ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৩৬, সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানজুড়ে টানা ১০ দিনের বিক্ষোভের সময় কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী

2026-01-07T11:05:50+00:00
2026-01-07T11:05:50+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ইরানে বিক্ষোভে নিহত ৩৬, সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১১:০৫ এএম   (ভিজিট : ১৯৮)
মঙ্গলবার রাতে পশ্চিমাঞ্চলের আবদানানে বড় বিক্ষোভ হয়। সংগৃহীত ছবি
ইরানজুড়ে টানা ১০ দিনের বিক্ষোভের সময় কমপক্ষে ৩৬ জন নিহত হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন বিক্ষোভকারী এবং দুইজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। যদিও ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সংখ্যা প্রকাশ করেনি, তারা জানিয়েছে যে তিনজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। বিবিসি পার্সিয়ান এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএনএ (HRANA) জানিয়েছে, অস্থিরতার সময় ৬০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন এবং ২,০৭৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিক্ষোভগুলি ৩১টি প্রদেশের মধ্যে ২৭টিতে ছড়িয়ে পড়েছে। আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে ইরানি মুদ্রার বিপুল পতন, অর্থনৈতিক সংকট এবং ৪০ শতাংশে পৌঁছানো মুদ্রাস্ফীতি বলা হচ্ছে।

বিক্ষোভের ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মঙ্গলবার তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে দাঙ্গা পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করছে। বিক্ষোভকারীরা ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ স্লোগান দিতে শোনা গেছে এবং পরে কাঁদানে গ্যাস থেকে পালানোর চেষ্টা করেছে। পার্শ্ববর্তী ভবনের ছাদ থেকে ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে, আরও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের কারণে জনতা বাজার থেকে ছুটে গেছে।

পশ্চিমাঞ্চলীয় ইলাম প্রদেশের মালেকশাহিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। স্থানীয় ভিডিওতে দেখা গেছে, ব্যাংক ও সরকারি চত্বরে আগুন লেগেছে এবং মানুষ আসবাবপত্র, টায়ার ও কাগজ পোড়াচ্ছে।

বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল ২৮ ডিসেম্বর, যখন দোকানদাররা মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রার মূল্যপতন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে রাজধানীর রাস্তায় নেমে আসে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে যোগ দেয় এবং বিক্ষোভ অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, দাঙ্গাকারীদের তাদের জায়গায় বসানো উচিত এবং শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করা যাবে না। বিচার বিভাগের প্রধানও বলেছেন, যারা বৈধভাবে এবং যথাযথভাবে তাদের জীবিকা সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তাদের কথা শোনা হবে, কিন্তু দাঙ্গাকারীদের প্রতি কোনও নমনীয়তা দেখানো হবে না।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, সকল ব্যক্তিকে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার এবং তাদের অভিযোগ প্রকাশ করার সুযোগ থাকতে হবে।


অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, ইরানি নিরাপত্তা বাহিনী শটগান ব্যবহার করে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে এবং হাসপাতালে থাকা চিকিৎসক ও আহতদের মারধর করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফরও এই হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেছে।

কুর্দি মানবাধিকার সংস্থা হেঙ্গাও জানিয়েছে, মালেকশাহিতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিক্ষোভকারীরাও আহত হয়েছেন। তারা নিশ্চিত করেছে, এই ঘটনায় পাঁচ শিশুসহ কমপক্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছে।

২০২২ সালে কুর্দি তরুণী মাহসা আমিনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানের এই বিক্ষোভকে সবচেয়ে ব্যাপক আন্দোলন হিসেবে ধরা হচ্ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় নিরাপত্তা বাহিনী সহিংসভাবে দমন-পীড়ণ করে ৫৫০-এরও বেশি মানুষকে হত্যা এবং ২০ হাজার জনকে আটক করেছিল।

বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর আরও অস্থিতিশীল হওয়ার কারণে দমন-পীড়ণের মাত্রা আগের চেয়ে অনেক বেশি এবং সহিংস হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি শঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই অস্থিতিশিতা ও সহিংসতা অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের ওপর আরও বিপজ্জনক প্রভাব পড়তে পারে।


/ইউএমএইচ



  বিষয়:   ইরান  বিক্ষোভ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: