শপথগ্রহণ শেষ হতেই আবাসন প্রকল্পে কাজ শুরু মামদানির

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

নতুন বছরের প্রথম দিনে নিউইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত হলো জোহরান মামদানির প্রকাশ্য অভিষেক অনুষ্ঠান। বিশ্বের অন্যতম ধনী শহর হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কে

2026-01-02T16:16:28+00:00
2026-01-02T16:18:19+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
শপথগ্রহণ শেষ হতেই আবাসন প্রকল্পে কাজ শুরু মামদানির
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৬ পিএম  আপডেট: ০২.০১.২০২৬ ৪:১৮ পিএম
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণকালে জোহরান মামদানি। সংগৃহীত ছবি
নতুন বছরের প্রথম দিনে নিউইয়র্ক সিটিতে আয়োজিত হলো জোহরান মামদানির প্রকাশ্য অভিষেক অনুষ্ঠান। বিশ্বের অন্যতম ধনী শহর হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কে এদিন বিপুল জনসমাগম দেখা যায়। সাতটি ব্লকজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে বারবার ধ্বনিত হয় ‘ধনীদের ওপর কর আরোপ’-এর দাবি। এই উৎসবের মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেন জোহরান মামদানি।

সাধারণত অভিষেক অনুষ্ঠানগুলো সংযত ও আনুষ্ঠানিক হলেও মামদানির অনুষ্ঠান ছিল ব্যতিক্রমী। নির্বাচনী প্রচারণার মতোই তিনি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানেও প্রচলিত রীতি ভেঙে নতুন ধারা তৈরি করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন কেবল নতুন নেতৃত্বের সূচনাই নয়, বরং নগর রাজনীতিতে ভিন্ন বার্তারও ইঙ্গিত দেয়। 

মামদানি প্রথম শপথ গ্রহণ করেন মধ্যরাত পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই। তিনি নিউইয়র্ক সিটি হলের পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনের সিঁড়িতে একটি সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে শপথ নেন। ১৯৪৫ সাল থেকে বন্ধ থাকা এই স্টেশনে নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস তাকে শপথ পাঠ করান। স্ত্রী রামা দুওয়াজির পাশে দাঁড়িয়ে মামদানি একটি ঐতিহাসিক কোরআন এবং তার দাদার মালিকানাধীন আরেকটি কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেন, যা তিনি নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি থেকে ধার করেছিলেন। 

এরপর বছরের প্রথম দিন লোয়ার ম্যানহাটনের সিটি হলের সামনে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে দ্বিতীয়বার শপথ নেন তিনি। সেখানে ভারমন্টের স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ৩৪ বছর বয়সী এই স্বঘোষিত ‘ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট’-কে শপথ পাঠ করান। এই অভিষেকের মাধ্যমে মামদানি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং শতাব্দীর কনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে স্থান করে নেন। তিনি আগামী চার বছরের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এবারের অভিষেক অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ব্যতিক্রমী ‘ব্লক পার্টি’। সাতটি ব্লকজুড়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে সিটি হল এলাকায় চার হাজার অতিথি নিবন্ধিত ছিলেন, বাকিরা আশপাশের ব্লকগুলোতে অবস্থান করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, সকলেই বিনামূল্যে নিবন্ধন করেছিলেন।

অনুষ্ঠানে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রভাবশালী আইনপ্রণেতা আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ মামদানিকে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বলেন, এটি নিউইয়র্ক সিটির জন্য একটি নতুন যুগের সূচনা। তার মতে, ভয়ের পরিবর্তে সাহসকে বেছে নেওয়ার সময় এসেছে এবং অল্প কয়েকজনের সম্পদ বৃদ্ধির বদলে সবার সমৃদ্ধিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মামদানি শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সকল নিউইয়র্কবাসীর মেয়র হবেন।

শপথগ্রহণের আগে বক্তব্যে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, শ্রমজীবী মানুষ যখন একসঙ্গে দাঁড়ায় এবং অতি-ধনীদের বিভাজনের কৌশল ব্যর্থ করে দেয়, তখন তারা অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারে।

অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বহু নিউইয়র্কবাসী শীতের পোশাক পরে নিরাপত্তা চেকপয়েন্ট অতিক্রম করার চেষ্টা করেন। অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ভেতরে ঢুকতে পারেননি। সিটি হলের বাইরে স্থাপিত বড় পর্দায় অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। দূর থেকে সমর্থকেরা উল্লাস প্রকাশ করেন এবং সংহতির প্রতীক হিসেবে গাড়ির হর্ন বাজানো হয়। একই সময়ে পুলিশ ব্যারিকেডের বাইরে কিছু বিক্ষোভকারীও অবস্থান করছিলেন।

ডেমোক্র্যাটিক দলের কৌশলবিদ নোমিকি কনস্ট আল জাজিরাকে বলেন, এই ব্লক পার্টি ছিল একটি প্রতীকী উদ্যোগ, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে সাধারণত বাদ পড়া মানুষদের যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তার মতে, এটি ছিল সেই জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, যারা মামদানিকে ক্ষমতায় আনতে ভূমিকা রেখেছেন।

অভিষেক অনুষ্ঠানে মামদানি, উইলিয়ামস ও লেভিন ঐক্য এবং সবার জন্য সহনীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ের বার্তা দেন। তারা ইংরেজি, স্প্যানিশ, হিব্রু ও গ্রিক ভাষায় বক্তব্য রাখেন এবং বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে উপস্থিত হন।


শপথের পর লেভিন বলেন, একজন কোরআন, একজন বাইবেল এবং একজন হিব্রু বাইবেল ব্যবহার করে শপথ নেওয়া-এটি নিউইয়র্কের বহুত্ববাদী পরিচয়ের প্রতিফলন। মামদানি তার বক্তব্যে বলেন, তিনি এই শহরে সামষ্টিকতার উষ্ণতা ফিরিয়ে আনতে চান এবং নিউইয়র্কবাসীর ঐক্যের আকাঙ্ক্ষাকে সরকারিভাবে লালন করা হবে।

অনুষ্ঠানজুড়ে সবচেয়ে জোরালো দাবি ছিল অতি-ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর আহ্বান। মামদানি, লেভিন, উইলিয়ামস, বার্নি স্যান্ডার্স এবং আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ সবাই এই দাবির পক্ষে কথা বলেন। স্যান্ডার্স বলেন, ধনী ব্যক্তি ও করপোরেশনগুলোকে ন্যায্য কর দিতে বলা কোনোভাবেই চরমপন্থা নয়।

মামদানির প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে করপোরেট কর ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ করা এবং বছরে ১০ লাখ ডলারের বেশি আয়কারীদের ওপর অতিরিক্ত ২ শতাংশ কর আরোপ। তবে এসব বাস্তবায়নের জন্য গভর্নরের অনুমোদন প্রয়োজন।

জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর কেন্দ্রে মামদানির প্রধান নীতি হলো আবাসন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর ভাড়া স্থগিত রাখা হবে, যা শহরের মোট ভাড়াভিত্তিক আবাসনের প্রায় অর্ধেক।

শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মামদানি আবাসনসংক্রান্ত একাধিক নির্বাহী আদেশ জারি করেন। ব্রুকলিনের একটি ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত ভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুটি নতুন সিটি টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন-একটি শহরের মালিকানাধীন জমির তালিকা তৈরির জন্য এবং অন্যটি আবাসন উন্নয়ন দ্রুত করার উপায় খুঁজতে।

হাউজিং ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-মেয়র লেইলা বোর্জোগ বলেন, আবাসন সংকটই নিউইয়র্কের জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটের মূল। ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা, খারাপ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং আরও বেশি সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণই হবে নতুন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি জানান, রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রয়োজনীয় সম্পদ থাকলে এসব নীতি বাস্তবায়ন সম্ভব, এবং মামদানি সে প্রতিশ্রুতিতেই অটল।


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   জোহরান মামদানি  অভিষেক উৎসব  শপথগ্রহণ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: