কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘুরিয়া, কোন্ডা ও শুভাঢ্যা এই পাঁচ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা-৩ আসন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, আসনটিতে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও ভোটের লড়াই হবে মূলত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলামের মধ্যে। এই আসনে আরও যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সুলতান আহমেদ খান, গণফোরামের মুহাম্মদ রওশন ইয়াজদানী, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মজিবুর হাওলাদার, গণঅধিকার পরিষদের মো. সাজ্জাদ, গণসংহতি আন্দোলনের মো. বাচ্চু ভূঁইয়া, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ জাফর, জাতীয় পার্টির মো. ফারুক এবং ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মনির হোসেন।
১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ঢাকা-৩ আসন ছিল বিএনপির দখলে। ২০০৮ সাল থেকে এই আসন আওয়ামী লীগের ঘাঁটিতে পরিণত হয়। আসনটিতে বিগত সময়ের উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরা ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচিকে সামনে রেখে যানজট নিরসন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, রাস্তাঘাট উন্নয়ন ও শিল্প-কারখানা স্থাপনসহ নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন বিএনপির প্রার্থী ও নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত ন্যায় এবং ইনসাফের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। আর নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও ভোটের মাঠে প্রচারে তেমন একটা দেখা মিলছে না অন্য প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের।
বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, এলাকার সমস্যা দীর্ঘদিন চলমান। নির্বাচিত হলে আমরা ধাপে ধাপে এগুলো সমাধান করব। আমাদের অগ্রাধিকার হবে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন। উন্নয়ন পরিকল্পিতভাবে করতে হবে। কারণ অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে অনেক এলাকায় বসবাসের অবস্থা ক্রমেই অসুবিধাজনক হয়ে পড়েছে। জনবহুল এলাকায় বড় বড় ভবন থাকলেও পর্যাপ্ত রাস্তা নেই, যা চলাচলকে কঠিন করে তোলে। আমরা চাই প্রতিটি সমস্যা চিহ্নিত করে যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধান করতে যাতে এলাকাবাসী স্বাভাবিক ও উন্নত জীবনযাপন করতে পারে।
অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী শাহিনুর ইসলাম বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য শুধু নির্বাচনে জয়লাভ নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান। আমরা চাই জনমতের ভিত্তিতে এলাকার টেকসই উন্নয়ন কার্যকরভাবে করা হোক। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ইতিমধ্যেই আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা করেছি। এর মধ্যে রয়েছে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং অবকাঠামোগত দুরবস্থার সমাধান। এসব কার্যক্রমের বাস্তবায়ন হলে এলাকাবাসী স্বাভাবিক ও উন্নত জীবনযাপন করতে পারবেন। আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূল লক্ষ্য স্থানীয় মানুষের মতামত, চাহিদা এবং অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
স্থানীয়রা বলছেন, ভোটগ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের প্রচারের গতি। তবে এখন পর্যন্ত আসনটির কোথাও উল্লেখযোগ্য কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আধুনিক কেরানীগঞ্জ গড়ার রূপরেখা ঘোষণার পাশাপাশি আধুনিক হাসপাতাল, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক। তবে এবার ভিন্নতা এসেছে ফেস্টুন ও ব্যানার সাঁটানোতে। নির্বাচনি এলাকার সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে বাঁশ ও রশির সাহায্যে টানানো হয়েছে সাদা-কালো ফেস্টুন ও ব্যানার। তবে কিছু কিছু স্থানে কয়েকজন প্রার্থীর রঙিন ফেস্টুনও চোখে পড়ছে। এদিকে চায়ের দোকান, হাট-বাজার, অফিস-আদালতসহ সর্বত্র এখন একটাই আলোচনাÑ কে হচ্ছেন এই আসনের আগামীর অভিভাবক। অন্যদিকে নির্বাচনি মাঠে আওয়ামী লীগ না থাকায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে। তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে কাজ করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৩ আসনে মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৬২ হাজার ১৫৯ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৪ জন এবং পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭১ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৪ জন। এই আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১২৬টি। এখানে এবার মোট ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এএডি/