জকসুতে শিবিরের জয়ের নেপথ্যে ছাত্রবান্ধব সাংগঠনিক শক্তি

মোশফিকুর রহমান ইমন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে বেশিরভাগ পদে বিজয়ী হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলে’র প্রার্থীরা।

2026-01-09T02:37:43+00:00
2026-01-09T02:37:43+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জকসুতে শিবিরের জয়ের নেপথ্যে ছাত্রবান্ধব সাংগঠনিক শক্তি
মোশফিকুর রহমান ইমন
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৭ এএম 
জকসু) নির্বাচনে বেশিরভাগ পদে বিজয়ী হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলে’র প্রার্থীরা। ছবি : সংগৃহীত
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে বেশিরভাগ পদে বিজয়ী হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেলে’র প্রার্থীরা। জকসুর ২১টি পদের মধ্যে ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ ১৬টি পদে জয় পেয়েছেন তারা। এ ফল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ।

শুরু থেকেই ছাত্রশিবির ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিতভাবে নির্বাচনি প্রচার চালায়। শিক্ষার্থীরা বলছেন, গত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের পর মাঠপর্যায়ে শিবির কিছুটা দৃশ্যমান হলেও তাদের অধিকাংশ কর্মী-সমর্থক এখনও ক্যাম্পাসে আত্মপ্রকাশ করেননি। কমিটিও ছিল সীমিত নেতাদের নিয়ে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের সংগঠনের কর্মীদের সহযোগিতা পেয়েছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিবিরের শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মকাণ্ড প্রচার হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। বিশেষ করে শিবির প্যানেলের প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি। এতে শিক্ষার্থীদের কাছে ‘ক্লিন ইমেজ’ ধারণা তৈরি হয়।

অনেকের মতে, ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের আশানুরূপ ফল না আসার পেছনে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকা, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব দায়ী। অধিকাংশ প্রার্থীর ফেসভ্যালু কম থাকায় শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের তুলে ধরা কঠিন হয়েছে। তবে অন্যান্য ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তুলনায় জকসুতে ভালো করেছে ছাত্রদল। ভিপি পদে হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। পাশাপাশি অন্যান্য পদেও লড়াই হয়েছে। কিন্তু জিএস পদে হারের ব্যবধান ছিল বেশি।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জকসু নির্বাচনে শিবিরের জয়ের ক্ষেত্রে সংগঠনটির নিজস্ব ভোটব্যাংক, সাংগঠনিক পরিচিতি, দক্ষতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরু করার পর স্বাস্থ্যসেবা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ ভোটারদের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে। মূলত শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাদের সম্পর্কে ইতিবাচক ভাবমূর্তিই ছিল জয়ের প্রধান নিয়ামক। বিশেষ করে ঐক্যবদ্ধ সাংগঠনিক শক্তি তাদের জয়ের অন্যতম কারণ। কৌশলগত অবস্থান : শিক্ষার্থীরা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কঠোর নীতি শিবিরের কার্যক্রমকে সীমিত করে দেয়। তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে মিশে রাজনীতি ধরে রেখেছিল শিবিরের একটি পক্ষ। আবার ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে ক্লাস-পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে রাজনীতি-নিরপেক্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিজেদের প্রতি সহানুভূতি তৈরি করেছে আরেকটি পক্ষ। 

এর আগে বিএনপির সময়েও শিবিরের একটি পক্ষের নেতাকর্মীরা সেই দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। যার ফলে বর্তমানে তারা ক্যাম্পাসে একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পেরেছে বলেই মনে করেন একাধিক ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ফল : একাধিক শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা বলছেন, জকসু নির্বাচনে শিবিরের জয় কেবল কৌশল কিংবা কাকতালীয় নয়। এর পেছনে রয়েছে শিবিরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক ও কার্যকর পদক্ষেপ। দলটির নেতাকর্মীরা দলীয় পরিচয় গোপন রেখে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃত্বে ছিলেন এবং আছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- বিএনসিসি, ডিবেটিং সোসাইটি, আবৃত্তি সংসদ, রোভার স্কাউটসহ অন্যান্য ক্লাব। এতে নিজস্ব ভোটব্যাংক গড়ে উঠেছে।

নিজেদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণা, নারীদের নিরাপত্তা ও পোশাকের স্বাধীনতা খর্ব হওয়ার শঙ্কার বিষয়টিকে বিবেচনায় নেয় সংগঠনটি। নানা পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের এসব ধারণা ও শঙ্কার বিষয়গুলো দূর করতে কাজ করেন তারা। জকসু নির্বাচনে সমন্বিত শিক্ষার্থী প্যানেলে ৪ নারী প্রার্থী রাখা হয়। সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও প্রার্থী করা হয়। এগুলো ভোটারদের মধ্যে তাদের প্রতি আস্থা বাড়িয়েছে। 

ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক বিভিন্ন আয়োজন : ৫ আগস্টের পর ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে রাজনীতি শুরুর পর থেকে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআন শরিফ বিতরণ, বৃত্তি, অসুস্থদের সহায়তা প্রদানসহ নানা কার্যক্রম চালিয়েছে সংগঠনটি। নতুন করে ক্যাম্পাসে আত্মপ্রকাশের পর থেকে এ পর্যন্ত ছাত্রশিবির দলীয় কোন্দল কিংবা কোনো ধরনের সংঘর্ষে জড়ায়নি।

নিজস্ব ভোটব্যাংক : নির্বাচনে শিবিরের প্যানেলে প্রার্থীদের বেশিরভাগই একাধিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের নিজস্ব ভোটব্যাংক ছিল। ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ছাত্রশিবিরের সমর্থকগোষ্ঠী তাদের পুরো প্যানেল ধরে ভোট দিয়েছেন, ফলে তাদের ফিক্সড ভোট অন্য কোনো প্যানেলের সদস্যরা পাননি।

আবার কিছু কিছু শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, অনেক যোগ্য প্রার্থী শুধু প্যানেলনির্ভর ভোটিংয়ের কারণে পরাজিত হয়েছেন। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি প্রার্থীর যোগ্যতা ও কাজ দেখে ভোট দিয়েছি। কিন্তু ফলাফলে দেখছি, অপরিচিত অনেকে শুধু প্যানেলের কারণে জিতে গেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, গ্রুপিংয়ের কারণে অনেক পরিচিত মুখকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। জুনিয়রদের প্রার্থী করা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলেও তাদের মধ্যে খুব বেশি পরিচিত মুখ ছিল না। অনেক প্রার্থীর যোগাযোগ অদক্ষতাও ভুগিয়েছে।

বুধবার রাত ১টায় জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান আনুষ্ঠানিকভাবে জকসুর ফলাফল ঘোষণা করেন। এতে ১৬ পদে শিবির, ৪ পদে ছাত্রদল ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছে।

কে কোন পদে জয়ী, কত ভোট পেলেন : ভিপি পদে জয়ী হয়েছেন ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রিয়াজুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ৫৫৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের এ কে এম রাকিব পেয়েছেন ৪ হাজার ৬৮৮ ভোট। বিজয়ী ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি। এর আগে তিনি সাধারণ সম্পাদক ও অফিস সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন। রিয়াজুল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।

জিএস পদে ৫ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন আবদুল আলীম আরিফ। এ পদের প্রতিদ্বন্দ্বী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২ হাজার ২৩ ভোট। বিজয়ী জিএস আবদুল আলীম আরিফ ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।

এজিএস পদে জয়ী হয়েছেন মাসুদ রানা। তিনি পেয়েছেন ৫ হাজার ২০ ভোট। এ পদে নিকটত প্রতিদ্বন্দ্বী আতিকুল ইসলাম তানজীল পেয়েছেন ৪ হাজার ২২ ভোট। বিজয়ী এজিএস মাসুদ রানা ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। মাসুদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

এ ছাড়া ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেল থেকে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মো. নুরনবী ৫ হাজার ৪০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। নুরনবী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল ৫ হাজার ৫২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার অফিস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইব্রাহিম জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক মোছা. সুখীমন খাতুন ৪ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত।

স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ ৪ হাজার ৪৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নুর মোহাম্মদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি স্নাতকে অধ্যয়নরত।

আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক হাবীব মোহাম্মদ ফারুক ৪ হাজার ৬৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং স্নাতকে অধ্যয়নরত।

আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক নওশীন নাওয়ার ৪ হাজার ৪০১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ইনকিলাব মঞ্চ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জবির ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নওশীন বর্তমানে প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিজয়ী জর্জিস আনোয়ার নাইম পেয়েছেন ২ হাজার ৪৬৭ ভোট। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং স্নাতকে অধ্যয়নরত।

৩ হাজার ৪৮৬ ভোট পেয়ে সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে বিজয়ী মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকের তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত।

ছাত্রদল, ছাত্র অধিকার ও সাধারণ শিক্ষার্থী সমন্বিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেল জয় পেয়েছে তিনটি সম্পাদকীয় পদে। সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে তাকরিম মিয়া ৫ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি জবির নাট্যকলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে স্নাতকে অধ্যয়নরত।

পরিবহন সম্পাদক পদে ৪ হাজার ২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী মাহিদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তিনি পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং স্নাতকে অধ্যয়নরত।

পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৪ হাজার ৬৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রিয়াসাল রাকিব জবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বাংলা বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত।

কার্যনির্বাহী সদস্যের সাতটি পদের মধ্যে শিবির সমর্থিত প্যানেল থেকে বিজয়ী হয়েছেন পাঁচজন। সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছেন শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ফাতেমা আক্তার অওরিন, ৩ হাজার ৮৫১ ভোট। তিনি লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। একই প্যানেলের আকিব হাসান ৩ হাজার ৫৮৮ ভোট পেয়েছেন। তিনি অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। শান্তা আক্তার পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৫৪ ভোট। তিনি শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মেহেদী হাসান ৩ হাজার ৩৪৮ ভোট পেয়েছেন। তিনি সিএসই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মো. আবদুল্লাহ আল ফারুক ২ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলে একজন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি হলেন মোহাম্মদ সাদমান আমিন সাম্য। তিনি ৩ হাজার ৩০৭ ভোট পেয়েছেন। সাম্য ফিন্যান্স বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাহিদ হাসান ৩ হাজার ১২৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি ইংরেজি বিভাগের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওএমআর যন্ত্রে ভোট গণনা শুরু করে নির্বাচন কমিশন। তবে দুটি যন্ত্রে দুই রকম তথ্য দেখানোর কারণে গণনা স্থগিত রাখা হয়। এরপর প্রার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনা করে প্রথম ২৭৮টি ব্যালট পেপার হাতে গণনার পর যন্ত্রে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেয়। ব্যালটগুলো হাতে গণনার পর রাত ৩টার দিকে যন্ত্রে যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হলে আবারও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। পরে আবার ফল গণনা শুরু করতে ভোর হয়ে যায়।

সময়ের আলো/এসকে/ 


  বিষয়:   শিবির  জয়  ছাত্রবান্ধব  সাংগঠনিক শক্তি 


Loading...
Loading...
- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: