দেশের অন্যতম আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁ। গাছে গাছে এখন আমের সমারোহ, বাজারে আসার অপেক্ষায় জনপ্রিয় আম্রপালি। তবে ভালো ফলনের আশার মধ্যেও দুশ্চিন্তায় চাষিরা। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, বাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব এবং প্রক্রিয়াজাত শিল্পের অভাবে প্রতি বছর ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে বিপুল পরিমাণ আম।
এ বিষয়ে আম চাষিরা বলছেন, প্রতি বছর উৎপাদন খরচ ও শ্রমিকের মজুরি বাড়লেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত দাম। এ ছাড়া ফলন বেশি হলে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে বাজারে আমের দাম কমিয়ে দেন। ফলে ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হয়। ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা। অন্যদিকে বড় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান না থাকায় মৌসুমে নষ্ট হচ্ছে ৩০০-৪০০ কোটি টাকার আম।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, জেলায় চলতি মৌসুমে ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। যা থেকে আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন। গেল বছর জেলায় ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল এবং যা থেকে উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিকটন আম।
সাপাহার উপজেলার কুচকুড়িলিয়া গ্রামের আমচাষি রেদওয়ানুর রহমান মুন বলেন, আম্রপালি আম পাকা শুরু হলে ২৫-৩০ দিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। কৃষক চাইলেও তখন আর কোনোভাবে আম গাছে রাখতে পারে না। বাজারে আমের আমদানি বেশি হলে ব্যবসায়িরা সিন্ডিকেট করে আমের দাম কমিয়ে দেন। তখন কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করতে হয়। এতে করে আমরা সাধারণ কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়ি। বড় কোনো হিমাগার অথবা আমকেন্দ্রিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে কৃষকরা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
পোরশা উপজেলার আমইড় গামের আমচাষি মতিউর রহমান বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর আবহাওয়া শুরু থেকেই আম চাষের অনুকূলে নয়। যার কারণে প্রায় সব বাগানেই আমের পরিমাণ কম। গত বছর মানভেদে আম্রপালি মণপ্রতি ১৫০০-৪০০০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছি। এ বছর ৩ হাজার টাকার কমে আম বিক্রি হলে উৎপাদন খরচ ওঠানো সম্ভব হবে না। আমকেন্দ্রিক শিল্প প্রতিষ্ঠান বা ম্যাংগো প্রসেসিং জোন থাকলে কৃষকরা আমের ন্যায্যমূল্য পাবে।
সাপাহার উপজেলা আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় আমের হাট সাপাহার। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার ব্যবসায়ী প্রতি বছর এখানে আম কেনাবেচা করতে আসেন। এ বাজারে মৌসুমে ৬ হাজার থেকে সাত হাজার কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়। আমাদের যা আম উৎপাদন হয় তার ২০ শতাংশ আম নষ্ট হয়ে যায়। যার বাজারমূল্য ৩০০-৪০০ কোটি টাকা। বড় কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান তৈরি হলে কৃষকদের পাশাপাশি ব্যবাসয়ীরাও লাভবান হবেন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এখানে আমকেন্দ্রিক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা প্রয়োজন।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে ভারী শিল্প স্থাপনের বিষয়ে বিভিন্ন সমন্বয় মিটিংয়ে প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। কৃষি বিভাগের একটি প্রজেক্ট রয়েছে রফতানি যোগ্য আম উৎপাদন। আমরা সেখানে সাপাহার অঞ্চলে কুলিং হাউস এবং প্যাকিং হাউস নির্মাণের বিষয়ে সুপারিশ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো তৈরি হলে কৃষকরা লাভবান হবেন।
সময়রে আলো/আআ