বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে প্লাস্টিকের উপস্থিতি ও জেলিফিশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলভাগে আমাদের অবহেলা এবং অপ্রতুল গবেষণার কারণে এই বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ও ইকোসিস্টেম নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
‘আরভি ডক্টর ফ্রিডজফ ন্যানসেন’ জাহাজে পরিচালিত এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। গবেষণা কাজটি গত বছরের আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি দেশের ২৫ জন বিজ্ঞানী, এর মধ্যে ১৩ জন বাংলাদেশি, নিয়ে সম্পন্ন হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেস-এর অধ্যাপক সায়েদুর রহমান চৌধুরী গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরে জানান, ৬৫ প্রজাতির নতুন জলজ প্রাণীর সন্ধান মিলেছে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা এবং বঙ্গোপসাগরের জলজ জীববৈচিত্র্যের অবস্থা। বিশেষ করে, গত কয়েক বছরে গভীর সমুদ্রে জেলিফিশের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ওভার-ফিশিংয়ের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
অধ্যাপক সায়েদুর আরও বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮ সালের তুলনায় গভীর সমুদ্রে বড় মাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে এবং বর্তমানে ২ হাজার মিটার গভীরতায় প্লাস্টিকও পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত চিন্তার বিষয়।’
আরও পড়ুন
গবেষণায় উঠে এসেছে যে, বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদ ক্রমাগত সংকুচিত হচ্ছে, এবং প্রায় ২৭০-২৮০টি বড় ট্রলার মাছ আহরণ করছে, যাদের মধ্যে ৭০টি ট্রলার ‘সোনার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে টার্গেটেড ফিশিং করছে, যা ছোট মাছ ধরার জন্য ক্ষতিকর এবং বৃহৎ মাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, ‘যদি এই ধরনের টার্গেটেড ফিশিং চলতে থাকে, তবে বঙ্গোপসাগর দ্রুত মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে।’
তবে কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে, যেমন গবেষণায় টুনা মাছের আধিক্য এবং সুন্দরবনের নিচে একটি ফিশিং নার্সারিয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা সরকারের সংরক্ষণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কাজ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বক্তব্যে বলেন, ‘সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণার মাধ্যমে আমাদের সামুদ্রিক অর্থনীতির সম্ভাবনা প্রসারিত করা সম্ভব। জাপান, ইন্দোনেশিয়া ও মালদ্বীপের সাথে যৌথ গবেষণায় অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
এছাড়া, যুক্তরাজ্যের রয়েল নেভির একটি বহুমুখী সার্ভে ভেসেল ‘এইচএমএস এন্টারপ্রাইজ’ বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে, যা সমুদ্র গবেষণায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী ও মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
এএডি/