বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রার প্রতিষ্ঠার দুই দশক পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদের প্রথম নির্বাচন চলছে উৎসবের আমেজে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে থেকে তীব্র শীতের মধ্যেই লাইন ধরে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আর প্রথমবার ভোট দিয়ে তারা আনন্দ প্রকাশ করছেন। ক্যাম্পাসে জীবনে প্রথমবার ভোট দিয়ে কেউ কেউ বলছেন, তাদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। আবার, কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, প্রার্থীরা তাদের এ ভোটের যথাযথ মর্যাদা দেবে।
প্রার্থীরা গত কয়েক দিনের প্রচার-প্রচারণায় নানা প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন। ইশতেহারে ঘোষণা দিয়েছেন কথার ফুলঝুরি। তাই ভোটাররা বলছেন, সব প্রতিশ্রুতি হয়তো পূরণ করতে পারবেন না প্রার্থীরা। কিন্তু প্রতিবছর যেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জকসু) প্রতিনিধি নির্বাচন হয়, সেই প্রত্যাশা করি। তাহলে ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে। একইসঙ্গে সৎ-যোগ্য ও শিক্ষার্থীবান্ধব নেতৃত্ব চান জবি শিক্ষার্থীরা।
যদিও রাজনৈতিক পরিচয় প্রার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; তবে এবারের নির্বাচনে অধিক গুরুত্ব পাচ্ছেন স্বচ্ছ, কর্মক্ষমতা, শিক্ষাবান্ধব ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থে বিভিন্ন আন্দোলন ও কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন এমন প্রার্থীরা।
রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে যোগ্যতা মূল্যায়ন করার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার জীবনের প্রথমবার ক্যাম্পাসে ভোট দিতে এসে এই প্রত্যাশার কথা জানান তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনের সামনে কথা হয় উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারে শিক্ষার্থী নাতিফা রাহাতের সঙ্গে। তিনি সময়ের আলোকে বলেন, প্রথমত আমি রাজনীতি পছন্দ করি না। তাই ভোট দিতে গিয়ে আমি মেধা এবং যোগ্যতার বাইরে অন্য কোনো কিছু আমি বিবেচনা করিনি। সৎ যোগ্য ও শিক্ষার্থীদের জন্য যারা নিবেদিতপ্রাণ এবং বিপদ-আপদে সব সময় আমাদের পাশে থাকবে, আমরা সেই ধরনের নেতৃত্ব প্রত্যাশা করছি।
রিজিয়া জান্নাতি নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমি খুবই আনন্দিত জীবনের প্রথম ভোট বিশ্ববিদ্যালয়ে দিতে পেরেছি। আশা করছি, এই নির্বাচনে যারাই জয় লাভ করবে, তারা যেন তাদের ইশতেহার অনুযায়ী কাজ করে। তাহলে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ হবে এবং ধীরে ধীরে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগবে।
বাংলা বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিন সময়ের আলোকে বলেন, জবি শিক্ষার্থীদের হল, পরিবহন সমস্যাসহ নানা ধরনের সমস্যায় জর্জরিত। আশা করছি নির্বাচনে যারাই জয়ী হবেন তারা শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হবেন।
তাহমিদ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী সময়ের আলোকে বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবন লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতির ছোবলে বিপন্ন। ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি ও ন্যায়সংগত অধিকার আদায়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করার কথা থাকলেও স্বার্থ নিয়ে অন্তঃকলহ আর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছেন তারা। আর এর শিকার হচ্ছেন একের পর এক শিক্ষার্থী। ফলে এই জকসু নির্বাচন নিয়ে আমি যত ভালোই প্রত্যাশা করি না কেন, তা সবই বৃথা। তবুও আমি আশাবাদী মানুষ। নতুন নেতৃত্ব ভালো কাজ করবে, এই আশা করছি।
নাজিম আহমেদ নামের এক শিক্ষার্থী সময়ের আলোকে বলেন, জকসু নির্বাচন আমাদের সবারই একটি স্বপ্ন ছিল। আজ তা পূরণ হয়েছে। আমরা চাই নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের পক্ষে কাজ করুক এবং প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি তুলে ধরুক।
জকসু নির্বাচনে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভোটারদের উপস্থিতি। উপস্থিত এসব ভোটারদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী ভোটার। তবে সকাল থেকে ভোটার কাস্টিংয়ের সংখ্যা আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন প্রার্থীরা।
সরেজমিন শহীদ সাজিদ ভবন, রফিক ভবন, বিজ্ঞান অনুষদ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। আর এ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা চোখে পড়ার মতো।
আরআর