বরগুনার আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রাওঘা গ্রামে বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে জহিরুল মৃধা, মাহতাব গাজী ও সোনিয়া বেগমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের জহিরুল মৃধার সঙ্গে তার চাচা খলিল মৃধার ৩৩ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে গত ৩১ মে জহিরুল মৃধা আমতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগও করেন।
বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সকালে স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় তা ভেঙে যায়। পরে জহিরুল মৃধা ও খলিল মৃধার মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে জহিরুল মৃধা, মাহতাব গাজী, শাহ আলম শরীফ, সোনিয়া বেগম, রাকিব, ঝন্টু, আরিফ ও বেল্লালসহ মোট ১১ জন আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ৩ জনকে বরিশালে হাসপাতালে পাঠান। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
জহিরুল মৃধা অভিযোগ করেন, সালিশ বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে খলিল মৃধা ও তার লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে তার পক্ষের কয়েকজন গুরুতর আহত হন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য সোনিয়া নামের এক নারীকে আহত করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তবে খলিল মৃধা বলেন, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে আমার পক্ষেরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. লুনা বিনতে হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু শাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই