গজারিয়ায় ফসলি জমিতে হচ্ছে শিল্প কারখানা, কমছে কৃষি জমি

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার চর বাউশিয়ার বড়কান্দি গ্রামে তিন ফসলি জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে সাহারা ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি

2026-01-02T21:03:55+00:00
2026-01-02T21:03:55+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬,
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
গজারিয়ায় ফসলি জমিতে হচ্ছে শিল্প কারখানা, কমছে কৃষি জমি
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৩ পিএম 
গজারিয়ায় ফসলি জমিতে হচ্ছে শিল্প কারখানা, কমছে কৃষি জমি। ছবি : সংগৃহীত
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার চর বাউশিয়ার বড়কান্দি গ্রামে তিন ফসলি জমিতে শিল্পকারখানা স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে সাহারা ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে বালু দিয়ে জমি ভরাটের কাজ শুরু করেছে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, অবিক্রীত জমিতেও জোরপূর্বক বালু ফেলা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে একাধিক পরিবেশবাদী সংগঠন।

স্থানীয়রা জানায়, প্রভাবশালী একটি চক্রের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনের নাকের ডগায় নদী ও ব্যক্তি মালিকানার জায়গা ভরাট করছে।

গজারিয়া উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, গত এক দশকে গজারিয়া উপজেলায় তিন ফসলি কৃষি জমির পরিমাণ কমেছে প্রায় ৫শ’হেক্টর। তবে প্রান্তিক কৃষকদের দাবি, বাস্তবে এই চিত্র আরো ভয়াবহ। তাদের মতে, গত এক দশকে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে শিল্প কারখানায় স্থাপন করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফসলি জমি ভরাট করে উঁচু করা হচ্ছে। ফলে নিচু জমিগুলোতে পানি জমে কৃষি কাজ করার সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। বালু ভরাটের জন্য জমির মাঝে স্থাপন করা হয়েছে কংক্রিটের পিলার।

স্থানীয় কৃষক মজিবুর রহমান বলেন, এই জমিই ছিল আমাদের সংসারের একমাত্র ভরসা। কোম্পানি জমি ভরাট করে আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। চারদিক দিয়ে বালু ফেলে আমাদের ঘিরে ফেলেছে। তাদের কাছে জমি বিক্রি করা ছাড়া আমাদের কোনও পথ নেই।

স্থানীয় বাসিন্দা ফাতেমা বেগম বলেন, আমাদের জমির পাশের জমিটি কোম্পানি ক্রয় করেছে। কিন্তু আমাদের জমির অর্ধেক বালু দিয়ে ভরাট হয়ে গেছে। আমরা কার কাছে যাব? কোথায় এর প্রতিকার পাব?

এ বিষয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা জানান, সরকারের অনুমতি নিয়ে ও যথাযথ নিয়ম মেনে আমরা এখানে বালু ভরাট করতে এসেছি। এখানে আইনের কোনও ব্যত্যয় ঘটেনি।


এ বিষয়ে নদী, খাল ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক শফিক ঢালী বলেন, ফসলি জমি দেশের খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি। এসব জমি নষ্ট হলে শুধু কৃষক নয়, পুরো দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশ ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করি।

বিষয়টি সম্পর্কে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সরকারের অনুমতি ছাড়া জমির শ্রেণির পরিবর্তনের কোনও সুযোগ নেই। যদি প্রতিষ্ঠানটি কারো জমি জোরপূর্বক দখল করে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জেডআই


  বিষয়:   মুন্সীগঞ্জ  গজারিয়া  ফসলি জমি  শিল্পকারখানা  বালু  জমি ভরাট 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: