সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’ লিখিত পরীক্ষার সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। এবারের নিয়োগে শূন্য পদের তুলনায় প্রার্থীর সংখ্যা আকাশচুম্বী।
দুই ধাপ মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৩৮৫টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন। সে হিসাবে গড়ে প্রতিটি পদের বিপরীতে লড়াই করবেন প্রায় ৭৫ জন চাকরিপ্রত্যাশী।
আগামী ৯ জানুয়ারি সকালে এই পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা নেওয়া হবে বিকালে। সকাল ১০টার পরিবর্তে বেলা ৩টা থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তিন পার্বত্য জেলা ব্যতীত দেশের সব জেলায় একযোগে এই পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে।
রোববার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে সময়ের এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর (ডিপিই) সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে ২ জানুয়ারির পরীক্ষা পিছিয়ে ৯ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
তবে পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময় সকালে না রেখে বিকালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
পরীক্ষার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে (বেলা ২টার মধ্যে) কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর আর কোনো প্রার্থীকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
ব্লু টুথ বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস শনাক্ত করতে এবার পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শর্ত দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীদের উভয় কান উন্মুক্ত রাখতে হবে। তল্লাশির সময় প্রয়োজনে টর্চলাইট দিয়ে কান পরীক্ষা করা হবে।
কেন্দ্রে মোবাইল ফোন, ক্যালকুলেটর, স্মার্ট ওয়াচ, যেকোনো ধরনের ঘড়ি, পার্স বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব সামগ্রী পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে বহিষ্কার ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য রঙিন প্রিন্ট করা প্রবেশপত্র ও মূল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সঙ্গে আনা বাধ্যতামূলক। উত্তরপত্র (ওএমআর) পূরণে অবশ্যই কালো কালির বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার করতে হবে।
সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে প্রতিটি কেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। নিয়োগের নামে কোনো অসাধু চক্রের সঙ্গে লেনদেন না করার জন্য প্রার্থীদের সতর্ক করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।
সময়ের আলো/এআর