বজ্রপাতে প্রাণ গেল মা-ছেলের, কর্মস্থলে ফেরা হলো না যুবকের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশ

ঢাকার গার্মেন্টসে কাজ করা ছেলে ঈদের ছুটিতে এসেছিলেন মায়ের কাছে। সেই মা-ছেলে বজ্রপাতের কবলে পড়ে একসঙ্গে প্রাণ হারালেন। মর্মান্তিক এ

2026-06-04T05:56:41+00:00
2026-06-04T06:25:53+00:00
 
  শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬,
৮ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
বজ্রপাতে প্রাণ গেল মা-ছেলের, কর্মস্থলে ফেরা হলো না যুবকের
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ৫:৫৬ এএম  আপডেট: ০৪.০৬.২০২৬ ৬:২৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার গার্মেন্টসে কাজ করা ছেলে ঈদের ছুটিতে এসেছিলেন মায়ের কাছে। সেই মা-ছেলে বজ্রপাতের কবলে পড়ে একসঙ্গে প্রাণ হারালেন। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী ইউনিয়নের মান্দুরা গ্রামের দাসপাড়ায়।

বুধবার (৩ জুন) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আকাশে ঘন-কালো মেঘ জমে, বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দেয়। বৃষ্টির আশঙ্কায় বাড়ির পাশের জমিতে শুকাতে দেওয়া গাছের পাতা ঘরে তুলে আনতে বের হন সোহাগ চন্দ্র দাস (৩০)। একটু পরেই ছেলেকে সাহায্য করতে সেখানে যান তার মা কল্পনা রানী (৫৫)। ঠিক সেই মুহূর্তেই আকাশ থেকে আছড়ে পড়ে প্রচণ্ড বজ্রপাত। মাঠের মধ্যেই মুহূর্তে লুটিয়ে পড়েন মা ও ছেলে।

চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। অচেতন অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু পথেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন মা কল্পনা রানী ও ছেলে সোহাগ।

নিহত সোহাগ চন্দ্র দাস স্থানীয় মান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা সনীল চন্দ্র দাসের একমাত্র ছেলে। তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন। ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বাড়ি ফেরাই হলো শেষ ফেরা— মায়ের সঙ্গে একই মৃত্যুতে পরিণত হলো তার ছুটির আনন্দ।

সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসন যোগাযোগ রাখছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।

তিনি এলাকাবাসীকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সতর্ক থাকার এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি এড়াতে খোলা জায়গা পরিহার করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানান।


বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বজ্রপাতে প্রাণহানির এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, দুর্যোগকালীন সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠ, গাছের নিচে বা উঁচু স্থানে থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। আকাশে মেঘ জমলে বা বৃষ্টির পূর্বাভাস পেলে দ্রুত পাকা ঘরে আশ্রয় নেওয়াই হলো সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

মা আর ছেলের অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়ায় ঢেকে গেছে মান্দুরা গ্রামের দাসপাড়া।

সময়ের আলো/আআ




  বিষয়:   বজ্রপাত  মৃত্যু  ছুটি  ঈদ  মা  ছেলে 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: