সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে ভারতীয় বাহিনী কর্তৃক হত্যার ১৫ বছর আজ। সীমান্তে এই হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) আধিপত্যবাদবিরোধী কবিতা ও গান আয়োজন করা হয়।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকালে ডাকসুর প্রাঙ্গণে এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ ফেলানিকে যখন গুলি করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, রক্ত যখন মাটিতে পড়ছিল সেটি শুধু কুড়িগ্রামে রক্ত পড়ে নি সাড়া দেশে পড়েছিল । তাকে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার মাধ্যমে পুরো দেশকে ঝুলিয়ে রেখেছিল। সেই দিন বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব হারিয়েছিল। আমরা দেখেছি ভারতের আধিপত্যবাদ কীভাবে আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল। আমাদের সবকিছু ভারত থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হতো। আমাদের সংস্কৃতিক, অর্থনীতি, শিক্ষা সবকিছু ধ্বংস করা হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ছিল পুতুল আর তাকে পরিচালনা করা হতো ভারত থেকে।
তিনি বলেন, আধিপত্যবাদ যারা কায়েম করতে চায় তাদের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক থাকবে না। আমাদের সম্পর্ক হবে ইনসাফের ভিত্তিতে। ভারতের কোন দালালদের ঠিকানা এই দেশে হবে না। এই ক্ষেত্রে আমার জুলাই প্রজন্ম ঐক্যবদ্ধ আছি। সবাই একসাথে এসব আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়ে যাবো।
তিনি আরও বলেন, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে যে লড়াই তা সাংস্কৃতিকভাবে জারি রাখতে হবে। গান, কবিতাহ নাটকের মাধ্যমে আধিপত্যবাদের লড়াই তুলে ধরতে হবে। জুলাই বিপ্লবকে ধরে রাখতে হলে আরেকটা সাংস্কৃতিক বিপ্লব দরকার।
অনুষ্ঠানে ফেলানীর মা বলেন, আজকে ১৫ বছর হয়ে গেলো ফেলানীকে গুলি করে কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এখনো বিচার পাই নি। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি, আমার মেয়ের বিচার হবে। যদি ফেলানীর বিচার হতো তাহলে আর কোনো মায়ের সন্তানকে সীমান্তে জীবন দিতে হতো না। শেখ হাসিনা চাইলেই বিচার করতে পারতো, কিন্তু করেনি। কারণ ভারতের সাথে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু আমি এখন আশা করি যেই সরকারই আসুক আমার মেয়ের হত্যার বিচার যেন করা হয়।
/এমএইচআর