কুড়িগ্রামে টানা কয়েকদিনের শীত ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। বৃষ্টির ফোঁটার মতো ঝরছে কুয়াশা। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে চরাঞ্চলের শিশু-বৃদ্ধ ও গবাদি পশু । রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল হিম বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি। গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে করে ভোগান্তিতে পড়েছে খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে কষ্ট বেড়েছে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) কথা হয় কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের দিনমজুর আকবর (৬০), খলিল (৫০), জয়নালের (৩৮) সঙ্গে। তাদের মতে, শীতের কারণে সকালে কাজে যাইতে দেরি হয়। ঠান্ডায় হাত-পা চলতে চায় না, তবুও কাজ না করে উপায় নাই।
নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভিতরকুটি গ্রামের রাস্তার ধারে সরকারি জায়গায় বসবাসকারী ষাটোর্ধ্ব আজগর হাছন বেওয়া (৫৫)। তিনি বলেন, ‘এই শীতে রাইতে দুই খ্যান করে খ্যাতা গাঁত দিয়ে শুতি তাতো ঠান্ডা যায় না । এলাও কাইয়ো কম্বল দিলো না।’
একই এলাকার রহিম আলী বলেন, ‘ঠান্ডায় কাজ না করলে পেঁটে ভাত যায় না। কাজে গেলে হাত-পা জ্বালাপোঁড়া করে, ঠিকমতো কাজ করতে পারি না।’
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত ঠান্ডায় আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডাইরিয়া শুরু হয়েছে। চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছি।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে।’
কিছু রোগী হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আবার কিছু কিছু রোগী হাসপাতালের ভর্তি হচ্ছেন।
কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকতা আব্দুল মতিন জানান, ৯ টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে ও নগদ ৪০ লক্ষ টাকা মজুদ আছে।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, আজ সকাল ৬টায় জেলায় সবনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
সময়ের আলো/এনএ