প্রথমবারের
মতো মাঠে গড়াচ্ছে সাফ উইমেন্স ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ। আগামী ১৩ জানুয়ারি
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বসবে এই আসর। সাতটি দেশের অংশগ্রহণে নোন্থাবুরি
স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই টুর্নামেন্ট। এই চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য অভিজ্ঞ
ফুটবলারদের নিয়েই দল গড়েছে বাংলাদেশ। তবে একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলের
একমাত্র সাবিনা খাতুন ছাড়া আর কারও ফুটসালে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। এই ঘাটতি
নিয়েই লড়তে হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
দুবার সাফজয়ী অধিনায়ক
সাবিনা খাতুন অবশ্য বেশ আত্মবিশ্বাসী। অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও তিনি ফুটসালে
ভালো করার ব্যাপারে আশাবাদী। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দলের প্রস্তুতি
নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা জানান। সাবিনা বলেন, (প্রস্তুতি) বেশ ভালো আর
ফুটসালের প্রতি আমার আলাদা একটা দুর্বলতা আছে। কেননা, আপনারা হয়তো জানেন
যে, বাংলাদেশের প্রথম কোনো নারী ফুটবলার বিদেশের মাটিতে খেলেছিল, সেটা
হচ্ছে আমি এবং আমি কিন্তু ফুটসাল খেলতেই গিয়েছিলাম। এ কারণে ফুটসাল আমার
মনে অনেক স্মৃতির জায়গা তৈরি করেছে। যেহেতু নতুন ঘরানার খেলা আর দেশের
স্বার্থে যাওয়া, তো থাইল্যান্ডে যদি দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারি, একটা
ভালো পজিশনে নিয়ে যেতে পারি, ফুটসালে পরবর্তী প্রজন্ম যারা আসবে, তাদের
জন্য একটু মসৃণ হবে।
তিনি আরও বলেন, আসলে প্রতিপক্ষ দল সম্পর্কে
আমাদের কোনো জানাশোনা নেই। তবে মালদ্বীপকে যদি দেখেন, আমি আত্মবিশ্বাস নিয়ে
বলতে পারি যে, ওরা বেশ অভিজ্ঞ এবং ওখানকার মেয়েরা মূলত ফুটসালই খেলে।
সেদিক দিয়ে আমাদের চেয়ে মালদ্বীপ এগিয়ে থাকবে এবং ভারত বেশ কিছু
কোয়ালিফায়ার্স খেলেছে ফুটসালে, তারা অবশ্যই সবসময় শক্তিশালী হয় এবং ওদের
পরিকল্পনা সবসময় আগের থেকেই থাকে এবং বাকি টিমগুলো যারা আছে তারা আমাদের
মতোই নতুন। তবে এক মাসের একটু বেশি সময় অনুশীলন করেছি, সেই জায়গা থেকে আমার
মনে হয় যে আমরা ভালো কিছু করব।
অন্যদিকে দলের ইরানি কোচ সাইদ
খোদারাহমি কিছুটা সতর্ক। তিনি বড় কোনো স্বপ্নের কথা এখনই বলছেন না। সংবাদ
সম্মেলনে তিনি জানান, গত দেড় মাস ধরে মূল মাঠের ফুটবলারদের ফুটসালের কৌশল
শেখাতে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তুতির কথা বলতে গেলে,
আপনাদের মনে থাকতে পারে, আমি দেড় মাস আগে এখানে এসেছিলাম বাংলাদেশের
ফুটসালের উন্নয়নের জন্য। এটাই আমার বড় লক্ষ্য। এখন আমরা সাফে যাচ্ছি। তবে
আমার একটি বড় অনুরোধ আছে- আমাদের একটি ফুটসাল স্টেডিয়াম প্রয়োজন। এখন দুটি
জাতীয় দল (নারী ও পুরুষ) প্রস্তুত হচ্ছে কিন্তু ঢাকার কিছু স্টেডিয়াম থাকা
সত্ত্বেও আমরা কেন ট্রেনিং করতে পারছি না, সেটি আমার কাছে বড় প্রশ্ন।
নারীদের ফুটসাল সম্পর্কে বলতে গেলে, আমাদের কোনো বিশেষ নারী ফুটসাল খেলোয়াড়
নেই, সবাই ফুটবলার। তারা ফুটসালের নিয়মকানুনগুলো জানে না। আমার সহকর্মীদের
জন্য সেগুলো তাদের শেখানো বেশ কঠিন হচ্ছে। বর্তমানে আমরা তাদের নিয়ম এবং
ফুটসালের খুঁটিনাটিই শেখাচ্ছি।
সময়ের আলো/এসকে/