সিন্ডিকেট করে বাড়ানো হচ্ছে শীত নিবারণী সরঞ্জামের দাম

আদিল সরকার

বেশ কয়েক দিন ধরেই রাজধানী ঢাকায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। একই সঙ্গে সারা দেশেও হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু অবস্থা। এমন অবস্থায়

2026-01-04T05:39:30+00:00
2026-01-04T05:39:30+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সিন্ডিকেট করে বাড়ানো হচ্ছে শীত নিবারণী সরঞ্জামের দাম
আদিল সরকার
প্রকাশ: রোববার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৯ এএম 
সংগৃহীত ছবি
বেশ কয়েক দিন ধরেই রাজধানী ঢাকায় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। একই সঙ্গে সারা দেশেও হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু অবস্থা। এমন অবস্থায় চেষ্টার কমতি নেই উষ্ণতা খোঁজার। শুধু শরীর নয়, গরম থাকতে হবে পুরো রুম। এ ছাড়া খাবার-দাবার থেকে গোসল করা সবকিছুতেই প্রয়োজন উষ্ণতার ছোঁয়া। ফলে বাজারে থাকা ইলেকট্রনিক জিনিসপত্রের দোকানে ভিড় করছেন মানুষজন, যা ভরসার মাধ্যম হয়ে উঠেছে শীত নিবারণে। শীতের তীব্রতা থেকে বাঁচতে এখন অনেকেই শীত কমানোর যন্ত্রপাতির খোঁজে ভিড় করছেন ইলেকট্রনিক ও গৃহস্থালি পণ্যের দোকানগুলোতে। বিশেষ করে গিজার, রুম হিটার, গরম বাতাসের ফ্যান, বৈদ্যুতিক কেটলি ও জগ, হটপট, ফ্লাস্ক ইত্যাদি কিনছেন সবাই। দোকান ও নানা শোরুমে ক্রেতারা দরদাম করে পছন্দমতো বেছে নিচ্ছেন এসব পণ্য।

গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেট, বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট, হাতিরপুল মার্কেটসহ ঢাকার কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীত কমানোর যন্ত্রপাতির দোকানে এখন ক্রেতার ভিড় বেড়েছে। সাধারণ গৃহস্থালি পণ্যের তুলনায় এসব ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা এখন বেশি।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, পানি গরম করার যন্ত্র গিজারের দাম শুরু ১০ হাজার থেকে, যা লিটারভেদে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ওয়ালটন, কনকা, ভিশন, মিয়াকো ও মিডিয়া ব্র্যান্ডের গিজার রয়েছে দোকানগুলোতে। গ্রামে কম চাহিদা থাকলেও শহরের বাসাবাড়িতে বেশ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে এ গিজার। গোসলে গরম পানির জন্য সবারই চাহিদা এ যন্ত্রের।

গুলিস্তান স্টেডিয়াম মার্কেটে গিজার কিনতে আসা সাফিয়া খাতুন বলেন, ‘ঢাকায় তীব্র শীতে ঠান্ডা পানি দিয়ে ছেলেমেয়েদের গোসল করানো কষ্টকর হয়ে পড়ছে। সব মিলিয়ে গিজারের খুবই প্রয়োজন। এ ছাড়া এটি শখও বটে; যেহেতু প্রথমবারের মতো ব্যবহার করব। তবে দাম আরেকটু রিজেনেবল হলে ভালো হতো।’

এদিকে দামি গিজারের জায়গায় বিকল্প হিসেবে বাজারে এসেছে ‘হিটার কল’ নামে একটি ইলেকট্রনিক ট্যাব, যার দুই হাজার টাকার মতো। এটি স্বাভাবিক ট্যাবের জায়গায় ব্যবহার করলে কয়েক মিনিটের মধ্যে গরম পানি বের হয়। এ ছাড়া শীতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠা আরেকটি যন্ত্র হলো রুম হিটার। এটি সাধারণত ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে মানভেদে আরও বেশি দামের রয়েছে। রুম হিটারের চাহিদা বাজারে সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। রাজধানীর স্টেডিয়াম মার্কেটের বিক্রেতা আবির হোসেন বলেন, ‘রুম হিটারের খুব বেশি চাহিদা। গতকাল মালামাল আনতে গিয়ে মিয়াকো কোম্পানির ছোট হিটার পাইনি, যেটি বেশি চলছিল। ইমপোর্টাররা পণ্য ছাড়ছেন না। এ ছাড়া প্রতিদিনই দামের পরিবর্তন হচ্ছে।’

অন্যদিকে বৈদ্যুতিক কেটলিও বিক্রি চলছে পুরোদমে। একটি ছোট কেটলি কিনতে মিনিমাম হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে। বায়তুল মোকাররম মার্কেটের একসিলেন্ট মার্টের এক বিক্রেতা বলেন, ‘হিটারের দাম বাড়েনি। আগে যেমন বিক্রি করতাম তেমনই রয়েছে।’ এদিকে শীতকালে অতিরিক্ত এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারে চাপ পড়ছে দেশের বিদ্যুৎ সেক্টরে, যা লোডশেডিংয়ে গড়াচ্ছে।

দেশি ব্র্যান্ড ভিশনের নবাবপুর শোরুমের এক বিক্রয়কর্মী বলেন, গিজার, রুম হিটার, গরম বাতাসের ফ্যান, বৈদ্যুতিক জগ, ফ্লাস্কের মতো পণ্যগুলোর চাহিদা বাড়ে এ সময়ে। কিন্তু এখন শীতের তীব্রতার কারণে সেটি আরও বেশি বেড়েছে। বিশেষ করে ভিশনের গিজার প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতা আকর্ষণের পাশাপাশি বিক্রি আরও বাড়াতে ছাড়ও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, ওয়াশিং মেশিন, রুম হিটার, ওভেন, গিজার ও ফ্লাস্কের মতো বেশিরভাগ ছোট হোম অ্যাপ্লায়েন্স দেশীয় কোম্পানিগুলো উৎপাদন করে। তবে রুম হিটারের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বিদেশ থেকেও আমদানি হয়। সব মিলিয়ে এসব পণ্যের বার্ষিক বাজার আনুমানিক ৩ হাজার কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে ওয়াশিং মেশিনের বাজারই প্রায় এক হাজার কোটি টাকার এবং ওভেনের বাজার ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার।

তবে রুম হিটার ও গিজার পুরোপুরি মৌসুমি পণ্য। তীব্র শীত না পড়লে এসব পণ্যের তেমন চাহিদা থাকে না। ফলে এ পণ্যের স্থিতিশীল বাজার নেই। তারপরও বছরে আনুমানিক ১৫০ কোটি টাকার বেচাকেনা হয় বলে জানা যায় কোম্পানিগুলোর সূত্রে।

ব্র্যান্ড, কার্যক্ষমতা ও মানভেদে হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্যের দামে পার্থক্য রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটামুটি মানের ব্র্যান্ডের রুম হিটারের দাম দেড় হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। নন-ব্র্যান্ডের রুম হিটারের দাম শুরু ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে। বিদেশি রুম হিটারের মধ্যে রেডসুইস অন্যতম। এ ছাড়া চীনের কম পরিচিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের রুম হিটারও বিক্রি হচ্ছে।

ব্র্যান্ডভেদে ইলেকট্রিক কেটলির দাম দুই থেকে তিন হাজার টাকা। ওভেন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। ৩০ থেকে ৫০ লিটারের গিজারের দাম ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এর চেয়েও বেশি দামের পণ্য বাজারে রয়েছে।

রাজধানীর গুলিস্তানের স্টেডিয়াম মার্কেটে প্রায় দেড়শ দোকানে আমদানি করা ও দেশে উৎপাদিত হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য পাইকারি ও খুচরা দামে বিক্রি হয়। গত মঙ্গলবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানেই রুম হিটারের খোঁজ নিতে আসছেন ক্রেতারা। বিক্রেতাদের ভাষ্য, স্টেডিয়াম মার্কেটে ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ১৬ হাজার টাকার রুম হিটার রয়েছে।


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: