মোস্তাফিজ ইস্যুতে ঘরে-বাইরে তোলপাড়

ক্রীড়া ডেস্ক

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাধ্য হয়ে বাদ দেওয়ার ইস্যুতে পুরো ক্রিকেটবিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ ক্রিকেটবোদ্ধাই বিসিসিআইয়ের এই

2026-01-04T04:42:53+00:00
2026-01-04T04:42:53+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মোস্তাফিজ ইস্যুতে ঘরে-বাইরে তোলপাড়
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:৪২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ-আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাধ্য হয়ে বাদ দেওয়ার ইস্যুতে পুরো ক্রিকেটবিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বেশিরভাগ ক্রিকেটবোদ্ধাই বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তকে ভালোভাবে নিতে পারেননি। এমনকি ভারতের অনেকেই বিষয়টিকে নেতিবাচক হিসেবে গণ্য করছেন। রাজনৈতিক ইস্যুতে মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া ভারতের উচিত হয়নি বলে মনে করেন তারা। খেলার মধ্যে রাজনীতি মেশানোকে ক্রিকেটের জন্য মঙ্গলজনক নয় বলে মত তাদের।

Advertisement
বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদের নির্দেশদাতা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার সদস্য শশী থারুর। তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই মনে করি না যে ক্রিকেটকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ভার বহন করতে দেওয়া উচিত। আমার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট, আমাদের উচিত কিছু ক্ষেত্রকে অন্য ক্ষেত্র থেকে আলাদা রাখার চেষ্টা করা। আমরা আসলে কাকে শাস্তি দিচ্ছি একটি দেশকে, একজন ব্যক্তিকে নাকি তার ধর্মকে। এ বিষয়ে আমার মতামত আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি বিশেষ করে এখন, যখন বিসিসিআই নিন্দনীয়ভাবে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি খেলোয়াড়টি যদি লিটন দাস বা সৌম্য সরকার হতেন তা হলে কী হতো? এখানে আমরা আসলে কাকে শাস্তি দিচ্ছি একটি দেশকে, একজন ব্যক্তিকে নাকি তার ধর্মকে? খেলাধুলাকে এভাবে নির্বিচার রাজনৈতিক রঙে রাঙানো আমাদের শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যাবে?’

ভারতের হয়ে ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অলরাউন্ডার মদন লাল বলেন, ‘বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কারণ, তাদের চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা কারও নেই। এমনকি শাহরুখ খানেরও না, কিন্তু খেলাধুলায় কেন এত রাজনীতি ঢুকছে? আমি জানি না ক্রিকেট কোন দিকে যাচ্ছে। নিশ্চয়ই ওপর মহল থেকে চাপ ছিল। বাংলাদেশে যা ঘটছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক, কিন্তু খেলোয়াড়দের কেন এর মাঝখানে টেনে আনা হচ্ছে? এখানে শাহরুখ খানের দোষ কোথায়? নিলামে তো একটা কমিটি বসে খেলোয়াড় নির্বাচন করে।’

বাংলাদেশেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এরকম একটা উগ্র রাষ্ট্রকে কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের সুযোগ দেওয়া উচিত না। সরকার এবং বিসিবির যৌথ উদ্যোগে অপরাপর ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ভারতকে আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজনের অনুপযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা উচিত। ৫ আগস্টের পরেও বাংলাদেশে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অসংখ্য টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে যেখানে ভারতীয়রা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে অংশগ্রহণ করেছে।’

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভারত সফর নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘মোস্তাফিজকে আইপিএল দল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় একটি অনিশ্চয়তার বার্তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সফরে (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে) গেলে ক্রিকেটাররা মানসিকভাবে অস্বস্তিতে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ভারতে গেলে শঙ্কার জায়গা থেকেই যাবে।’

জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ সুজন বলেন, ‘সরকার থেকে কথা (মোস্তাফিজ ইস্যুতে) বলা যেতে পারে। বিসিবির কিছুই করার নেই। এটা তো সরকারিভাবেই হয়েছে। যদিও বিসিসিআই থেকে হয়তো বা ঘোষণাটা এসেছে। কিন্তু দেশ যদি নিরাপত্তা না দিতে পারে বিসিসিআই কীভাবে নিরাপত্তা দেবে? সে ক্ষেত্রে আমার মনে হয় বিসিবির চেয়ে সরকারেরই কথা বলা উচিত। বাংলাদেশ দল যে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছে সেখানে তাদের আসলে কী দায়িত্ব...নিশ্চয়তা আছে কি না, তাদের কী নিরাপত্তা দিতে পারবে তারা? এই ধরনের যদি বিশৃঙ্খল ঘটনা ঘটে যায় সে ক্ষেত্রে ক্ষতিটা তো আমাদের দেশেরই হবে। এটাতে অবশ্যই বিসিবি হোক এবং দেশের সরকারেরও আমার মনে হয় আইসিসিকে একটা চিঠি দেওয়া উচিত।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ভেরিফায়েড পেজ থেকে দেওয়া এক পোস্টে রংপুর রাইডার্স সরাসরি মোস্তাফিজের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেয়। ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাদের পোস্টে লেখে, ‘সুযোগ কেড়ে নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু সম্মান অর্জন করতে হয় মাঠেই। আমরা ‘দ্য ফিজ’-এর পাশে আছি।’

জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, ‘ভারতীয় সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছেন যে আসলে সংবাদটা শুনে আমার কেমন লাগছে আর কতটা বিস্মিত হয়েছি। অবশ্যই আমার মনে হয় যে ক্রিকেটের সঙ্গে রাজনীতি একদমই মিলানো উচিত না। সেই বিষয়টাই আসলে বলেছি যে আমি পুরোপুরি স্তব্ধ।’ জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আরও যোগ করেন, ‘খেলতে পারবে না এটা শুনে অবশ্যই আমারও খারাপ লাগছে, আমাদের ১৮ কোটি মানুষেরই আসলে খারাপ লাগার বিষয় আমি মনে করি। বিষয়টা আসলে এই জায়গায় যাওয়া উচিত না। ক্রিকেটের সঙ্গে শুধু ক্রিকেটই থাকা উচিত।’

বিসিসিআইয়ের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ : আইপিএলে যেকোনো খেলোয়াড়কে নিষিদ্ধ করা বা সরিয়ে দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা রাখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। তবে মোস্তাফিজুর রহমানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন এবং নজিরবিহীন। নিলামে দল পাওয়ার পর কেবল রাজনৈতিক কারণে কোনো ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়ার ঘটনা এর আগে আইপিএলে ঘটেনি। তাই মোস্তাফিজের পারিশ্রমিক মেটানোর ক্ষেত্রে বিসিসিআইকে নতুন কোনো নিয়মের কথা ভাবতে হতে পারে। আইপিএলে সাধারণত ‘নো প্লে, নো পে’ (না খেললে টাকা নেই) নীতি অনুসরণ করা হয়। কোনো খেলোয়াড় নিলামে দল পাওয়ার পর যদি চোট বা ব্যক্তিগত কারণে একটি ম্যাচও না খেলেন, তবে তিনি কোনো অর্থ পান না। কিন্তু মোস্তাফিজের বিষয়টি সম্পূর্ণ আলাদা। নিয়ম অনুযায়ী নিলামের পর খেলোয়াড় ও ফ্র্যাঞ্চাইজির মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়। যদি খেলোয়াড় ফিট থাকেন এবং খেলার জন্য প্রস্তুত থাকেন, তবে তাকে মাঠে না নামিয়ে পুরো টুর্নামেন্ট বসিয়ে রাখলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে পূর্ণ পারিশ্রমিক দিতে বাধ্য। তবে মোস্তাফিজের সঙ্গে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) সেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি সই হয়েছিল কি না তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। 

সাধারণত অনেক সময় খেলোয়াড়রা ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার পর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। আইপিএলে পারিশ্রমিক না দেওয়ার নির্দিষ্ট কিছু কারণ থাকে। যেমন ম্যাচ ফিক্সিং, ডোপিং, শৃঙ্খলা ভঙ্গ, বা অনাপত্তিপত্র ছাড়া অন্য লিগে অংশ নেওয়া। মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে এর কোনোটিই ঘটেনি। তাকে মূলত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের প্রতিবাদের মুখে বোর্ডের নির্দেশে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে ফিট থাকা সত্ত্বেও খেলতে না পারা মোস্তাফিজের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: