হাড়কাঁপানো শীতে যেখানে লেপ থেকে বের হওয়াই দায়, সেখানে প্রয়াগরাজের বরফশীতল পানিতে স্নানে নেমেছে শতশত মানুষ। উত্তরপ্রদেশের গঙ্গা, যমুনা আর পৌরাণিক সরস্বতীর এই মোহনায় তীব্র শীত উপেক্ষা করেই ভিড় জমিয়েছেন অগণিত তীর্থযাত্রী। কুয়াশাচ্ছন্ন নদীতীরের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ ওপর থেকে দেখলে মনে হয় যেন এক জনসমুদ্র। একদিকে স্বেচ্ছাসেবীদের মাইকিং আর শৃঙ্খলা বজায় রাখার চেষ্টা, অন্যদিকে বাদ্যযন্ত্র ও উলুধ্বনিতে মুখর পুরো এলাকা—সব মিলিয়ে ত্রিবেণী সঙ্গমের তীরে তৈরি হয়েছে রবরব আমেজ।
মূলত মাঘ মেলা ও পৌষ পূর্ণিমার স্নান ঘিরেই এই আয়োজন। আগতদের বিশ্বাস, এই পবিত্র মোহনায় ডুব দিলেই মুক্তি মিলবে সব পাপ ও ব্যাধি থেকে। তাই তীব্র শীত উপেক্ষা করেই কেউ প্রদীপ ভাসাচ্ছেন, কেউবা ব্যস্ত দান-ধ্যানে। তীর্থযাত্রীদের কাছে হাড়কাঁপানো শীতের চেয়েও এখানে বড় হয়ে উঠেছে তাদের দীর্ঘদিনের ভক্তি ও বিশ্বাস।
উপস্থিত এক নারী বলেন, আজ পৌষ পূর্ণিমা উপলক্ষে আমি এখানে স্নান করতে এসেছি। কথিত আছে যে, এই পবিত্র দিনে এখানে স্নান করলে মানুষের মনের সব আশা পূরণ হয় এবং সব ধরনের রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
আরেক নারী শ্বেতা বলেন, আমি আমার পরিবারের সাথে দিল্লি থেকে এখানে এসেছি। আজ প্রয়াগরাজে প্রথম স্নান এবং পৌষ পূর্ণিমা। আমাদের বিশ্বাস, এই দিনে এখানে দান করলে সব চাওয়া পাওয়া পূরণ হয়।
কর্তৃপক্ষের দাবি, ৩রা জানুয়ারি সকালেই ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান সেরেছেন প্রায় ৯ লাখ মানুষ। আর এই স্নানের মধ্য দিয়েই শুরু হয় মাসব্যাপী ‘কল্পবাস’ প্রথা, যা চলবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
তবে বিশাল এই জনস্রোত সামলাতে হিমশিম খেতে হয় স্থানীয় প্রশাসনকে। উৎসব চলাকালীন প্রায় ১৫ কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে ভেবে মেলা প্রাঙ্গণে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সিসিটিভি নজরদারি আর বাড়তি নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে প্রয়াগরাজ এখন এক নিশ্ছিদ্র উৎসবের নগরী।
কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি আর বাড়তি নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা প্রয়াগরাজ যেন এখন পরিণত হয়েছে উৎসবমুখর এক জনপদে।
/এমএইচআর