তুলি-আরমানের ভোটযুদ্ধ জমিয়ে দিয়েছেন সাজু

এসএম আলমগীর

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে যে কটি আসন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি ঢাকা-১৪। গোয়েন্দা

2026-02-10T09:39:00+00:00
2026-02-10T09:39:21+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
তুলি-আরমানের ভোটযুদ্ধ জমিয়ে দিয়েছেন সাজু
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৯ এএম  আপডেট: ১০.০২.২০২৬ ৯:৩৯ এএম
প্রতীকী ছবি
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে যে কটি আসন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি ঢাকা-১৪। গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি আসনের মধ্যে ঢাকা-১৪ বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই আসন নির্বাচনি ডামাডোলের একবারে শুরু থেকেই আলোচনায় উঠে আসে। কারণ এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এমন দুই প্রার্থী, যারা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে গুমের কারণে আলোচিত ছিলেন। একজন ভাই গুমের কারণে সামাজিক আন্দোলন করে আলোচনায় আসেন, আরেকজন নিজেই গুমের শিকার হয়েছিলেন।

তাদের একজন সানজিদা ইসলাম তুলি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। এই দুই প্রার্থীর সঙ্গে আরেকজন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন এই আসনের সাবেক বিএনপি দলীয় এমপি এসএ খালেকের ছেলে ও দারুস সালাম থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু। তিনি ফুটবল মার্কা প্রতীকে নির্বাচনি মাঠে লড়ছেন। এ আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু ইউসুফ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির রিয়াজ উদ্দিনসহ এক ডজন প্রার্থী।

ঢাকা-১৪ আসনে এক ডজন প্রার্থী থাকলেও মূলত লড়াই হবে এখানে ত্রিমুখী। বিএনপির তুলি এবং জামায়াতের আরমানের মধ্যে মূল লড়াই হলেও এখানে লড়াই আরও জমিয়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজু। বিগত কয়েক দিন রাজধানীর ঢাকার এই গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সঙ্গে আলাপে এমনই আভাস মিলেছে।

এদিকে আর মাত্র এক দিন পরই যেহেতু ভোট, তাই প্রার্থীরা একেবারে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে প্রার্থীরা বিভিন্ন এলাকায় ছুটে বেড়িয়েছেন ভোটারের দ্বারে দ্বারে। মিছিল-মিটিং, সভা-সমাবেশ করে একদিকে ভোটারদের যেমন ভোট প্রার্থনা করছেন, অন্যদিকে প্রার্থীরা দিচ্ছেন নানা রকম প্রতিশ্রুতি। তবে ভোটাররা বলছেন, যে প্রার্থী এলাকার উন্নয়নে ভালো কাজ করবেন, জনদুর্ভোগ কমাতে পারবেন, মাদক ও চাঁদাবাজ-ছিনতাইকারীদের শক্তভাবে দমন করতে পারবেন তাকেই ভোট দেবেন।
আরও পড়ুন

কল্যাণপুর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা জালাল উদ্দিন সময়ের আলোকে বলেন, ‘এই এলাকার প্রধান কিছু সমস্যার মধ্যে অন্যতম কয়েকটি হচ্ছেÑ জলাবদ্ধতা, মশার উপদ্রব, গ্যাস ও পানির সংকট এবং সরু রাস্তাঘাট। এ ছাড়া এই এলাকায় মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী এবং চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্যও আছে। আমরা চাইব আসন্ন নির্বাচনে এমন একজন এই এলাকার এমপি নির্বাচিত হোনÑ যিনি এসব সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।’

মধ্য পাইকপাড়ার আরেক ভোটার নাজমুল ইসলাম সময়ের আলোকে বলেন, ‘ঢাকা-১৪ আসনে অতীতে সবসময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যেই মূল লড়াই হয়েছে। এবার যেহেতু আওয়ামী লীগ নেই, তাই লড়াইটা হবে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। তবে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাজুও বেশ শক্ত প্রার্থী। তাই এখানে লড়াইটা হবে ত্রিমুখী। তবে আওয়ামী সমর্থিত ভোটাররা কোন দিকে যায়- সেটি একটা ফ্যাক্টর হবে এই আসনে। তবে সাজু বেশ ভোট টানলেও জেতার সম্ভাবনা বেশি বিএনপির সানজিদা তুলির এবং জামায়াতের ব্যারিস্টার আরমানের। এই দুজনের মধ্যে যে কেউ এমপি হবে এখানে।’

অবশ্য বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি সময়ের আলোকে বলেন, ‘আমি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। কারণ সারা দেশে বিএনপির ধানের শীষের জোয়ার উঠেছে। সে জোয়ারের ঢেউ ঢাকা-১৪ আসনেও লাগবে। তা ছাড়া বিগত সময়ে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে আমি এই এলাকার মানুষের সঙ্গে মিশেছি, তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়েছি। অলি-গলি হেঁটে হেঁটে এই এলাকার মানুষে সুবিধা-অসুবিধা কি সেগুলো জানার চেষ্টা করেছি। ফলে এই এলাকার মানুষের চাহিদাগুলো সম্পর্কে আমি এখন শতভাগ ওয়াকিবহাল। তাই আমি এমপি নির্বাচিত হলে এই এলাকার মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারব বলে আমি মনে করি। তাই ভোটারদের কাছে আমার অনুরোধ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে এবং বিএনপিকে জয়যুক্ত করবেন।’

এই আসনের জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান সময়ের আলোকে বলেন, ‘আপনারা ইতিমধ্যেই দেখেছেন সারা দেশে জামায়াতের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। দেশের মানুষ পরিবর্তন চাচ্ছে। সবার মুখে এবার একই কথা এবার জামায়াতকে দেখতে চায়। একই রকম আমি যে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, ঢাকা-১৪ আসনেও জামায়াতের পক্ষে জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই আসন থেকে দাঁড়িপাল্লাকে বিপুল ভোটে জয়ী করতে পারব বলে আমার বিশ্বাস। আমি নির্বাচিত হলে ঢাকা-১৪ আসনের চেহারা পাল্টে দেব। রাস্তাঘাট, শিক্ষা-চিকিৎসাসহ জীবন-মান উন্নয়নে আমি ব্যাপক কাজ করব। ভোটারদের কাছে আমি এ রকমই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং সে প্রতিশ্রুতি আমি রক্ষা করতে চায়।’

এই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক সাজু সময়ের আলোকে বলেন, ‘ঢাকা-১৪ আসনের সঙ্গে আমাদের নাড়ির সম্পর্ক। এই এলাকার আলো-বাতাসে আমি বেড়ে উঠেছি। আমার বাবা এসএ খালেক ছিলেন বিএনপির জনপ্রিয় নেতা ও সাবেক এমপি। এ কারণে দল থেকে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম, কিন্তু পাইনি। অন্য প্রার্থীদের মতো আমি বাইরের লোক নই। এখানে আমাদের পরিবারের একটি প্রভাব আছে এই এলাকায়। আমার বাবা এবং আমরা এই এলাকার মানুষের জন্য অনেক কাজ করেছি। মানুষের সুখে-দুঃখে আমরাই সবসময় পাশে দাঁড়াই। সে জন্য আমি ভোটে দাঁড়িয়েছি এবং ফুটবল মার্কা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমি বিপুল ভোটে জয়ী হব আগামী বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে।’

জানা গেছে, মিরপুর-১, কল্যাণপুর এবং সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন ও বনগাঁও ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৪ আসনে আছে শাহ আলী মাজার, গাবতলী বাস টার্মিনাল, চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, মিরপুর স্টেডিয়াম। মিরপুর থেকে সাভারের কাউন্দিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এ আসনে মধ্যবিত্ত, শ্রমজীবী, ভাড়াটে বাসিন্দা ও তরুণ ভোটারের সংখ্যা বেশি। কিশোর গ্যাং, মাদক ও নিরাপত্তা ইস্যু এ আসনের নির্বাচনি আলোচনায় প্রভাব ফেলছে।

রাজধানী ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ আসনের মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪ জন- যার মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৬, নারী ২ লাখ ২৩ হাজার ৭ ও হিজড়া ৪ জন। দ্বাদশ নির্বাচনে এই আসনে ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ১৮ হাজার ২১২ জন, অর্থাৎ এ বছর ভোটার বেড়েছে ৩৭ হাজার ৮৩২ জন।

মিরপুর থেকে সাভারের কাউন্দিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এ আসনে শ্রমজীবী ও মধ্যবিত্ত ভোটারের সংখ্যা বেশি। নিরাপত্তা, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এ আসনের নির্বাচনি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া রয়েছে বুড়িগঙ্গার ওপর একটি সেতুর দাবি। 

ভোটারদের মধ্যে মূল আলোচনা ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা আর ফুটবল নিয়ে। তবে প্রতিন্দ্বন্দ্বিতায় আরও আছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. ওসমান আলী (একতারা), সিপিবির রিয়াজ উদ্দিন (কাস্তে), জাতীয় পার্টির মো. হেলাল উদ্দীন (লাঙ্গল), বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির মো. লিটন (হাতি), গণফোরামের মো. জসিম উদ্দিন (উদীয়মান সূর্য), এলডিপির মো. সোহেল রানা (ছাতা), এবি পার্টির মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান (ঈগল), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির নুরুল আমিন (তারা) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবু ইউসুফ (হাতপাখা)।

এএডি/


  বিষয়:   তুলি  আরমান  ভোটযুদ্ধ  সাজু 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: