োজন করা হয়।
এশিয়াতেও ছিল জমকালো উদযাপন। চীনের বেইজিংয়ে
আতশবাজির পাশাপাশি নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও
উত্তর কোরিয়াও নতুন বছরকে স্বাগত জানায়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে টোকিওর
শিবুয়া এলাকায় কাউন্টডাউন অনুষ্ঠান টানা ষষ্ঠবারের মতো বাতিল রাখা হয়।
বিশ্বের
বৃহত্তম সময় অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত দেশ রাশিয়ার অনেক অঞ্চল বাংলাদেশ সময়
মধ্যরাতেই নতুন বছরে প্রবেশ করে। কিছু অঞ্চলের সময় ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে
মিলেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা ছিল আতশবাজি প্রদর্শনীর
কেন্দ্রবিন্দু। বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনটি ঘিরে আলোর ঝলকানিতে নতুন বছরকে
বরণ করে নেয় বিপুলসংখ্যক মানুষ।
দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিলের রিও ডি
জেনেইরোর কোপাকাবানা সৈকতে আয়োজন করা হয় বিশাল সংগীত ও আতশবাজির পার্টি।
আয়োজকদের দাবি, এই উদযাপন আগের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড
গড়তে পারে।
বাংলাদেশে ঘড়ির কাঁটায় ১২টা বাজতেই শুরু হয় ২০২৬ সাল।
এর আধা ঘণ্টার মধ্যেই নেপাল, ভারত, শ্রীলঙ্কাও নতুন বছরে প্রবেশ করে। এ
উপলক্ষে বিভিন্ন দেশে আতশবাজি, আলোকসজ্জা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে মানুষ নতুন
বছরকে বরণ করে নেয়।
সময়ের আলো/এসকে/