অ্যাশেজ জয় হয়ে
গিয়েছিল অনেক আগেই। তবে লড়াইটা অ্যাশেজ বলেই ট্রফির চেয়ে মর্যাদাটা একটু
বেশি। তাই তো ছেড়ে কথা বলতে নারাজ দুদলই। সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে পঞ্চম ও
শেষ টেস্টে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ৪-১ ব্যবধানে অ্যাশেজ সিরিজ জিতল
অস্ট্রেলিয়া। প্রথম তিন টেস্ট জিতেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল অজিরা। মাঝপথে
মেলবোর্নে কিছুটা ছন্দপতন হলেও সিডনিতে আবারও নিজেদের দাপট দেখাল
স্বাগতিকরা। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই যুগেও অ্যাশেজের ঐতিহ্য আর আভিজাত্য
রক্ষায় কোনো ছাড় দেয়নি অজি বাহিনী।
চোটের কারণে বাইরে থাকলেও শেষ
দিনে মাঠে ছিলেন নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। ধারাভাষ্য কক্ষে সময়
কাটানোর পর ট্রফি জয়ের উৎসবে যোগ দেন তিনি। কিংবদন্তি স্টিভ ওয়াহর কাছ থেকে
অ্যাশেজের প্রতীক ‘ভস্মাধার’ বুঝে নেন ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ।
চোটাক্রান্ত স্পিনার নাথান লায়নও সতীর্থদের এই ঐতিহাসিক জয়ের উৎসবে শামিল
হন।
ম্যাচটি ছিল ওপেনার উসমান খাজার ১৫ বছরের দীর্ঘ টেস্ট
ক্যারিয়ারের শেষ দিন। শেষ ইনিংসে মাত্র ৬ রান করে আউট হলেও সিডনির দর্শকরা
তাকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। সতীর্থ ও প্রতিপক্ষের অভিবাদনের মাঝে ব্যাট
উঁচিয়ে মাঠের ভেতরেই সেজদা দিয়ে ক্যারিয়ারের ইতি টানেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
৮৮ টেস্টে ৬ হাজার ২২৯ রান নিয়ে থামলেন তিনি।
ম্যাচ শেষে খাজা
বলেন, ‘জয়ী রানটা আমিই করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সবচেয়ে বড় কথা, শেষ ম্যাচে
দল জিতেছে। সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন করতে পেরেছি। এ জন্য কৃতজ্ঞ। পুরো
ম্যাচজুড়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারিনি। অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখানে
মনোযোগ দেওয়া খুব কঠিন ছিল।’
চতুর্থ দিনে জ্যাকব বেথেলের অসাধারণ
ব্যাটিংয়ে কিছুটা আশা জাগিয়েছিল ইংল্যান্ড। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে
শেষ দিনে ১৫৪ রানে নিয়ে যান বেথেল। তবে পঞ্চম দিনের সকালে নতুন বল হাতে
নিতেই জ্বলে উঠেন মিচেল স্টার্ক। বাকি ২ উইকেটে ইংল্যান্ড মাত্র ৪০ রান যোগ
করতে সক্ষম হয়। ৩০২ রানে থামে সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংস।
১৬০ রানের
সহজ লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন ট্রাভিস হেড (২৯) ও জেইক
ওয়েদেরল্ড (৩৪)। ১০ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ওঠে ৬২ রান। দ্রুত উইকেট পড়লেও
অজিদের জয় আটকানো যায়নি। স্টিভেন স্মিথ (১২) ও বিদায়ি টেস্ট খেলতে নামা
উসমান খাজা দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান। এরপর পর মার্নাস লাবুশানে (৩৭),
অ্যালেক্স কেয়ারি ও ক্যামেরন গ্রিন জয় নিশ্চিত করেন। পাঁচের বেশি রানরেট
বজায় রেখে দ্বিতীয় সেশনেই জয় তুলে নেয় স্বাগতিকরা।
পুরো সিরিজে
ব্যাটে-বলে আধিপত্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার। পুরো সিরিজে ৮৭ স্ট্রাইক রেটে ৬২৯
রান আর ম্যাচে ১৬২ ও ২৯ রান করে ম্যাচসেরা হন ট্রাভিস হেড। ৩১ উইকেট শিকার
করে সিরিজসেরার ট্রফি জিতে নেন মিচেল স্টার্ক। নিয়মিত অধিনায়ক কামিন্স বা
হেইজেলউডদের অনুপস্থিতিতেও ২০১৫ সাল থেকে অ্যাশেজে অপরাজিত থাকার রেকর্ড
ধরে রাখল অস্ট্রেলিয়া।
সময়ের আলো/এসকে/