হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাতভর টিপটিপ বৃষ্টির মতো ঝরা ঘন কুয়াশা থাকছে সকাল পর্যন্ত। সকাল ও সন্ধ্যায় প্রচণ্ড শীতের কারণে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জবুথবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। আর জরুরি প্রয়োজনে যারা বাইরে বের হচ্ছেন, ঠান্ডায় কাবু হয়ে ঘরে ফিরছেন। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষজন। দরিদ্র ও দিনমজুররা কাজ না পেয়ে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শীতের তীব্রতায় রোগীর সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। মানুষজনকে রাস্তার মোড়, চায়ের দোকান ও বাজার এলাকায় খড়কুটো, কাঠ ও পুরোনো টায়ার জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে। এ ছাড়া কুয়াশার কারণে সড়ক-মহাসড়কে যানবাহনগুলো চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।
শুক্রবার আবহাওয়া অফিস বলছে, দেশের সাত জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আর বৃহস্পতিবার ১৬ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ ছিল। সে তুলনায় শৈত্যপ্রবাহের এলাকা কিছুটা কমেছে। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগামীকাল রোববার থেকে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, জানুয়ারি মাসে দেশের তাপমাত্রা চার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতের তীব্রতা বাড়াতে পারে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে ২-৩টি শৈত্যপ্রবাহ হবে মৃদু থেকে মাঝারি তাপমাত্রার (৮-১০ ডিগ্রি থেকে ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) এবং ১-২টি শৈত্যপ্রবাহ হবে মাঝারি থেকে তীব্র (৬-৮ ডিগ্রি থেকে ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস)।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। জানুয়ারিতে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ থাকবে।
দেশের দৈনিক গড় বাষ্পীভবন ১.৫০ থেকে ৩.৫০ মিমি এবং গড় সূর্যকিরণকাল ৩.৫০ থেকে ৫.৫০ ঘণ্টার মধ্যে থাকবে। সাধারণ মানুষ শীতের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন কারণ জানুয়ারি মাস শৈত্যপ্রবাহের কারণে বেশ ঠান্ডা হবে বলে আবহাওয়া অফিস সতর্ক করেছে।
শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব আরও বিস্তৃত হতে পারে। এ ছাড়া আগামী দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা আরও কমার আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের অনেক জায়গায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং কোথাও কোথাও তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এদিনও কুয়াশার কারণে যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
শুক্রবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে, ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সাত জেলায় বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। জেলাগুলো হলো গোপালগঞ্জ, যশোর, রাজশাহী, পাবনা, পঞ্চগড়, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা।
ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে মাঝনদীতে আটকে পড়ে দুটি ফেরি। বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সাময়িকভাবে সব ধরনের ফেরি চলাচল স্থগিত রাখা হয়। ঘন কুয়াশার কারণে টানা প্রায় সাত ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিকভাবে শুরু হয়।
আবার ঘন কুয়াশার কারণে শুক্রবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাভাবিক উড্ডয়ন ও অবতরণ কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। কুয়াশার কারণে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কয়েকটি ফ্লাইট বিকল্প বিমানবন্দরে ডাইভার্ট (অন্যদিকে পাঠানো) করার সিদ্ধান্ত নেয়। লন্ডভন্ড হয়ে যাচ্ছে বিমানের শিডিউল।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, কুয়াশার কারণে ৯টি ফ্লাইট ডাইভার্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে চারটি ফ্লাইট চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, চারটি ফ্লাইট ভারতের কলকাতা বিমানবন্দরে এবং একটি ফ্লাইট থাইল্যান্ডের ব্যাংকক বিমানবন্দরে পাঠানো হয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধীরে ধীরে বিমানবন্দরের ফ্লাইট অপারেশন পুনরায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। আবহাওয়া উন্নত হওয়ায় বর্তমানে সব ফ্লাইট নিয়মিতভাবে উড্ডয়ন ও অবতরণ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এএডি/