শীত এলেই যেন ব্যস্ততা বাড়ে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা জুয়েল দেওয়ানের। শীতকালীন মাত্র তিন মাস মশলাদার সিদ্ধ ডিম বিক্রি করেই তিনি দেখছেন সফলতার মুখ। অভিনব স্বাদের এই ডিমের নাম দিয়েছেন তিনি— ‘ডিম পিনিক’।
একসময় মালয়েশিয়া প্রবাসী ছিলেন জুয়েল দেওয়ান। প্রবাসজীবনে ব্যর্থ হয়ে দেশে ফিরে এসে জীবনের দিশা খুঁজে পাচ্ছিলেন না এ যুবক। ওই সময়ে এক বন্ধুর পরামর্শে শীত মৌসুমে হাঁস ও মুরগির সিদ্ধ ডিম বিক্রি শুরু করেন জুয়েল। এতেই বদলে যায় ভাগ্যের চাকা। গ্রীষ্মকালে আখের রস বিক্রি করলেও শীতের তিন মাস তার মূল ভরসা হয়ে ওঠে এই ডিম ব্যবসা। প্রতিদিন বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিক্রি করেন সিদ্ধ ডিম।
জানা গেছে, নতুন কিছু করার চিন্তা থেকেই জুয়েল দেওয়ান নিজ হাতে ঘরে বসে টমেটো, শসা, মরিচ, পেঁয়াজ, তেঁতুল, সস ও কাসুন্দি ব্যবহার করে তৈরি করেন একটি বিশেষ ‘সিক্রেট মশলা’। সেই মশলার সংমিশ্রণে সিদ্ধ ডিমে যোগ হয় ভিন্নমাত্রার স্বাদ। আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় ‘ডিম পিনিক’। অল্প সময়ের মধ্যেই এই ডিমের স্বাদের সুনাম ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।
বর্তমানে একটি হাঁসের ডিম পিনিক ২৫ টাকা এবং মুরগির ডিম পিনিক ২০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০টি ডিম বিক্রি হয় বলে জানান জুয়েল দেওয়ান।
তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতি আগ্রহ ছিল। নতুন কিছু করার ভাবনা থেকেই এই সিক্রেট মশলা তৈরি করি। কাউকে অনুসরণ করে নয়, নিজের চিন্তা থেকেই শুরু করেছি। আল্লাহর রহমতে ও আপনাদের দোয়ায় এখন পরিবার নিয়ে ভালো আছি।
ডিম পিনিক খেতে আসা ভোজনরসিক হাসানাত আকাশ বলেন, এক ভাইয়ের কাছ থেকে ডিম পিনিকের নাম শুনে কৌতূহল থেকে আজ এখানে এসেছি। খেয়ে দেখলাম, সত্যিই দারুণ স্বাদ। নামের সঙ্গে কাজের পুরো মিল আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন বলেন, তার তৈরি বিশেষ মশলার কারণে ডিমের স্বাদ আলাদা। জায়গাটাও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, তাই বন্ধুদের নিয়ে মাঝেমধ্যেই এখানে খেতে আসি।
প্রসঙ্গত, শীতের মৌসুমি এই উদ্যোগ শুধু জুয়েল দেওয়ানের জীবনেই পরিবর্তন আনেনি, বরং স্থানীয় তরুণদের জন্যও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার গল্প।
এফআর