ব্যাডমিন্টনে খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা প্রয়োজন

রিফাত আনজুম

সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন সিরিজ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৭টি দেশ অংশ নিয়েছে এই টুর্নামেন্টে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বাংলাদেশের শাটলারদের

2026-01-02T04:40:41+00:00
2026-01-02T04:41:44+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
ব্যাডমিন্টনে খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা প্রয়োজন
রিফাত আনজুম
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪০ এএম  আপডেট: ০২.০১.২০২৬ ৪:৪১ এএম  (ভিজিট : ১৪৫)
ব্যাডমিন্টনের দুই কোচ এলিনা সুলতানা ও এনায়েত উল্লাহ খান। ছবি : সংগৃহীত
সম্প্রতি বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ব্যাডমিন্টন সিরিজ। বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৭টি দেশ অংশ নিয়েছে এই টুর্নামেন্টে। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে বাংলাদেশের শাটলারদের সময়টা ভালো-খারাপ মিলিয়ে কাটে। টুর্নামেন্টে পুরুষ দ্বৈতে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল চোখে পড়ার মতো। অল বাংলাদেশ ফাইনালে গৌরব-তানভীর জুটি চ্যাম্পিয়ন হন। দেশের ব্যাডমিন্টন ইতিহাসে অন্যতম এক সাফল্য পায় বাংলাদেশ।

এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন এলিনা সুলতানা ও এনায়েত উল্লাহ খান। তারা জানিয়েছেন বাংলাদেশের শাটলাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও সামনে এগিয়ে যেতে পারবে। এলিনা সুলতানা সময়ের আলোকে বলেন, ‘তো এরকম রেজাল্ট বাংলাদেশে এর আগে কখনো হয়নি। আমাদের সবশেষ ব্রোঞ্জ পদক ছিল আমার আর শাপলার, ২০০৮ সালে এই চ্যালেঞ্জে। তো এবার তারা অনেক ভালো করেছে এবং বাংলাদেশের জন্য আমি মনে করি যে ডাবলস মানে মিক্সড ডাবলস এই দুইটার প্রতি যদি কনসেন্ট্রেশন দেওয়া হয়, তাদের সঠিকভাবে রাউন্ড দ্য ইয়ার ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয় তা হলে পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ভালো রেজাল্ট করবে ইনশাআল্লাহ।’

দ্বৈতে সাফল্য এলেও এককে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স মোটেও ভালো ছিল না। এই জায়গায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এর ব্যাখ্যায় এলিনা বলেন, ‘সিঙ্গেলসে পিছিয়ে থাকার অনেক কারণ রয়েছে। আসলে প্রত্যেকটা গেমই তো আমাদের টাফ ম্যাচ। তারপরেও সিঙ্গেলসে পুরোটা নিজের ওপর নির্ভর করে। যেরকমভাবে যথাযথ ট্রেনিং, গাইডলাইন দিয়ে তারপরে আপনার ফুডিং দিয়ে সবকিছু মেইনটেইন করে একটা ভালো রেজাল্ট করা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হয়ে ওঠে না। কারণ আমরা সবাই জানি যে ব্যাডমিন্টন অনেক এক্সপেনসিভ একটা গেম। আপনার ট্রেনিং করতে গেলেও প্রতি মাসে অনেক টাকার প্রয়োজন। পৃষ্ঠপোষকতার একটা বিষয় থাকে। এখান থেকে এত টাকা খরচ করে একটা গেমে এত টাকা ইনভেস্ট করে যদি ফিডব্যাক পায় যে ভবিষ্যতে আমার ছেলে-মেয়ে বা যারাই হোক না কেন তারা একটা ভালো রেজাল্ট করবে তো তাদের ফিউচারটা কী?

এলিনা আরও বলেন, ‘তারা যদি একটা ভালো মানের চাকরিও করতে না পারে বা তাদের যদি চিন্তা করা লাগে যে ফ্যামিলি রান করবে কীভাবে তো সেই চিন্তা যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণ তো স্বাভাবিকভাবে তারা ভালো রেজাল্ট করতে পারবে না। কারণ সেই চিন্তা মাথায় রেখে তারা এদিকে ট্রেনিং করবে আবার তাদের এক্সট্রা ইনকামের পথ দেখতে হবে। তা হলে তারা সঠিক রেস্টটা কখন পাবে?’

বাংলাদেশের সাবেক এই শাটলার মনে করেন আর্থিক নিরাপত্তা না থাকায় অনেকে ব্যাডমিন্টনে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে না। তিনি বলেন, ‘অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বলব যে অন্য দেশ তাদের তারা যারা অন্ততপক্ষে ডিস্ট্রিক্ট চ্যাম্পিয়নও হয় তাদের জন্য আপনার রেলওয়ে হোক বা তাদের যে সংস্থাগুলো আছে সেখানটাতে তাদের চাকরির সুন্দর ব্যবস্থা হয়ে যায়। তো বাংলাদেশে তো সেটা হয় না। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন হওয়াটা তো অতটা ইজি না, তাই না? তারপরও তখন দেখা যাচ্ছে যে যারা ১ থেকে ৪ বা ৫ এর ভেতরে আছে তাদের আর্মি তারপরে আনসার, বিমান এই বাহিনীগুলো নেয়। কিন্তু ওই পর্যায়ে আসতে যে পরিমাণ পরিশ্রম তারপরে খরচ এগুলো বহন করে ওই পর্যায়ে আসা পর্যন্ত এত ধৈর্য বা খরচ চালানোর মতো ক্যাপাবিলিটি তো সবার থাকে না। তাই সেই ক্ষেত্রে আমি এটাই বলব যে আমার ডিস্ট্রিক্ট লেভেলের থেকে যদি শুরু করি যে টপ র‌্যাঙ্কে যারা থাকবে তাদের যদি ভালোমানের একটা চাকরি, তাদের এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড অনুযায়ী একটা ভালোমানের চাকরির ব্যবস্থা করে দেয় তা হলে আমার মনে হয় যে তাদের আর পেছন ফিরে তাকানো লাগবে না। তারা কনসেন্ট্রেশন দিতেই পারবে তাদের খেলার প্রতি।’ 

এলিনা মনে করেন শুধু খেলোয়াড় নয়, সরকারের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা করা উচিত, ‘ট্যালেন্ট নিয়ে আমাদের এর আগেও যারা ছিল তারা কাজ করেছে ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রামগুলো নিয়ে। ট্যালেন্ট হান্ট প্রোগ্রাম করার পরে আপনার ট্যালেন্টেড প্লেয়ার আপনি পেলেন, পাওয়ার পরে আপনার তো রাউন্ড দ্য ইয়ার তাদের ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। ফেডারেশনের একার পক্ষে তো এটা সম্ভব না যে আপনার রাউন্ড দ্য ইয়ার তাদের প্র্যাকটিসের যে সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে দেওয়া। এটা অবশ্যই গভর্মেন্টের হস্তক্ষেপ না হলে আপনার বড় রকমের ভালো ফলাফল আশা করা সম্ভব না।’

এদিকে ব্যাডমিন্টন কোচ এনায়েত জানিয়েছেন ম্যানেজমেন্টে কিছুটা গাফিলতি রয়েছে। এই জায়গাগুলো পরিবর্তন করা উচিত। তিনি মনে করেন লোক দেখানো ট্রেনিং করিয়ে ব্যাডমিন্টন সামনের দিকে এগোবে না। এনায়েত বলেন, ‘আমাদের ম্যানেজমেন্ট এতটা আপগ্রেড নয়। এখানে অনেক নোংরা পরিবেশ এখনও রয়ে গেছে। তবে আগের চেয়ে লাইন জাজিং আর আম্পারিংয়ে অনেক উন্নতি হয়েছে। আর খেলোয়াড়দের ট্যালেন্ট রয়েছে। এদের সারা বছর ট্রেনিংয়ে রাখতে হবে। লোক দেখানো ট্রেনিং নয়, দীর্ঘমেয়াদি ট্রেনিং করালে বাংলাদেশ অবশ্যই ভালো করবে।’


সময়ের আলো/এসকে/ 




  বিষয়:   ব্যাডমিন্টন  খেলোয়াড়  আর্থিক নিরাপত্তা 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: