তীব্র আন্দোলনের মুখে ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এরপর ইরানের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে। এতে করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ইরানে শুরু হওয়া বিক্ষোভ তীব্র থেকে তীব্র হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে দেশটির রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের বিক্ষোভের একটি ভিডিও যাচাই করে দেখেছে তারা । এতে দেখা গেছে, হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
ভিডিওতে গাড়ির হর্নের শব্দও শোনা গেছে। যেগুলো মানুষের ভীড় পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
এতে রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে।
এর আগে, আন্দোলন দমাতে এবার ইরানের সব জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে অনলাইন পর্যবেক্ষক গ্রুপ নেটব্লকস। এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে সংবাদামাধ্যম আলজাজিরা।
নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানের সব জায়গায় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট পরিলক্ষিত হচ্ছে।
ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নের আগে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ডিজিটাল সেন্সরশিপ ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে গ্রুপটি। তারা বলেছে, যখন দেশটিতে সংকটময় মুহূর্ত চলছে তখন ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন করে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের অধিকারকে ব্যাহত করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ইরানি রিয়ালের অবিশ্বাস্যরকম পতন হওয়ার পর গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথমে বিক্ষোভ শুরু হয়। যা ধীরে ধীরে দেশটির বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
এটির সূত্রপাত হয় ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। তারা দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভের সূচনা করেন। যা এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০টি শহরে ছড়িয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় সহিংসতাও হয়েছে। এতে করে বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসহ ৪০ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
সময়ের আলো/এসকে/