রাজপথের অভিজ্ঞ জাহাঙ্গীরের সামনে নবাগত আদীব

সাব্বির আহমেদ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে অনেকটা ভালো অবস্থানে আছেন বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ ১১

2026-02-10T09:42:36+00:00
2026-02-10T09:42:36+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
রাজপথের অভিজ্ঞ জাহাঙ্গীরের সামনে নবাগত আদীব
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৪২ এএম 
ফাইল ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৮ আসনে অনেকটা ভালো অবস্থানে আছেন বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তার প্রধান প্রতিপক্ষ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির নেতা আরিফুল ইসলাম আদীব। বয়সে একেবারে তরুণ আদীবকে লড়তে হচ্ছে রাজপথে বিএনপির আন্দোলনের পরিচিত মুখ জাহাঙ্গীরের সঙ্গে। ২০২০ সালে উপনির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন তিনি। সচেতন ভোটাররা বলছেন, স্থানীয় জাহাঙ্গীর দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। অনেকটা পরিপক্ব তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার। বহু মামলা, জেল-জুলুমের শিকার জাহাঙ্গীর হোসেন। আদীবের জন্য তাই লড়াইটা কঠিন হবে। তবে জুলাই আন্দোলনে বড় ভূমিকা ছিল আদীবের। সেখান থেকেই তিনি পরিচিতি লাভ করেন। সঙ্গে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সর্বাত্মক সমর্থন।

উত্তরা, উত্তরখান, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, তুরাগ থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৮ সংসদীয় আসন। ঢাকার অন্যতম প্রবেশদ্বার এটি। যে পথ দিয়ে দেশের ২৭টি জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ। বিমানবন্দর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্য বিবেচনায় এই আসনের ভোটারদের প্রত্যাশা আর আগ্রহ ব্যাপক। এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৮৩ জন। এর মধ্যে উত্তরখান ও দক্ষিণখানেই ভোটার আছেন প্রায় তিন লাখ।

উত্তরখানের বাসিন্দা গৃহিণী আফরোজা সাদিকা বলেন, আমাদের এলাকায় সবচেয়ে বড় সমস্যা রাস্তাঘাট ও জলাবদ্ধতা। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ভেতরের অনেক ওয়ার্ডের রাস্তাঘাট এতই খারাপ যে বর্ষাকালে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। যারা এসব সমস্যা দূর করতে পারবে আমরা তাদেরকে ভোট দেব। রাস্তাঘাটের সমস্যা নিয়ে প্রায় একই কথা বলেন দক্ষিণখানের বাসিন্দা বেসরকারি চাকুরে মাহবুবুর রহমান। তার মতে, বিএনপির প্রার্থী অনেকটা এগিয়ে। এলাকায় বেশ পরিচিত ও দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় তিনি। আওয়ামী লীগের সময় বেশ নির্যাতন নিপীড়নের শিকার তিনি। 

এদিকে খিলক্ষেত ও তুরাগ এলাকার সব বাসিন্দার কণ্ঠে প্রায় একই অভিযোগ। খিলক্ষেত ও কসাইবাড়ী রেলগেট এলাকায় দিনের বেশিরভাগ সময় রিকশার দীর্ঘ যানজট লেগে থাকে। রেললাইনের পূর্ব পাশের বেশ কিছু এলাকার রাস্তা গ্রামগঞ্জের রাস্তার চেয়েও করুণ।

জানা গেছে, ঢাকা-১৮ আসনটি উত্তরা, বিমানবন্দর, খিলক্ষেত, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও কুড়িল নিয়ে গঠিত। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১, ১৭, ৪৩, ৪৪, ৪৫, ৪৬, ৪৭, ৪৮, ৪৯, ৫০, ৫১, ৫২, ৫৩ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড এই আসনের মধ্যে পড়েছে। নির্বাচনে এই আসনে প্রার্থী ১০ জন। তবে আলোচনায় আছেন দুজন। কিছুটা প্রচার চালিয়ে এখন মাঠে নেই রেল ইঞ্জিন প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার।

প্রচারের শুরুতে ভিন্নধর্মী কাজ নিয়ে আলোচনায় বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। নির্বাচন উপলক্ষে তার বাসায় প্রতিদিন অসংখ্য নেতাকর্মী ভিড় করছেন। এতে সড়কে চলাফেরা করতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি হয়। তিনি ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে ‘সরি ও ধন্যবাদ’ লেখা চিরকুট পৌঁছে দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। অফিসিয়াল প্যাডে অভিনব চিঠি দিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন বিএনপির এই প্রার্থী। সেই সঙ্গে নির্বাচিত হওয়ার আগেই জনগণের কাছে নিজের জবাবদিহিতাও স্পষ্ট করছেন তিনি।

সম্প্রতি এক নির্বাচনি এলাকায় গণসংযোগের সময় বিএনপি প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত আরিফুল ইসলাম একে অপরের মুখোমুখি হন। রাস্তার এক পাশ থেকে মিছিল থামিয়ে আরিফুলকে ডেকে কোলাকুলি করেন জাহাঙ্গীর। মুহূর্তেই দৃশ্যটি ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিকমাধ্যমে। এতে বেশ প্রশংসা কুড়ান বিএনপির প্রার্থী।

নির্বাচন নিয়ে এস এম জাহাঙ্গীর সময়ের আলোকে বলেন, আমি প্রচারে বেশ সাড়া পেয়েছি। চেষ্টা করছি সবার কাছে পৌঁছাতে। এই এলাকায় আমি ৩০ বছর ধরে রাজনীতি করে আসছি। ১৪টি ওয়ার্ডের সবাই আমাকে চেনে। কমবেশি সবখানে আমাদের দলীয় কর্মী-সমর্থক আছে। বাকিটা জনগণ মূল্যায়ন করবে। তিনি বলেন, প্রথমত আমি উত্তরায় সহাবস্থান চাই। দ্বিখণ্ডিত সমাজ দিয়ে মানবিক বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব নয়। তাই আমি প্রতিদ্বন্দ্বী সব প্রার্থীর সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। ঢাকা সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া উত্তরখান-দক্ষিণখানের রাস্তাঘাটসহ অনেক সমস্যা। নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করতে চাই। অঞ্চলভিত্তিক সংকটের সমাধান আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিনের স্থানীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান তিনি।

প্রথমদিকে ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ছিলেন অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আশরাফুল হক। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। প্রচারে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে জোটের প্রার্থীকে। চাঁদাবাজি রুখে দিয়ে নিরাপদ উত্তরা গড়ার অঙ্গীকার করেছেন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী আদীব। শাপলা কলি প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, এখানের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা আদায় করা হয়। সেই ব্যবসায়ী ভাইদের বলতে চাই, নতুন বাংলাদেশ গড়তে আপনাদের পাশে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ প্রস্তুত আছে। আমরা সব ধরনের জোর-জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ইনসাফের ঢাকা-১৮ আসন গড়ব, ইনশাআল্লাহ।

এদিকে এই আসন থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। মান্না সময়ের আলোকে বলেন, আমি প্রথমে ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্থের অভাবে তা কন্টিনিউ করতে পারিনি। তাই নিজ এলাকা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ উপজেলা) চলে এসেছি। এখানে ভালো সাড়া পাচ্ছি।

তবে বগুড়া-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মীর শাহে আলম। প্রথমে এই আসনটি মান্নাকে ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয় বিএনপি। তবে পরে সেখানে বিএনপি নিজেদের দলের প্রার্থী দেয়। এ বিষয়ে মান্না বলেন, আমি কিছু জানি না। বিএনপি ঠিক কেন এমন করল; তারাই ভালো জবাব দিতে পারবে। আমার সঙ্গে আর বিএনপির কোনো যোগাযোগ হয়নি। 

ডাকসুর দুবারের ভিপি, আওয়ামী লীগের একসময়ের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না এর আগে একাধিকবার প্রার্থী হলেও কখনো তার সংসদে যাওয়া হয়নি।

এএডি/


  বিষয়:   রাজপথ  জাহাঙ্গীর  নবাগত  আদীব 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: