লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ফেসবুকে রাজনৈতিক পক্ষাবলম্বন ও বাকবিতণ্ডার জেরে এক বিএনপি নেতা এবং তার ওমান প্রবাসী ছেলেকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত-শিবির কর্মীদের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার চর কাদিরা ইউনিয়নের চর পাগলা গ্রামে একটি চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতরা হলেন, চর কাদিরা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ড তাঁতি দলের সভাপতি মোহাম্মদ সালেহ আহমেদ (৬৫) এবং তার ছেলে ওমান প্রবাসী তানজিরুল ইসলাম সৈকত (৩৯)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি স্থানীয় জামায়াত-শিবির কর্মী জাহিদ ও শরিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তিমূলক স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসের নিচে ওমান প্রবাসী তানজিরুল ইসলাম সৈকত বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিয়ে পাল্টা মন্তব্য (কমেন্ট) করেন। এই অনলাইন বাকবিতণ্ডার জের ধরে গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার বেলা ১১টার দিকে সৈকত ও তার বাবা সালেহ আহমেদ চর পাগলা গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা জাহিদ (২৬), শরিফ (২২), সুমন (২৫) ও জাফর আহমেদসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবা-ছেলের মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপায় এবং লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তাদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
হামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জাহিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুর আলম জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি এখনো বিস্তারিত অবগত নই এবং থানায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই