কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় দগ্ধ হয়ে চারজনের মৃত্যুর আগে দুর্ঘটনাকবলিত বাসের যাত্রীদের সঙ্গে বাসের চালক ও সুপারভাইজারের ঝগড়া হয়। কারণ, চালক বাসটি খুব কম গতিতে চালাচ্ছিলেন। আর সুপারভাইজার যেখানে সেখানে থামিয়ে রাস্তা থেকে লোক তুলছিলেন। ঝগড়ার মধ্যে হঠাৎ করেই চালক গতি বাড়িয়ে দেন। তখন তিনি বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে আর দুর্ঘটনা ঘটে। কাঁদতে কাঁদতে কথাগুলো বলেন বাসটির যাত্রী সুমন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বানিয়াপাড়া এলাকায় বাস, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষের ঘটনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এতে ঘটনাস্থলে দুই শিশুসহ চারজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহত ব্যক্তিদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে তাদের মধ্যে ১২ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, নিহতের মধ্যে দুজন বাসের যাত্রী, দুজন মোটরসাইকেলের যাত্রী।
তাদের মধ্যে দুজন, মোটরসাইকেল আরোহী দাউদকান্দির জিংলাতলী এলাকার শামীম আহমেদ (৪০) এবং ছয় বছর বয়সি ছেলে নাদিভ আহমেদ। নিহতদের পরিবার জানিয়েছে, বাবা-ছেলে দুপুরে বানিয়াপাড়া দরবার শরিফে জুম্মার নামাজ পড়তে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন।
অন্য নিহত শিশুর নাম হুসাইন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ১৮ মাস বয়সি এই শিশুর বাবা সুমনও ওই বাসের যাত্রী ছিলেন। তারা নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থেকে ফেনীতে যাচ্ছিলেন।
শিশুটির বাবা সুমন বলেন, আমি আমার ছেলেটাকে হারিয়ে ফেলেছি। সব দোষ ওই বাস চালকের।
তবে ঘটনায় নিহত আরেক নারী বাস যাত্রীর পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
দাউদকান্দি উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের পরিদর্শক এরশাদ হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলের জ্বালানির ট্যাংক রাস্তায় ঘর্ষণের ফলে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে মোটরসাইকেলের অকটেন ছড়িয়ে পড়লে আগুনও বেড়ে যায়। হয়ত ধোঁয়ার কারণে যাত্রীরা বাস থেকে বের হতে পারেনি।
তিনি আরও জানান, তবে দুর্ঘটনার মূল কারণ জানতে আমরা তদন্ত করছি।
দাউদকান্দি হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইকবাল বাহার জানান, বাসটিকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার ডাম্পিং স্টেশনে রাখা হয়েছে। চালক পালিয়ে গেছেন।
এফআর