ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তার স্ত্রীকে একটি সুরক্ষিত দুর্গ থেকে গতকাল শনিবার আটক করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এখন থেকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন বলে রায় দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। রোববার (৪ জানুয়ারি) এএফপির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। আর যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিকোলা মাদুরোকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কারাগারটি এর আগে ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল এবং পি ডিডির মতো হাই-প্রোফাইল বন্দীদের রাখার জন্য আলোচনায় এসেছিল। হাই-প্রোফাইল বন্দিদের রাখার কারণে এটি প্রায়ই সংবাদ শিরোনামে আসে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্র সময় গতকাল শনিবার ভোরে একটি সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হয় মাদুরোকে। সেখান থেকে ব্রুকলিন ডিটেনশন সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার আগে তাকে নিউইয়র্কে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংস্থার (ডিইএ) কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে মাদক পাচার ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদিও মাদুরো আগে থেকেই কোনও ধরনের মাদক চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে নিউইয়র্কের একটি আদালতে হাজির করা হবে। তবে তাদের আদালতে তোলার সুনির্দিষ্ট তারিখটি এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে ‘এমডিসি’ মাদক ও অস্ত্র মামলার মুখোমুখি হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে এই কারাগারেই রাখা হবে। তবে মাদুরোর স্ত্রীর বর্তমান অবস্থা বা তাকে কোথায় রাখা হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি। নিউইয়র্ক সিটির একমাত্র ফেডারেল কারাগার হিসেবে পরিচিত এই ‘এমডিসি’। হাই-প্রোফাইল বন্দিদের রাখার কারণে এটি প্রায়ই সংবাদ শিরোনামে আসে।
এই কারাগারটির বন্দিদের জন্য অত্যন্ত ‘ভয়ঙ্কর’ হিসেবেও পরিচিত। নোংরা পরিবেশ, চরম সহিংসতা এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলার বহু অভিযোগ রয়েছে এই ডিটেনশন সেন্টারের বিরুদ্ধে। এমনকি এক বন্দিকে কয়েকবার ছুরিকাঘাত করার পর চিকিৎসা না দিয়ে উল্টো ২৫ দিন নির্জন সেলে আটকে রাখার মতো অমানবিক অভিযোগও রয়েছে এই কারাগার নিয়ে।
সময়ের আলো/এনএ